উইন্ডোজ ১০-এর আপডেট শেষ আজ, সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ব্যবহারকারীরা 

উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য আর কোনো সফটওয়্যার হালনাগাদ, নিরাপত্তা সংশোধনী বা কারিগরি সহায়তা দেবে না মাইক্রোসফট। ফলে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটারগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের দ্রুত উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীরা চাইলে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটারে বিনা মূল্যে উইন্ডোজ ১১ ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সব পুরোনো মডেলের কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১১ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। সফটওয়্যার হালনাগাদ, নিরাপত্তা সংশোধনী বা কারিগরি সহায়তা বন্ধ হলেও উইন্ডোজ ১০ কম্পিউটার ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

ইউরোপে বসবাসকারী উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা চাইলে এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট সুবিধা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তা পেলেও নতুন সুবিধা বা প্রযুক্তিগত কোনো সহায়তা পাবেন না। ইউরোপের বাইরে অন্য অঞ্চলের ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের এ সুবিধা পেতে হলে কম্পিউটারে সর্বশেষ সংস্করণের উইন্ডোজ ১০ থাকার পাশাপাশি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাকআপ সম্পন্ন থাকতে হবে।

অন্যথায় প্রতি কম্পিউটারের জন্য ৩০ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই খরচ প্রতি কম্পিউটারের জন্য ৬১ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অঞ্চলভেদে এ পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

মাইক্রোসফটের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১৪০ কোটি কম্পিউটারে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই চলে উইন্ডোজ ১০-এ। ব্রিটিশ ভোক্তা নির্দেশিকা সংস্থা উইচের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যে এখনো দুই কোটিরও বেশি মানুষ উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করছেন।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মাইক্রোসফটের সহায়তা বন্ধ হওয়ার পরও পুরোনো সংস্করণটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, অন্যদিকে প্রতি সাতজনের একজন জানিয়েছেন, তারা নতুন কম্পিউটার কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভোক্তা সংগঠনগুলো জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্তের ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রযুক্তি বর্জ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভোক্তা অধিকার সংস্থা পিআইআরজির জ্যেষ্ঠ পরিচালক নাথান প্রোক্টর বলেন, ‘উইন্ডোজ ১০–এর সহায়তা বন্ধ করা ভোক্তা ও পরিবেশ দুয়ের জন্যই একটি বিপর্যয়। আমাদের এমন প্রযুক্তি প্রয়োজন, যা টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি।’

সূত্র: ইত্তেফাক




হজযাত্রীদের জন্য যে ৪ টিকা বাধ্যতামূলক করল সৌদি আরব

২০২৬ সালের হজযাত্রী ও হজসংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য চিকিৎসা নির্দেশনা প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ বছর টিকা গ্রহণ ও শারীরিক যোগ্যতা যাচাই আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন নির্দেশনা বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস, মেনিনজাইটিস, পোলিও ও ইয়েলো ফিভার, এই চারটি টিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই টিকাগুলো না নিলে কোনো হাজি দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ টিকা অবশ্যই সৌদি অনুমোদিত প্রস্তুতকারকের হতে হবে। সর্বশেষ ডোজ ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নেওয়া থাকতে হবে এবং যাত্রার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে তা সম্পন্ন করতে হবে।

মেনিনজাইটিসের টিকা পাঁচ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে, তবে সৌদিতে প্রবেশের কমপক্ষে ১০ দিন আগে নিতে হবে।

পোলিও নজরদারিতে থাকা দেশগুলোর হাজিদের টিকা হজযাত্রার অন্তত চার সপ্তাহ আগে নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক টিকা সনদে তা উল্লেখ থাকতে হবে।

ইয়েলো ফিভারের টিকা সব দেশের হজযাত্রীদের ৯ মাস বয়সের ঊর্ধ্বে সব যাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তারা হজে অংশ নিতে পারবেন না। প্রধান অঙ্গ বিকল হওয়া রোগী, জটিল দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, মানসিক বা স্নায়বিক সমস্যা, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যানসারের চলমান চিকিৎসায় থাকা রোগীকে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হজের মতো শারীরিকভাবে পরিশ্রমসাপেক্ষ ইবাদতের সময় যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজ করতে ইচ্ছুকরা নির্ধারিত টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন না করলে তাদের সৌদি প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। প্রয়োজনে কোয়ারেন্টিনে রাখা বা অতিরিক্ত স্বাস্থ্য মূল্যায়নও করা হবে।

সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিগত কয়েক বছরের হজ আয়োজন এবং বৈশ্বিক মহামারির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। বৃহৎ জনসমাগমে সংক্রমণ ও চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সৌদি মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রত্যেক হাজি নিরাপদ, সুস্থ ও নির্বিঘ্নে হজ পালন করুন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন




মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে দুর্নীতি অবহেলার প্রতিবাদে জনতার মানববন্ধন

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে সীমাহীন চিকিৎসা অবহেলা, তত্ত্বাবধায়কের লাগামহীন দুর্নীতি এবং বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে যোগসাজশে টেস্ট বাণিজ্যের প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুরের সর্বস্তরের জনতা ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে রোগী ও স্বজনরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় চিকিৎসকরা দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকেন, আর উপস্থিত কিছু কর্মচারী রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও কিছু অসাধু কর্মচারী ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশে দালাল চক্র পরিচালনা করছেন। এই দালাল চক্র রোগীদের সরকারি টেস্ট না করিয়ে নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ক্রীড়া সংগঠক এ এস লিটন, আহত জুলাই যোদ্ধা খন্দকার মুইজ উদ্দিন, মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুস সালাম, কলেজ ছাত্র মারুফ ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিন্টু মোল্লা, জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, মল্লিকপাড়া যুব সংঘের সভাপতি মো. হাসনাত জামান সৈকত, এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য শাওন শেখ প্রমুখ।

বক্তারা অবিলম্বে হাসপাতালের অনিয়ম–দুর্নীতির তদন্ত, তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও হাসপাতালের সেবা মান উন্নয়নের দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ বলেন, “সরকারি হাসপাতাল আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এখানে দুর্নীতি আর দালালি চললে গরিব মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারটাই শেষ হয়ে যাবে।”

তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল সত্যিকারের রোগীবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।




হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ মিরাজদের

শারজায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করা বাংলাদেশ আবুধাবিতে ওয়ানডে সিরিজে দেখছে মুদ্রার উলটো পিঠ।

আজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সামনে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাজে ব্যাটিংয়ে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজ এরই মধ্যে হাতছাড়া।

আজ সম্মান রক্ষার লড়াই। ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, উইকেটের মূল্য বোঝা এবং কৌশলী ইনিংস গড়তে না পারলে ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম হোয়াইটওয়াশ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

দুদলের কেউই এর আগে একে অপরকে ওয়ানডে ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি। টানা তিনটি সিরিজ হারের পর বাংলাদেশের সামনে তাই আরেকটি লজ্জা এড়ানোর লড়াই। সিরিজ হারলেও শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে দেশে ফিরতে মরিয়া মেহেদী হাসান মিরাজরা। দেশে ফিরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য আজ জিতে রেটিং পয়েন্ট বাড়ানো। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে বাংলাদেশের সামনে ২৪টি ম্যাচ রয়েছে। আজ জিতলে এবং ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলে র‌্যাংকিংয়ে নয়ে উঠে আসবে দল। দলের মনোবল ফেরানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

প্রথম ম্যাচে ২২১ রান করে পাঁচ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে অলআউট হয় মাত্র ১০৯ রানে। আফগানদের করা ১৯০ রান ছিল আবুধাবির জায়েদ স্টেডিয়ামে গত ৫৫ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে সর্বনিম্ন সংগ্রহ। সেই রান তাড়া করতেই ব্যর্থ মিরাজরা। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাই সিরিজের সবচেয়ে বড় হতাশা। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়েছেন তানজিদ হাসান, সাইফ হাসানরা।

মিডলঅর্ডারে তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান, জাকের আলীরা একের পর এক বাজে শটে রশিদ খান ও খারোতের শিকারে পরিণত হন। দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বোলার দেখে নয়, বল দেখে খেলতে শিখতে হবে।’

