মিরপুরে দিশা’র উদ্যোগে তামাকের বিকল্প ফসলের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ার মিরপুরে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নিয়ে দিশা’র মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের তাঁতীবন্দ এলাকায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাসেবী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণ সংস্থা ‘দিশা’র সমম্বিত কৃষি ইউনিটভুক্ত উদ্যোগে মিরপুরে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ফসল উৎপাদন ও বহুমুখী আয়ের উৎস সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‘দিশা স্বেচ্ছাসেবী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণ সংস্থা’র কারিগরী কর্মকর্তা কৃষিবীদ জিল্লুর রহমান, দিশা কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক, শীতল হোসাইন, সহকারী প্রাণিসম্পদ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সাবেক মেম্বার আশাদুল ইসলাম ভুট্টোসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও কৃষি/কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দিশা’র উদ্যোগে কয়েক বছর ধরে মিরপুর উপজেলায় বেশকিছু এলাকায় তামাকের পরির্বতে সরিষা, শস্য ও তৈলবীজ জাতীয় ফসল ও তরমুজসহ বিভিন্ন ফল বাগানে ও সবজি উৎপাদনে চাষবাদ করেছেন কৃষকেরা। আমার আশা একদিন তামাক চাষিরা তামাক চাষ ছেড়ে ফসল উৎপাদনে চলে আসবে। মাঠ দিবসে স্থানীয় কয়েক শত কৃষক কৃষাণী অংশগ্রহন করেন ।




দামুড়হুদা কার্পাসডাঙ্গায় আইএফআইসি ব্যাংকের উদ্বোধন

দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে তেল পাম্পের সামনে আইএফআইসি ব্যাংকের উদ্বোধন করা হয়েছে সোমবার সকাল ১০ টার দিকে।

সব ব্যাংকিং সেবা নিয়ে আই এফ আইসি ব্যাংক এখন আপনার দোরগোড়ায় এ শিরোনাম সামনে রেখে আইএফআইসি ব্যাংকের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কার্পাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আঃকরিম বিশ্বাস।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কার্পাসডাঙ্গা জনতা ব্যাংক শাখার ম্যানেজার মোজাফ্ফর হোসেন,কার্পাসডাঙ্গা বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর রাসেল,সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন আক্তার, আইএফ আইসি ব্যাংকের দর্শনা শাখার ম্যানেজার সোহরাব হোসেন ,অফিসার এস এম সাব্বির আহমেদ,কার্পাসডাঙ্গা ব্যাংক ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম,অফিসার রাকিব আহমেদ,সাংবাদিক আতিয়ার রহমান,মেহেদী হাসান মিলন,শরীফ রতন,সাজিবার মেম্বর,দেলোয়ারা খাতুন, আনেহার সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




শুরু হচ্ছে সিসিমপুরের নতুন মৌসুম সিজন-১৫

শুরু হচ্ছে শিশুদের প্রিয় অনুষ্ঠান সিসিমপুরের নতুন মৌসুম, সিজন-১৫। নতুন এই মৌসুমে হালুম, টুকটুকি, ইকরি ও শিকু হাজির হবে নতুন নতুন সব গল্প নিয়ে আর সঙ্গে থাকবে তাদের নতুন বন্ধু জুলিয়া। তার মধ্যে আছে অটিজম বিষয়ক বৈশিষ্ট্য। সিসিমপুরে বাংলাদেশের অটিজমসম্পন্ন শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করবে জুলিয়া।

ইউএসএআইডি/বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত নতুন এই সিজনের শ্লোগান- ছন্দে ছন্দে পনেরো এলো- সবাই মিলে এগোই চলো। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সিজন-১৫ এর আনকোরা পর্বগুলো দেখা যাবে দুরন্ত টেলিভিশনের পর্দায়।

সবাইকে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া- এই বিষয় দুটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে সিসিমপুরের ১৫তম মৌসুম। এছাড়া মজার মজার গল্পের মাধ্যমে প্রাক-গণিত, প্রাক-পঠন, অটিজম, পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব, বিশ্লেষণী চিন্তা-ভাবনা, জেন্ডার বিষয়ক প্রচলিত সংস্কারকে জয় করা এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাবপ্রকাশের উপায়কে সম্মান দেখানোর মতো বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হবে। থাকবে গণিত, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বিজ্ঞান নিয়ে দারুণ সব এনিমেশন। আর শিশুদের নিয়ে লাইভ এ্যাকশন ফিল্ম। এছাড়া ‘ইকরির সাথে বর্ণ চেনা’ এবং ‘টুকটুকির সাথে সংখ্যা চেনা’র প্রতিটি পর্বে ইকরি একটি করে বর্ণ এবং টুকটুকি একটি করে সংখ্যা চেনাবে।

