সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এই পেশায় সফল হতে হলে চ্যালেঞ্জকে জয় করতে হবে। শুধু কি ঘটেছে তা পাঠককে জানানোতে শেষ নয়, ঘটনার অন্তরালে কী আছে তা বের করে আনাই সাংবাদিকের আসল কাজ।
গতকাল বুধবার বিকালে মেহেরপুর ছহিউদ্দীন ডিগ্রি কলেজ হলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। মেহেরপুর ছহিউদ্দীন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, প্রবীণ সাংবাদিক মহসিন আলী আঙ্গুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মেহেরপুরের প্রবীণ সাংবাদিক আলমগীর গনি। আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন, মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক তোজাম্মেল আযম।
মেহেরপুরের সিনিয়র কলেজ শিক্ষক শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মেহেরপুর প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক ও বাংলানিউজের জেলা প্রতিনিধি জুলফিকার আলী কানন, বাসসের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি দিলরুবা ইয়াসমিন, মুজিবনগর ডটকমের উপদেষ্টা আসফারুল হক সুমন, দৈনিক ভোরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি মর্তূজা ফারুক রুপক, দৈনিক নয়াদিগন্তের গাংনী উপজেলা প্রতিনিধি রাশিদুল ইসলাম বোরহান, প্রবীন সাংবাদিক সাদ আহমেদ, জালাল উদ্দীন, তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, হাফেজ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সজীব আহমেদ, আল ইমরান, খাইরুল বাশার তামিম রেজা, সোহাগ রানা, তুহিন আলীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, আনলাইন মিডিয়াতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলমগীর গনি বলেন, মফস্বলের সাংবাদিকদের প্রাচীন এবং প্রানের সংগঠণ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা। বাংলাদেশের মফস্বলের সাংবাদিকদের প্রিয় সংগঠক ছিলেন মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন। মফস্বলের সাংবাদিকদের অধিকার আদায় ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বহু ঘাত প্রতিঘাত পড়ি দিয়ে সাংবাদিক সংস্থাকে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বাক স্বাধীনতা হরণ করে রেখেছিল স্বৈরাচার সরকার। বাংলাদেশের তরুণ যুবক ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হয়েছে। আর কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে এইদেশে আর না আসতে পারে সেজন্য নবীন সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে।
প্রধান বক্তা মেহেরপুরের প্রবীণ সাংবাদিক তুজাম্মেল আযম বলেন, হার্ট খুলে রেখে সাংবাদিকতায় নাম লেখাতে হবে। কারণ, সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার ক্ষমতা থাকতে হবে। সাংবাদিকতার সনাতনী আমলের প্রাসঙ্গীকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা যখন সাংবাদিকতা শুরু করি সে সময় একজন মানুষ রিপোর্টার হিসেবে গড়ে উঠা সহজ ছিল না। একটি সুন্দর ও তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করতে হলে রিপোর্টারকে অনেক খাটতে হতো।
সে সময়ের সাংবাদিকতা এবং সংগ্রামের বিভিন্ন চিত্র বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। এসময় দেশে বিভিন্ন সময়ের প্রতিথযশা প্রয়াত সাংবাদিকদের মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। পরে কেক কেটে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।