মেহেরপুরে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুর শহরের গড়পাড়া এলাকায় একটি বাড়ি থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইদ্রিস হাজীর বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, নিহত ব্যক্তি হরিরামপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে প্রিন্স (১৭)।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামীম রেজা জানান, আমরা সংবাদ পাই যে গড়পুকুরের পূর্বপাশে একটি বাড়িতে একজন যুবক দরজা বন্ধ করে আটকে আছেন। উদ্ধার করতে দরজা ভাঙার প্রয়োজন হবে এমন অনুরোধ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি, যুবক ফাঁস নিয়ে মারা গেছেন।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।




রাজনীতির শ্রমিক : আদর্শহীন আনুগত্যের নতুন নাম

দেশের রাজনৈতিক পরিসর এক আশ্চর্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের চর্চা, মত প্রকাশের অধিকার ও জনগণের অংশগ্রহণ এখন অনেকটাই প্রতীকী। এর পরিবর্তে সামনে এসেছে এমন একটি বাস্তবতা, যেখানে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ শ্রেণি “রাজনীতির শ্রমিক”। এরা আদর্শের নয়, আনুগত্যের ভিত্তিতে রাজনীতিতে সক্রিয়; এবং তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা অধিকাংশ সময়েই সীমাবদ্ধ থাকে ক্ষমতার পক্ষে শ্রম প্রদান ও প্রতিপক্ষ দমনে সক্রিয় অংশগ্রহণে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সংকট এখন গভীর বাস্তবতা। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের রাজনীতিতে বেশ কয়েকটি প্রজন্ম নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষণীয় নেতৃত্ব কাঠামো পুরোনো, মুখ একই, কণ্ঠস্বরও চেনা। প্রশ্ন উঠছে: আজকের তরুণেরা কোথায়? ভবিষ্যতের নেতৃত্ব কোথা থেকে আসবে?

এক সময়ের ছাত্র রাজনীতি ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মূল প্ল্যাটফর্ম। আজ তা অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও দলীয় আজ্ঞাবহতায় পরিণত হয়েছে। আদর্শিক রাজনীতির জায়গায় এসেছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপার্জনের চিন্তা। ফলে তরুণদের মধ্যে রাজনীতিকে ক্যারিয়ার হিসেবে দেখার আগ্রহ কমে গেছে। যেসব তরুণ এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।

শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে শাসন ব্যবস্থায় থাকার ফলে মাঠপর্যায়ে এক ধরনের ‘দলভিত্তিক শ্রম বাজার” গড়ে উঠেছে। এখানে রাজনীতিকরা আদর্শিক বক্তব্য দেন না; বরং নেতা কী বলছেন, তা অন্ধভাবে অনুসরণ করাই যেন একমাত্র কাজ। শোডাউন, মিছিল, পোস্টার লাগানো, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো পর্যন্ত সবই এখন একপ্রকার পেশা, যার বিনিময়ে পাওয়া যায় পদ, সুযোগ বা সরাসরি আর্থিক সুবিধা।

এই ধরনের রাজনীতি শ্রমিকদের কাছে রাজনীতি হলো লেনদেনের মাধ্যম আদর্শ নয়, বরং সুবিধার সূত্র।

বিরোধী রাজনীতির শ্রমিক সংকট। ওইসময়, বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি ও বাম ধারার দলগুলো রাজপথে সক্রিয় শ্রমিক-কর্মী হারিয়ে ফেলে। কোটা বিরোধী আন্দোলনে কেষ হাসিনা সরকারের পতনের পরে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠে বিএনপি। এখন বিএনপিতে রাজনীতির শ্রমিকে জয় জয়কার। এখানে আদর্শে বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনও আছেন, তবে তাঁদের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম।