এদিকে দলের প্রয়োজনে আফগানিস্তানের কেউ না কেউ এগিয়ে আসছেন। দৃঢ় মানসিকতারও পরিচয় দিচ্ছেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইব্রাহিম জাদরান একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সমস্যা নেই; কিন্তু দলকে টেনে তোলার জায়গায় এখনো পিছিয়ে তিনি। বাংলাদেশ শেষ ১২ ওয়ানডের ১০টিতেই হেরেছে। আবুধাবির উইকেট মন্থর, যেখানে মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলা কঠিন। গরম আবহাওয়া খেলোয়াড়দের ধৈর্য ও ফিটনেসের পরীক্ষা নিচ্ছে।

আজ ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তানজিদ হাসানের জায়গায় নাঈম শেখকে দেখা যেতে পারে। এছাড়া ফর্মহীন জাকের আলীর জায়গায় শামীম হোসেন একাদশে ফিরতে পারেন।




গাংনীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক

মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। উপজেলার গোপালনগর গ্রামের লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়কের পাশে সাবেক কাস্টম অফিসার আতাউল হকের পুকুর থেকে দিনে এবং রাতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে একটি ফসলি জমিতে জমা করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে ভারী ড্রাম ট্রাকে বালি বহন করে নিয়ে যাওয়ার ফলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় অপরাধীরা শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।স্থানীয় নুরুল ইসলামের সহোযোগিতায় গাড়াডোব গ্রামের প্রভাবশালী রহিম সেখানে কিছু পেটোয়া বাহিনী দিয়ে অবৈধভাবে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীরা জানায়, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে জমা করে রাখা হয়েছে। এখন সেগুলো ভারী গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যার ফলে সড়কটি মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও তারা নীরব রয়েছেন। প্রশাসন থেকেও কোন ধরণের প্রতিকার পাচ্ছে না তারা।

নওশাদ আলী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের ফসলি জমি ও বসত বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলছে না।

আসাদুল ইসলাম নামের আরেকজন কৃষক জানান, আমার জমির কিছুটা দূরেই এই বালু তোলার কাজ হয়েছে এখন আমার জমিটাও ভাঙ্গনের মুখে। যারা বালু তুলছে তারা ক্ষমতাবান হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করতে পারিনি। সেজন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি তবে এখনো কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারীরা কথা বলতে রাজি হননি।

গাংনীর এলজিইডি প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, শুনেছি সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ভূমিকর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হবে।




গাংনী প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বিক্রয়ের অভিযোগ

মেহেরপুর গাংনী উপজেলা প্রাণীসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দকৃত লাম্পি স্কিন (এলএসডি) ভ্যাকসিন বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।

ডা. আলাউদ্দিন গাংনী উপজেলা প্রাণীসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে গোপনে সরকারি বরাদ্দকৃত ঔষধ ও বিভিন্ন ভ্যাকসিন খামারিদের নিকট থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা করে নিয়ে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

গাংনী উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার বিভিন্ন খামারে গরুর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৩৬৫টি, খাসি ছাগলের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৯টি, ছোট ছাগলের সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৭০টি, ভেড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৯১৭টি এবং মহিষের সংখ্যা ৬৫২টি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণীসম্পদ হাসপাতালে সরকারিভাবে লাম্পি স্কিন (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার গরুর মৃত্যু হচ্ছে।

ভাইরাসজনিত এই রোগে আক্রান্তের মধ্যে ছোট বাছুরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় গরু-বাছুর নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিসহ এলাকার হাজার হাজার কৃষক।

সরকারি বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিন না পেয়ে অনেক খামারী অতিরিক্ত দামে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করে গরুকে দিচ্ছেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ডা. আলাউদ্দিন এমন অভিযোগ খামারিদের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন ফার্মেসিতে বিশেষ সুবিধা নিয়ে গোপনে ওই ঔষধ সরবরাহ করে থাকেন।