১৫তম সিজনের পর্বগুলো বর্ণনামূলক, ‘শিকুর বিজ্ঞানের জগৎ’ এবং ‘ইকরির সাথে খেলার সময়’ এই তিন ধরনের ফরমেটে তৈরি। এবারের পর্বগুলোতে সিসিমপুরের বন্ধু হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকুর সাথে নতুন বন্ধু জুলিয়া ছাড়াও অংশ নিয়েছে আমিরা এবং শিকুর সহকারি বানর। এছাড়া থাকছে প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক এবং আদিবাসী শিশুরাও। আর সিসিমপুরের নিয়মিত অন্যান্য চরিত্ররা তো থাকছেই। এই সিজনের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কিছু পর্বে ব্যবহার করা হয়েছে ইশারা ভাষা।

৩০ জানুয়ারি (সোমবার) সিসিমপুরের সিজন-১৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত ও অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি ইউএসএআইডি’র মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন ডেভিস স্টিভেন্স। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নতুন সিজনের উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. উত্তম কুমার দাশ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের সিইওও ডা. সাকী খন্দকার। আরও ছিলেন এশিয়াটিকের কো-চেয়ারম্যান সারা যাকের, বিটিভি’র পরিচালক জগদীশ এষ, মাছরাঙা টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক অজয় কুমার কুণ্ডু এবং ‘ইউএসএআইডি সিসিমপুর’ প্রজেক্টের চিফ অফ পার্টি মোহাম্মদ শাহ আলম-সহ অনেক গুণিজন। সঙ্গে ছিল সিসিমপুরের বন্ধু বাহাদুর, ইকরি, শিকু, টুকটুকি, হালুম ও নতুন বন্ধু জুলিয়া।

ইউএসএআইডি’র আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত ‘সিসিমপুর’ ২০০৫ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিশু বিকাশ কার্যক্রমের আওতায় ‘সর্বত্র শিশুরা হয়ে উঠুক আরও সম্পন্ন, আরও সবল এবং আরও সদয়’ এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সিসিমপুর অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারে সহায়তা করছে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে ‘প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’।

সূত্র: ইত্তেফাক




এসিল্যান্ড দবির উদ্দিন বদলে দিলেন কুষ্টিয়া ভূমি অফিসের সেবার চিত্র

হয়রানি অথবা সময় বাঁচানোর কথা বলে প্রায়ই তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বিভিন্ন দালালের কাছে নিজের জমির বিষয়াদি গছিয়ে দিই। ফলশ্রুতিতে নিজের জমির কোনো ত্রুটি থাকলে সেটা জানা সম্ভব হয়না এবং জমি বিষয়ে সবসময়ই অজানা থেকে যায়। অজ্ঞতার এ দুষ্টুচক্র থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই নিজের জমির বিষয়ে যথাসম্ভব নিজে কার্যক্রম সম্পাদনের চেষ্টা করতে সকল ভুমি মালিককে অনুরোধ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) দবির উদ্দিন।

তিনি জানান, দালালেরা সবসময় অপপ্রচার করে যে টাকা ছাড়া কাজ হয় না ফাইল আটকে থাকে। এই অপপ্রচার না করলে তাদের অবৈধ আয় বন্ধ হয়ে যাবে। যেকোনো অপপ্রচার সম্পর্কে সচেতন হতে এবং হয়রানি বন্ধে যেকোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি তিনি এসিল্যান্ডকে জানাতে তার মোবাইলে ০১৭৩০৪৭৩৬৩২) নাম্বারে যোগাযোগ করতেও অনুরোধ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টসুত্রে জানা যায়, ভূমি একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন। মানুষ তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে একখন্ড ভূমি কিনে সেই ভূমির প্রশাসনিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যদি যোগ্য হাতে না পড়ে তবেই বাড়ে জনভোগান্তি। ভূমি অফিসগুলোর দীর্ঘ দিনের জীর্ণতা আর দৈন্যতাকে পিছনে ঝেরে ফেলে নতুন উদ্যোমে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও অফিস সিষ্টেম সংস্কারের ব্রত নিয়েই কাজ করে চলেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) দবির উদ্দিন। ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন এই কর্মকর্তার কাছে সেবা প্রত্যাশীরা অনেক বেশি খুশী।