এ বাস্তবতায় দেখা যায়, শ্রমিক-কেন্দ্রিক রাজনীতি শুধু ক্ষমতাসীন পক্ষেই নয়, বিরোধীতায়ও এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি একসময় ছিল চিন্তার মঞ্চ, নেতৃত্ব গড়ার প্ল্যাটফর্ম। আজ তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রূপ নিয়েছে সংঘবদ্ধ পেশাগত কর্মকাণ্ডে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্র সংগঠনের নামে চলে টর্চার সেল, চাঁদাবাজি, নিয়ন্ত্রণের লড়াই। ছাত্ররা শিক্ষার্থী নয়, বরং নেতা ও উপরের মহলের ‘বিশ্বাসভাজন কর্মী’ হয়ে ওঠে এবং সেটাই তাদের “রাজনৈতিক যোগ্যতা”। তাদের মধ্যে অনেকে বছরের পর বছর ছাত্রত্ব বজায় রেখে রাজনীতি করে চলেন একটা ‘ক্যাডার সংস্কৃতি’র প্রতিনিধিত্ব করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতির এক নতুন মঞ্চ তৈরি হয়। যেখানে রাজনৈতিক শ্রমিকরা ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব লাইভ, বা ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে ‘নেতার পক্ষে’ কথা বলেন, বিরোধী মতকে আক্রমণ করেন। তাঁদের অনেকেই এই কাজের বিনিময়ে আর্থিক উপার্জন বা সুযোগ সুবিধা পান।

এটি একধরনের “ডিজিটাল দালালি”, যা মূলত রাজনীতিকে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা থেকে সরিয়ে এনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়ে ওঠে। এখনও এই চর্চা চলমান।

রাজনীতির এই শ্রমিকতন্ত্র কেবল দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। নিয়োগ, বদলি, উন্নয়ন প্রকল্প, এমনকি পুলিশের মামলাতেও দলীয় পরিচয় নির্ধারণ করে দেয় কে ‘অপরাধী’ আর কে ‘ভিকটিম’। রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই সংস্কৃতি যদি চলতেই থাকে, তবে রাজনীতি কেবলই ক্ষমতা রক্ষার উপকরণে পরিণত হবে। গণতন্ত্র থাকবে শুধু ভোটের দিনটিতে, আর বাকিটা সময় থাকবে নির্দিষ্ট দলের মুখপাত্রদের হাতে যাঁরা আদর্শ নয়, নির্দেশ পালন করতেই উৎসাহী।

সেই দায় দলগুলোর যেমন, তেমনি সমাজ ও নাগরিকদেরও। এখনই সময় প্রশ্ন তোলার, জবাব চাওয়ার, এবং নতুন এক রাজনীতি কল্পনার। যেখানে মানুষ হবে রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র্র, আর রাজনীতি হবে মত, বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা শ্রম বিক্রির নয়।

দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে গণতন্ত্রের অভাব যেমন নতুন নেতৃত্ব ঠেকিয়ে রাখে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী মতকে দমন করার প্রবণতা রাজনীতিকে একমাত্রিক করে তোলে। ভিন্নমতের বিকাশ না থাকলে নেতৃত্বের বিকাশও থেমে যায়।

নতুন নেতৃত্ব গড়তে হলে- দলীয় নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। নেতৃত্ব নির্বাচন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে, নিযুক্তির মাধ্যমে নয়।
ছাত্র রাজনীতিকে আদর্শভিত্তিক ও শিক্ষাবান্ধব করতে হবে। ক্যাম্পাসে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা জরুরি।

নতুন নেতৃত্বের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। মিডিয়া, সেমিনার, গবেষণা ও নীতি আলোচনা সভায় তরুণদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হবে।
রাজনীতিকে পেশাগতভাবে সম্মানজনক করতে হবে। দুর্নীতি ও সহিংসতা থেকে মুক্ত করে এটিকে আকর্ষণীয় ও নৈতিক জায়গায় ফিরিয়ে আনা দরকার।

বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা বাড়াতে হবে। গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়, বরং প্রতিটি স্তরে ভিন্নমতের সহাবস্থান। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। এরা যদি রাজনীতির বাইরেই থাকে, তাহলে নেতৃত্বের সংকট কেবল আরও গভীর হবে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করে নেতৃত্ব তৈরির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতের রাজনীতি যেন কিছু মুখ বা পরিবারের হাতে না আটকে থাকে, বরং হয়ে ওঠে জনসম্পৃক্ত, দায়বদ্ধ এবং নবীন নেতৃত্বনির্ভর সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক ও সাংবাদিক




ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় গাংনীর মেয়ে সজনী নিহত

ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হামিদের মেয়ে রজনী খাতুন (৩৭) নিহত হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন তিনি।

নিহত রজনী খাতুনের ভাই আশিক জানান, দুলাভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতো, এ কারণে বোন রজনী খাতুনকে নিয়ে উত্তরা এলাকায় একটি বাসায় বসবাস করতেন এবং বোনের মেয়ে ঝুমঝুম খাতুন (১২) ঢাকা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করতো।

প্রতিদিনের ন্যায় দুর্ঘটনার সময় স্কুল থেকে ঝুমঝুম খাতুনকে আনতে গেলে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে তার বোনের মৃত্যু হয়।




কোটচাঁদপুরে পারফরমেন্স বেইজড ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস স্কিম অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পারফরমেন্স বেইজড ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস স্কিম (PBSSI) এর আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আনিসুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের অধ্যাপক ড. শেখ মো. আমানুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সরকার, কোটচাঁদপুর পৌর ডিগ্রি কলেজ ও কামিল মাদ্রাসার সভাপতি অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, মডেল বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি এস কে এম সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম, সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন, কোটচাঁদপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির, জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আক্তার জাহান এবং সাফদারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিন উদ্দিন।

উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সুপারভাইজার ফারুক হোসেন।




মেহেরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩

মেহেরপুরের আমঝুপিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন আমঝুপি গ্রামের মোসাদ্দেক হোসেনের ছেলে হামিম হোসেন (৪৫), মৃত কিনু শেখের ছেলে মামুন রেজা (৪০) এবং আশরাফুজ্জামানের ছেলে আল ইমতিয়াজ নাহিদ (৩২)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আটক হামিম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে মামুন রেজা ও আল ইমতিয়াজ নাহিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সব সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

আহত–নিহতদের জন্য দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর জানিয়েছে, সোমবার বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বলেন, বিমানটি একটি ভবনের গেইটে আছড়ে পড়ে। সেটি অ্যাকাডেমিক ভবন। সেখানে স্কুলের বাচ্চাদের ক্লাস চলছিল। একের পর এক আহতদের বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেককে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যোগ দিয়েছে ২ প্লাটুন বিজিবি।

আহতদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও আহতদের নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বেলা সাড়ে ৩টায় বলেন, এখন পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক দগ্ধ এসেছে।

জানা গেছে, বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা অনেক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সূত্র: যুগান্তর




উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৯

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।আহত ও দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসেছে। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈমানিকের বিষয়েও কোনো তথ্য এখনো দেয়নি আইএসপিআর।

আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।

স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বলেন, বিমানটি একটি ভবনের গেইটে আছড়ে পড়ে। সেটি অ্যাকাডেমিক ভবন। সেখানে স্কুলের বাচ্চাদের ক্লাস চলছিল। আগুনে অনেকেই সেখানে দগ্ধ হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি ২৮ জনের নাম পাওয়া গেল

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ২৮ জন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন- শামীম ইউসুফ (১৪), মাহিন (১৫), আবিদ (১৭), রফি বড়ুয়া (২১), সায়েম (১২), সায়েম ইউসুফ (১৪), মুনতাহা (১১), নাফি () মেহেরিন(১২), আয়মান (১০), জায়েনা (১৩), ইমন(১৭), রোহান (১৪), আবিদ (৯), আশরাফ (৩৭), ইউশা (১১), পায়েল (১২), আলবেরা (১০), তাসমিয়া (১৫), মাহিয়া (), অয়ন (১৪), ফয়াজ (১৪), মাসুমা (৩৮), মাহাতা (১৪), শামীম, জাকির (৫৫), নিলয় (১৪), সামিয়া।

ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলা ১টা ১৮ মিনিটে এ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। মাইলস্টোন কলেজে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। তাদের ইউনিটগুলো পৌঁছায় দুপুর ১টা ২২ মিনিটে। এখন উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের আটটি ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সব সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

আহত–নিহতদের জন্য দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর




গরীব অসহায় প্রতিবন্ধীর জীবন বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নারায়নকান্দি গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর খেটে খাওয়া রোজদার আলী মন্ডল, পিতা মৃত বদর আলী মন্ডল।