প্রতিষেধক হিসেবে সরকারিভাবে প্রাণীসম্পদ হাসপাতালে (এলএসডি) ভ্যাকসিন বরাদ্দ দিলেও, বিভিন্ন অজুহাতে লাম্পি স্কিন ডিজিজের জন্য সরকারি কোনো ভ্যাকসিন নেই বলে খামারিদের বিদায় করছেন প্রাণীসম্পদ অফিসের ওই কর্মকর্তা।

গাংনী উপজেলায় পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার খামারী ও কৃষকের ঘরে প্রায় ২ লাখ গরু-বাছুর রয়েছে। বর্তমানে সেখানে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে।

এর মধ্যে কাজিপুর ইউনিয়নের কাজিপুর, হাড়াভাঙ্গা, সাহারনগর, ষোলটাকা ইউনিয়নের কাষ্টদহ, জুগিরঘোফা, ষোলটাকা, মিনাপাড়া, সাহারবাটি ইউনিয়নের ধর্মচাকী, ভোমরদহ, হিজলবাড়ি, ধানখোলা ইউনিয়নের কসবা, যুগিন্দা, ভাটপাড়া গ্রাম এলাকায় রোগটির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়ায় খামারিসহ এলাকার হাজারো কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে তাদের অনেকের মনে এখন ‘লাম্পি আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। অনেক খামারী বাইরে থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে ক্রয় করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন গরু খামারী জানান, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রাণীসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সরকারি ঔষধ গোপনে বিভিন্ন ফার্মেসির কাছে দিয়ে সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ বিক্রি করে আসছেন।

এছাড়াও সরকারি বেতনভুক্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসাপত্রে নামমাত্র কোম্পানির ঔষধ এবং ভিটামিন পণ্য লিখে খামারিদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

ভুক্তভোগী খামারিরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিন বাইরে ঔষধ ও ভ্যাকসিন বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো ভ্যাকসিন বাইরে বিক্রয় করিনি। যদি কেউ বলে থাকে, সেটা মিথ্যা বলেছে। সরকারি বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিন বিনামূল্যে খামারিদের দেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

সরকারি ভ্যাকসিন বাইরে বিক্রয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোত্তালেব আলী বলেন, “চলতি বছর এই প্রথম লাম্পি স্কিন (এলএসডি) ভ্যাকসিন সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়েছি। ৫ হাজার ৪০০ ডোজের মধ্যে ৪ হাজার ৪৯৬ ডোজ গরুকে দেওয়া হয়েছে। বাকি ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। বিনামূল্যে গরু খামারিদের এই ডোজ দেওয়া হয়েছে।”

সরকারি ভ্যাকসিন বরাদ্দ পাওয়ার আগে জরুরি প্রয়োজনে কেউ কেউ ৩ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে ভ্যাকসিন ক্রয় করে থাকতে পারেন, যা আমার জানা নেই। গাংনী পশু হাসপাতালে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পভুক্ত খামারির সংখ্যা ৮৪০ জন, এর মধ্যে রেজিস্টার্ড ভুক্ত খামারিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পভুক্ত খামারির বাইরেও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ঔষধ বাইরে বিক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। যে সকল গরুকে দেওয়া হয়েছে, সেই সকল খামারির তালিকা আমাদের কাছে আছে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, যদি কোনো কর্মকর্তা ভ্যাকসিন বাইরে বিক্রি করে টাকা নেয়। আর যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




সিপিবি’র জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে মেহেরপুরে কর্মীসভা 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র জাতীয় সমাবেশকে সামনে রেখে মেহেরপুরে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মীসভার আয়োজন করা হয়।

সিপিবি’র মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরেশ কর। সভা পরিচালনা করেন, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কানন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিপিবি’র সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমরেড জালালউদ্দিনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের উপর আলোচনা করেন বক্তারা।

কর্মীসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা শাখার সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, কমরেড রহমতুল্লাহ, কমরেড রফিকুল ইসলাম, কমরেড আব্দুল হাকিম, কমরেড পাভেল, কমরেড বিপ্লব ও কমরেড ঊষা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।




মুজিবনগরে ৩ দিনব্যাপী তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত

মুজিবনগরে ৩ দিনব্যাপী তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফসিডিও’র অর্থায়নে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোলডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি-এমআইপিস প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

মুজিবনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সেমিনার কক্ষে গত শনিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩ দিন সকাল  ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত “তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ” বিষয়ক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশিক্ষণে রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ইয়ুথ পিস এ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (YPAG) এর সদস্য, ৮ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ যুব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন,  যাদের মাধ্যমে অগামিতে সম্প্রীতির মুজিবনগর গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা হবে। ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, আত্মপরিচয়, কার্যকর যোগাযোগ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং দলগঠনের কৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষনার্থীদের ৩ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, এমআইপিএস প্রকল্পের ট্রেনিং অফিসার মনিরুজ্জামান, খুলনা ক্লাস্টারের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এস.এম. রাজু জবেদ এবং ট্রেনিং & ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এক্সপার্ট সৈয়দ আমিনুর রহমান। সার্বিক ব্যাবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন, এমআইপিএস প্রকল্পের যশোর রিজিওনের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর  আশরাফুজ্জামান, পিএফজি সমন্বয়কারি ওয়াজেদ আলি খান ও ওয়াইপিএজি সমন্বয়কারি রিয়াজ শেখ।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা একটি সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট গঠন করেন, যা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রদান করবে।

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থীরা অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের নেতৃত্ব গুণাবলি বিকাশে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। উপস্থিত সকলেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সমাপনীর দিনে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সনদ তুলে দেওয়া হয়।




মেহেরপুরের নতুন দরবেশপুরে ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরিত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মেহেরপুর সদরের নতুন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রটি নতুন দরবেশপুর দাখিল মাদ্রাসাতে স্থানান্তরিত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গ্রামবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় নতুন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সন্মুখে গ্রামবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের আহ্বায়ক আসলাম আলীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মজিবার রহমান, ইউপি সদস্য জাকির হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা সিদ্দিক আজিজ বাবলু ও সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রটি  স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে প্রতিষ্ঠিত। বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছি। এই কেন্দ্রের আওতায় এই গ্রামের তিন পাড়ার ২ হাজার ৬শ ভোটার আছে। অথচ পুরাতন দরবেশপুর গ্রামের ৭শ ভোটার যারা ৭ নং ওয়ার্ড (পশ্চিম সিংহাটি ও পুরাতন দরবেশপুর) এর ভোটার, তারা সিংহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। ৭ নং ওয়ার্ডের কতিপয় লোক এই নতুন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিবর্তনের জন্য জেলা নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করেছে। যারা এই কেন্দ্রের ভোটার নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে জেলা প্রশাসক ও  জেলা নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন নতুন দরবেশপুর গ্রামের আপামর জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। বক্তারা আরও বলেন, নতুন দরবেশপুর গ্রামের শান্তি প্রিয় মানুষকে যারা অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে তারা সাবধান হয়ে যান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম জাদু, ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোকাদ্দেস হোসেন, শরিফ মন্ডল, খন্দকার কিবরিয়া, শাহাদত হোসেন সহ আরও অনেকে।




গাংনীতে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে বিএনপি মহাসচিবের নির্দেশ

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপি’র জয় নিশ্চিত করতে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিজেদের মধ্যে  দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি’র গুলশান কাযর্যালয়ে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই নেতাকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে।

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ডাকে দলীয় কার্যালয়ে আসন ভিত্তিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন। উপস্থিত দু’জনের মধ্যে আমজাদ হোসেন মেহেরপুর প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন বলেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে একসাথে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে বলেছেন। যাতে মনোনয়ন পাওয়ার পর একসাথে যেন সকলেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে। দলীয় বিভেদ কোন্দল ভুলে গিয়ে ঐক্যদ্ধভাবে দলীয় সকল কর্মসূচী পালন করতে মহাসচিব নির্দেশনা দিয়েছেন। মহাসচিব বলেছেন, কেউ কারো বিরুদ্ধে যেন বিষেদামূলক কোন কথা না বলেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে সকলেই যাতে তাঁর হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে পারে এবং দলীয় বিজয় নিশ্চিত করতে পারেন।