আমাদের দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জনগণের অভাব-অভিযোগই কেবল শোনা যায় নিত্য। তবে তাদের মাঝে ব্যতিক্রমও পাওয়া যায়। যারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জনগণের আস্থা ও প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন। হয়রানি থেকে মুক্তি দেন মানুষকে। নিজের সরকারি দপ্তরকে করে তোলেছেন জনবান্ধব।

যেখানে ভূমি অফিস মানেই ভোগান্তি, টাকার ছড়াছড়ি। সাধারণ মানুষের হয়রানি আর অসহায়তার জায়গা। সেখানে একটি স্বচ্ছ, ঘুষবিহীন ও জবাবদিহিতামূলক সেবাকার্যক্রম পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন দবির উদ্দিন। তার নেতৃত্বে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সব নৈরাজ্য দূর হয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে আস্থার পরিবেশ।

বর্তমান এসিল্যান্ড যোগদানের পর থেকে তার ইতিবাচক মনোভাবের কারণে উপজেলা ভূমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রয়েছে অভিযোগ বক্স ও নিয়মিত তদারকি ব্যাবস্থা এবং সরাসরি অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সমস্যা সমাধানকরন কার্যক্রম। তাছাড়া এসিল্যান্ড অফিসে অফিসের সুন্দরয্য বধার্য়ন, সিটিজেন চার্টার ও জনসচেতনামূলক বিভিন্ন লিফলেটসহ নানা কার্যক্রম দেখা গেছে। ভুমি সেবায় খুলনা বিভাগের মধ্যে সেরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র হিসেবে পুরষ্কার লাভ করেন।

জানা যায়, এই এসিল্যান্ড দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বেদখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে। মিসকসে (নামজারি জমাভাগ খারিজ সংক্রান্ত) মামলা শুনানির মাধ্যমে খুব কম সময়ে নিষ্পত্তি করেন। সরকারি খাস জমি, খাস পুকুর রক্ষায়,বাল্যবিবাহ বন্ধ করনে সবসময় তৎপর রয়েছেন। তিনি যোগদানের পর থেকে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করে গতিশীল করেছেন।

এছাড়া এই কর্মকর্তা জমিসংক্রান্ত সব ধরনের সেবাগ্রহিতার অধিকার নিশ্চিত করে সবার কাছে ভূমি অফিসকে সহজ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনসহ ভেজালবিরোধী অভিযান গতিশীল করেছেন। জনগণের সেবা প্রাপ্তির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন। অফিসের নথি ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিসহ জনগণের সেবা প্রাপ্তির বিষয়টিকে বেশি সমৃদ্ধ করেছেন।

অফিস টাইম সকাল ৯টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আগত ভূমি মালিকদের সমস্যা আন্তরিকতার সাথে শুনে তাৎক্ষনিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ও গণশুনানী নিয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিকারের চেষ্টা করেন। এমন অসংখ্য ভালো কাজ করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন এ ভূমি কর্মকর্তা।

এরই মধ্যে উপজেলার এই সহকারী কমিশনার (ভূমি) এখানে সবার কাছে প্রিয় কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিয় হয়ে উঠেছেন।

সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দবির উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কঠোর নজরদারি ও দিক নির্দেশনায় ভূমি অফিসের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সরকারি জমি রক্ষার ব্যাপারেও জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদেরকে দায়িত্বে সাথে ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়ে থাকেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সেবাগ্রহিতাগণ তাদের ভূমির নামজারির শুনানী ও নিষ্পত্তির তারিখ ও সর্বশেষ অবস্থা জানতে আমাদের এই অফিসে এসে ঘুরাঘুরি করতে হয় না। মোবাইল ফোনে ম্যাসেজে বা অনেক ক্ষেত্রে কল করেও জানিয়ে দেয়া হয়। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজগুলোও মনিটরিং করা হয়ে থাকে।

এরআগে তিনি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।




কুষ্টিয়ার বোরো হাইব্রিড ধানের সমলয় চাষাবাদের উদ্বোধন

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায় বোরো হাইব্রিড ধানের সমলয় চাষাবাদের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগর মাঠে রবি মৌসুমে ব্লক প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ-এর যান্ত্রিকী বোরো ধানের চারা রোপন শুভ উদ্বোধন করা হয়।

