মেহেরপুর—চুয়াডাঙ্গা সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাইভেট কার চালক সাজ্জাদ হোসেন পলাশকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান সোহাগের চাচা সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯৮/১০৫ ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। যার মামলা নম্বর—০৭, তারিখ ০৪/০৪/২০২৫ ইং।
আসামী সাজ্জাদ হোসেন পলাশ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেট কারের মালিকও তিনি। তিনি মেহেরপুর পশুহাট সংলগ্ন ভুট্টা ক্রয় কেন্দ্রে বিপি কর্পোরেশনের মালিক।
নিহতরা হলেন, সদর উজলপুর গ্রামের হাসান মোল্লায় ছেলে এনআরবিসি ব্যাংকের রুপনগর শাখার অফিসার আক্তারুজ্জামান ওরফে শোভন, তার অপর বন্ধু মেহেরপুর সদর উপজেলার বাড়িবাঁকা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে আল ইমরান, গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ভ্যানচালক আলী হাসানের ছেলে শিশু জুবায়ের হাসান।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট কার চালক পলাশ হোসেন বেপরোয়া গতিতে আমঝুপি থেকে মেহেরপুরের দিকে আসছিলেন। এসময় ভ্যানচালক আলী হাসান তার পরিবারের লোকজন নিয়ে ভ্যানযোগে আমঝুপির দিকে যাচ্ছিলেন। প্রাইভেট চালক প্রথমে পাখিভ্যানের সাথে সজোরে ধাক্কা মারলে ভ্যানের সকল যাত্রী রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে প্রাইভেট কারটি মোটরাসাইকেলকেও ধাক্কা দেই। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আক্তারুজ্জামান শোভন ও তার বন্ধু আল ইমরান রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে মারাত্বক আহত হন।
খবর পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তাদেরকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে ব্যাংক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান মারা যান। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় আল ইমরানকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও জুবাইয়ের হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। রাজশাহীতে নেওয়ার পথে সন্ধ্যার দিকে পাবনার মধ্যে শিশু জুবায়ের হোসেন মারা যান। আল ইমরান রাত ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় আহত ভ্যানচালক আলী হাসান বর্তমানে মেহেরপুর ২৫০ শয্যার বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, প্রাইভেট চালক পলাশ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে সেখানে দেখা যায়, যে তিনজন নিহত হয়েছে তারা সবাই তাদের সঠিক সাইডে ছিল এবং আসামী তার গাড়ী হইতে বাহির হয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মামলার বাদীর অভিযোগ করে এজাহারে লিখেছেন আসামী পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করেছে। তাই আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।