বাক প্রতিবন্ধী সন্তানের জীবন বাঁচাতে বিত্তশালীদের নিকট সাহয্যের আবেদন করেছেন অসহায় পিতা। হতদরিদ্র পিতা রমজান আলীর উপরে প্রতিবন্ধী জব্বারুলসহ নির্ভরশীল পরিবারের ৭ সদস্য।

প্রতিবন্ধী জব্বারুল দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাগত। টাকার অভাবে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন চিকিৎসা করানো হয় জব্বারুলকে তাতে তিনি সুস্থ হয় নাই।

এমতাবস্থায়, স্থানীয়দের সহযোগীতায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করাতে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।

উপায়ান্তর না পেয়ে কুষ্টিয়া হাসাপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়, সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জব্বারুলের ডায়াবেটিস, গ্যাষ্টিক, আলসার ও পাকস্থলীতে ছিদ্র ধরা পড়ে। যার কারণে পায়খানা এবং বমিতে রক্তক্ষরণ হয়।

তিনদিন চিকিৎসারপর জরুরীভাবে তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে নিয়ে যেতে বলে। দীর্ঘ একমাস যাবত রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন রয়েছে এই হতদরিদ্র রোজদার আলীর ছেলে প্রতিবন্ধী জব্বারুল। সামান্য উপার্জনে পরিবারের ৭ সদস্যের ব্যয়ভার বহন করে চিকিৎসা খরচ চালিয়ে যাওয়া মোটেও সম্ভব নই তার।

এমতাবস্থায় সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর বিত্তবান ও পেশাজীবী মানুষের নিকট প্রতিবন্ধী জোব্বারুলের পিতা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। যোগাযোগ এবং সাহায্য পাঠানোর নম্বর- (বিকাশ নাম্বার:০১৭৫০৩৮৯৪০৩, ০১৭১৯৫২৪৮৯২)।




বিমান বিধ্বস্ত: আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক ছুটছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বহু হতাহতের শঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত ২০ জনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার কিছু পরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি ছিল বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান।

জানা গেছে, ঘটনার সময় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে শ্রেণি কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমানটি ভেঙে পড়লে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। স্কুলের অভিভাবকরা খবর পেয়ে দিকবেদিক ছুটছেন সন্তানদের খোঁজ নিতে। অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

বিমান বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি প্রশিক্ষণ বিমানকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়, তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়েছি, মাইলস্টোন কলেজ এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা খানম বলেন, দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে খবর পেয়েছি যে উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের কাছে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আমাদের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করেনি কোনো কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: যুগান্তর




গাংনীতে চিৎলা পাটবীজ খামারের শ্রমিকদের মানববন্ধন

মেহেরপুরের গাংনীর বাশবাড়িয়া গ্রামের এসএম ফয়েজকে চাদাবাজ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন করেছে গাংনীর চিৎলা পাট বীজ খামারের কর্মরত শ্রমিকরা।

আজ সোমবার দুপুর ১২ টার সময় চিৎলা পাটবীজ খামার শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে এই মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন খামারের কয়েকশো শ্রমিক।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাবেক সভাপতি ওমর আলী, সদস্য নাজিমুদ্দিন, শফিকুল ইসলাম কাদা, লিটন হোসেনসহ অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাংনী উপজেলার বাশবাড়িয়া গ্রামের এসএম ফয়েজ শ্রমিকদের সাথে চাদা দাবী করেন। চাদা না পেয়ে পাটবীজ খামারের কর্মরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নানা ভাবে হয়রানী মুলক সংবাদ প্রকাশ কওে এসএম ফয়েজ।

শ্রমিকরা বলেন, ৫০০ টাকা হাজিরায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ সেই সব শ্রমিকদের সাথে চাদা দাবী করেন এসএম ফয়েজ। শফিকুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে তার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাদা দাবী করেন এসএম ফয়েজ ।

ফয়েজকে কয়েক দফায় কিছু টাকাও দেয়া হয়। পুরো টাকা না দিতে পারায় তাকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এমন দাবী করেন তিনি। ফয়েজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান মানববন্ধনে অংশ গ্রহন কারীরা।