২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমি দিন দিন কমছে এবং লোকসংখ্যা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে হাইব্রিড ধান চাষের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, হাইব্রিড ধান উৎপাদন পদ্ধতি উফশী ধানচাষ পদ্ধতির মতোই; তবে হাইব্রিড ধানচাষের ক্ষেত্রে বীজতলার জন্য বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল, সিমিট বাংলাদেশ (ফরিদপুর) ফিল্ড অফিস কো-অর্ডিনেটর কৃষিবিদ মোহাঃ জাকারিয়া হাসান।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তররের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান সহ প্রগতিশীল কৃষক মোঃ হাফিজুর রহমান (লিয়াকত) বক্তব্য রাখেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ বা চারা রোপণের যন্ত্র দিনে এক ঘণ্টায় ৩০জন কৃষকের সারা দিনের কাজ শেষ করা যাবে। এতে কৃষকের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে, কৃষি উৎপাদনও বেশি হবে।




মাদ্রিদকে আটকে দিলো সোসিয়েদাদ

রিয়াল সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরোর অসাধারণ দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত জয় বঞ্চিত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার (২৯ জানুয়ারি) মৌসুমের অন্যতম সেরা ম্যাচ উপহার দিয়েও হতাশ মাদ্রিদকে গোলশুন্য ড্র মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট হারানোর সুযোগে চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা পাঁচ পয়েন্টে ব্যবধানে শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে।

শনিবার (২৮ জানুয়ারি) জিরোনাকে বার্সেলোনা হারানোর পর পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর জন্য মাদ্রিদের জয়ের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রেমিরোর কাছে শেষ পর্যন্ত নত স্বীকার করতে হয়েছে গ্যালাকটিকোদের। এই ড্রয়ে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানেই থাকলো রিয়াল সোসিয়েদাদ। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের তিনটি দারুণ সুযোগ রুখে দিয়েছেন রেমিরো। শুরু থেকেই কার্লো আনচেলত্তির দল উজ্জীবিত পারফরমেন্স দেখাতে থাকে। কিন্তু কোনভাবেই গোল আদায় করতে পারছিলনা। ইতোমধ্যেই বার্সেলোনার কাছে স্প্যানিশ সুপার কাপে পরাজিত হয়েছে মাদ্রিদ। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের গোলে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে কোপা ডেল রে’র সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কাছে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘এবারের মৌসুমে অন্যতম সেরা ম্যাচ আমরা খেলেছি। এটা সত্যি যে বার্সেলোনা দারুণ ছন্দে আছে। কিন্তু মৌসুমটা অনেক দীর্ঘ। জানুয়ারি সময়টা বেশ জটিল। কিন্তু প্রতিটি বিভাগেই রিয়ালের দারুণ উন্নতি হয়েছে। রক্ষণভাগ, আক্রমণভাগসহ শারীরিক ভাবে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে চলেছে। খেলোয়াড়রা উন্নতি করতে শুরু করেছে। ইনজুরিতে থাকা খেলোয়াড়রা ফিরতে শুরু করেছে। সে কারণেই আগামী মাসগুলো নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে ফিরে আসার অতীত ইতিহাসে আমাদের রয়েছে।’

প্রথমার্ধে মাদ্রিদ বেশ কিছু ভাল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। ব্রাজিলিয়ান দুই উইঙ্গার ভিনিসিয়াস ও রদ্রিগো বারবার প্রতিপক্ষের সামনে হুমকি হয়ে উঠেছেন। ভিনির কার্লিং শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। রদ্রিগোর ব্যাক হিল থেকে করিম বেনজেমার শট সহজেই রুখে দনে রেমিরো। এডুয়ার্ডো কামাভিনগাকে নিজের অবস্থান থেকে সরিয়ে লেফট-ব্যাক পজিশনে কাল শুরু থেকেই খেলিয়েছেন আনচেলত্তি। রেনের সাবেক এই মিডফিল্ডার অবশ্য নিজেকে নতুন পজিশনে ভালই প্রমাণ করেছেন। বিরতির ঠিক আগে ভিনিসিয়াসের আরও একটি শট রুখে দিয়ে সোসিয়েদাদকে রক্ষা করেছেন রেমিরো।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের আরও একটি শট পা দিয়ে কোনমতে আটকে দেন রেমিরো। ফেডে ভালভার্দের শটও গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া প্রথমবারের মত পরীক্ষা দেন ৬০ মিনিটে। জাপানিজ মিডফিল্ডার টাকেফুসা কুবো ডানদিক থেকে শট নিলে কোর্তোয়ার কারণে তা সফল হয়নি। ভিনিসিয়াসের একটি লব আবারো দক্ষতার সাথে রক্ষা করেন রেমিরো। স্টপেজ টাইমে সময় নষ্ট করার কারণে রেমিরোকো হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক




মেহেরপুরে আইন পেশায় ৫০ বছর পূর্ণ করায় নুরুল ইসলামকে ক্রেষ্ট প্রদান

আইন পেশায় ৫০ বছর পূর্ণ করায় এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে গোল্ডেন জুবিলী ক্রেষ্ট প্রদান করে মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতি।
সোমবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে তাঁকে এ ক্রেষ্ট তুলে দেওয়া হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, এ্যাড. মিয়াজান আলী, এ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম.  এ্যাড. আনোয়ার হোসেন, রোকেয়া বেগম, এ্যাড. আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেলসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন

মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ‘Meherpur District Lawyer’s Association Building’ এর উদ্ভোধন করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহাম্মদ বিজন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম জিল্লুর রহমান। নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সিনিয়র সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ভবন নির্মাণ কমিটির সম্মানিত সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানসহ আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য বৃন্দ।




ফাইল জিপ ও আনজিপ করবেন যেভাবে

জিপ পদ্ধতি ব্যবহার করে বড় আকারের ফাইলগুলো কম জায়গায় রাখা যায়। ফলে যন্ত্রের মেমোরি কম খরচ হয়। আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হলেও বর্তমানে সব অপারেটিং সিস্টেমেই বিল্ট-ইন ভাবে ফাইল জিপ করার সুবিধা রয়েছে। জিপ করার পর ফাইলের নামের শেষে ডটজেডআইপি লেখা যুক্ত হয়। কম্পিউটার এবং ফোনের ফাইল জিপ ও আনজিপ করার পদ্ধতি দেখে নেওয়া যাক—

উইন্ডোজে জিপ ও আনজিপ করার নিয়ম
যে ফাইলগুলোকে জিপ করতে হবে, সেগুলো প্রথমে ফাইল এক্সপ্লোরারের মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে। চাইলে শিফট চেপে একসঙ্গে একাধিক ফাইল নির্বাচন করা যাবে। এবার নির্বাচন করা ফাইলগুলোর ওপর মাউসের কারসর রেখে ডান পাশে ক্লিক করে কম্প্রেস টু জিপ ফাইল অপশন নির্বাচন করলেই ফাইল জিপ হয়ে যাবে। আনজিপ করার জন্য ফাইল এক্সপ্লোরার থেকে কম্প্রেস ফাইলগুলোতে একসঙ্গে দুবার ক্লিক করতে হবে। এ ছাড়া কম্প্রেস ফোল্ডারে এক্সট্রাক্ট অল বাটনে ক্লিক করেও ফাইল আনজিপ করা যাবে।

অ্যান্ড্রয়েডে জিপ ও আনজিপ করার নিয়ম
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের চলা ফোনে ফাইল জিপ ও আনজিপ করতে জেড আর্কাইভার বা উইনজিপ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। একসঙ্গে একাধিক ফাইল জিপ করার জন্য মাই ফাইলস অপশনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর যে ফাইলগুলোকে জিপ করতে হবে সেগুলো নির্বাচন করে ডান পাশের নিচের অংশে থাকা তিনটি ডট অপশন ট্যাপ করতে হবে। এরপর কম্প্রেস অপশনে ক্লিক করে ফাইলের নাম দিলেই ফাইলটি কম্প্রেস হয়ে যাবে।

ফাইল আনজিপ করার জন্য যে ফাইলটি আনজিপ করতে হবে, সেটি নির্বাচন করে এক্সট্র্যাক্ট বাটনে ক্লিক করলেই একটি পপআপ মেন্যু দেখা যাবে। এখানে আনজিপ করা ফাইলের নাম বা তালিকা দেখা যাবে। এরপর কাঙ্ক্ষিত অপশন নির্বাচন করে ডান বা ওকে বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সূত্র: দ্য ভার্জ




মেহেরপুরের সালাম ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা

মেহেরপুরের দারুস সালাম ক্লিনিকের অপারেশন টেবিলে প্রসূতির মুত্যুর ঘটনায় মেহেরপুর প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত মামলা করেছেন আদালত।

আজ সোমবার মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-১ম আদালতের বিচারক এস এম শরিয়তউল্লাহ স্বপ্রণোদিত এ মামলা করেন। যার নম্বর মিসকেস ০২/২০২৩।

মামলায় মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল)কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মেহেরপুরের সিভিল সার্জনকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলার হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত মামলার নথিতে বলেছেন, সংবাদ দৃষ্টে দারুস সালাম ক্লিনিকে অপারেশনের সময় এক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে মর্মে দেখা যায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগে অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মৃত্যুর বিষয়টি স্বাভাবিক নয় মর্মে পরিবারের সন্দেহ করছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। অপারেশনের সময়ে এনেস্থেসিয়োলোজিস্ট হিসেবে যে ডাক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন না মর্মে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এটা সঠিক হয়ে থাকলে তা একটি গুরুতর আইনের লংঘন এবং ইচ্ছাকৃত অবহেলা যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনায় বিষয়ে এখনও কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি মর্মে আদালতের গোচরীভূত হয়েছে। এমতাবস্থায়, জনস্বার্থ ও ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনাটির বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান হওয়া সমীচীন বলে আদালত মনে করে। সার্বিক বিবেচনায় The Code of Criminal Procedure, ১৮৯৮ এর ধারা ১৯০ (১) (গ) অনুযায়ী বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত উপর্যুক্ত সংবাদটি বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মেহেরপুর সদর সার্কেল (স্বয়ং)-কে উল্লিখিত বিষয়ে অনুসন্ধান পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হলো। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে অন্যান্য বিষয়ের সাথে আরো কয়েকটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো; ক্লিনিকটির লাইসেন্স আছে কি-না?, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্লিনিকটি অনুমোদিত হয়ে থাকলে সেটা নবায়নকৃত কি-না?, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র/অনুমোদন আছে কি-না?, ক্লিনিকটিতে সার্বক্ষনিক ডাক্তার আছে কি-না?, অপারেশন পরিচালনাকারী ডাক্তারের সার্জারি ডিগ্রি ছিল কি-না?, অপারেশনের সময়ে এনেস্থেসিয়োলোজিস্ট হিসেবে কোন উপযুক্ত ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন কি-না?, প্রি-এনেস্থেসেয়িটিকক চেক-আপসহ অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুসরন করা হয়েছিলো কি-না?, সহায়ক নার্সদের উপযুক্ত ডিগ্রি ছিল কি-না?

এছাড়া The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, ১৯৮২, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন বিধানের ব্যত্যয় ঘটয়ে ক্লিনিকটি পরিচালিত হচ্ছে কি-না সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করবেন। অনুসন্ধানকালে তিনি সিভিল সার্জন অফিস থেকে গঠিত (যদি থাকে) তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। অপারেশনের সময়ে সংশ্লিষ্টদের কোন ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছিল কি-না, মানদন্ড অনুসরনের ক্ষেত্রে কোন ব্যত্যয় ছিল কি-না এবং মেডিকেল বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন হলে সিভিল সার্জনের অফিস থেকে সুনির্দিষ্ট মতামত গ্রহন করবেন।

আদালত পর্যবেক্ষনে আরো বলেন, প্রায়ই মেহেরপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলার এবং বিধি বহির্ভূতভাবে ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এর সাথে সাধারন মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত। একজন অসুস্থ মানুষ চিকিৎসক ও ক্লিনিকের উপর আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করে নিজের শরীরের উপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার প্রদান করেন। হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসকের অবহেলা একজন রোগীর সাথে প্রতারনা এবং বিশ্বাস ভঙ্গের শামিল যা দণ্ডবিধির ধারা ৪০৬ ও ৪২০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া উক্ত অবহেলা একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে যা দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪ক, ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অধিকন্তু The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, ১৯৮২, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী নির্ধারিত মানদন্ড অনুসরন না করলে সেটাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমতাবস্থায় সিভিল সার্জন, মেহেরপুরকে মেহেরপুর সদর থানাধীন সকল বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক/ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা আগামি ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলো। এগুলোর মধ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠান The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, ১৯৮২, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এবং আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সে বিষয়টি তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জানুয়ারি মেহেরপুর প্রতিদিনে অপারেশ টেবিলে প্রসূতির মৃত্যু শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। মেহেরপুর প্রতিদিনের প্রতিবেদকের কাছে সালাম ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুস সালাম নিজে অপারেশন করার কথা স্বীকার করেন এবং তাকে ডা. শাহেদ এনেসথেসিস্ট হিসেবে সহযোগীতা করে বলেও জানান। কিন্তু ডা. শাহেদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি ওই দিন ফোন রিসিভ করেন। পরদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ডা. শাহেদ এনেসথেসিয়া করেননি বলে মেহেরপুর প্রতিদিনের কাছে জানান, তবে তাকে লিখিত দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি লিখিত দেননি।