ওসাকা ফেস্টিভ্যালে মেহজাবীনের ‘সাবা’

মেহজাবীনের সিনেমা ‘সাবা’ জাপানের ২০তম ওসাকা এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমাটির পরিচালক মাকসুদ হোসাইন বলেন, ‘ওসাকায় সিনেমার তিনটি প্রদর্শনী হবে। উৎসবে আমি অংশগ্রহণ করব।’ উৎসবটি শুরু হবে ১৪ মার্চ, চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। ‘সাবা’র মুক্তির খবরও দিলেন সিনেমাটির পরিচালক। আগামী জুনে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সরে আসি। ভেবেছিলাম, দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে দেব। সেটাও হয়তো সম্ভব হবে না। আমরা জুনের শেষ সপ্তাহ বা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সিনেমাটি রিলিজ দিতে চাই।’

দুই যুগ আগে ঘটা একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় ১২ বছরের এক কিশোরী ও তার মা। কিশোরীটি সেই ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাত পায় আর মায়ের সঙ্গী হয় হুইলচেয়ার। এই দুর্ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।

সিনেমাটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবিন চৌধুরী। আর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি চরিত্রে রয়েছেন মোস্তফা মনুওয়ার।

সূত্র: ইত্তেফাক




চরমপন্থিদের নিয়ে নতুন আতঙ্ক!

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চেলের জনপদ ঝিনাইদহ এক সময় চরমপন্থিদের নিরাপদ ঘাঁটি ছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর এ অঞ্চলে চরমপন্থিরা আবারো তৎপরতা বাড়িয়েছে।

তাঁরা নতুন করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। হত্যাকারী পাশাপাশি গুলি ও বোমা ফাটিয়ে তাঁদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলার পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগযোগ রাখছে চরমপন্থি দলের সদস্যরা। ঠিকাদারি কাজ, হাট-ঘাট, বিল-বাঁওড় দখলে নিতে এখন তাঁরা মরিয়া। চরমপন্থিদের সঙ্গে সমঝোতা না করে দরপত্র, হাট-ঘাট ও বড় জলমহাল ইজারা নেওয়া ঠিকাদারদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও চরমপন্থিদের চোখ এখন সরকারি বিভিন্ন কাজে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি কাজ তাঁদের পছন্দের ঠিকাদার না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বরতদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ শাসনামলে কথিত বন্দুকযুদ্ধে টিকতে না পেরে বেশির ভাগ চরমপন্থিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। যাঁরা দেশে ছিলেন, তাঁরাও আত্মগোপনে ছিলেন। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানে চরমপন্থি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্টের পর প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চরমপন্থিরা। পালিয়ে থাকা অনেক চরমপন্থি এখন অনেকটা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, এ জেলায় চরমপন্থিদের তৎপরতা হঠাৎ করে বেড়েছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ি জেলার সীমান্ত এলাকায় তাঁরা শক্ত অবস্থান করে তুলেছেন। খুব সহজেই তাঁরা এ জেলা থেকে অন্য জেলায় ঢুকে অপরাধ ঘটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক আগে থেকেই এ এলাকায় জাসদ গণবাহিনীর প্রভাব ছিল। বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত এ সংগঠনটি কালু, ফারুকসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে থেকে পরিচালনা করছেন। এখন তাঁদের ৭০ থেকে ৮০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তাঁদের কাছে রয়েছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র।

জানা গেছে, জেলার হরিণাকুণ্ডু ও শৈলকুপায় কালুর অনেক সদস্য রয়েছে। জাসদ গণবাহিনীর নামে তাঁরা নতুন করে সংগঠন পরিচালনা করছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর এলাকায় তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই জায়গায় একই ভাবে দেড় দশকে হত্যা করা হয় আরো আটজনকে। চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া সীমানায় অবস্থিত এলাকাটি। সবশেষ নিহত তিনজনের মধ্যে ছিল বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হানিফ আলী ওরফে হানেফ। হানেফের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হাট-ঘাট, সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন দল গোছানোর কাজ করছিল।

হানেফের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। এ উপজেলাতে অনেক বিল-বাঁওড় আছে। এসব দখলে নিতে বেশ কয়েকটি দল ৫ আগস্টের পর থেকে তৎপর ছিল। সেই সাথে বাংলা নতুন বছরে হাট-বাজারগুলো ইজারা দেওয়া হবে। এসব হাট-বাজার ও বিল-বাঁওড়ের দখল নিতে কাজ করছে চরমপন্থিরা। বিএনপির অনেক নেতাও এসব নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এখন চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

সূত্র জানায়, এসব চরমপন্থি সংগঠনগুলো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত ২০ বছর ধরে কোণঠাসা এসব সংগঠন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই ঠিকাদারি কাজ, হাট-বাজার ও বিল-বাঁওড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। অনেকে ভয়ে সরকারি কাজের দরপত্র কিনতে ভয় পাচ্ছেন। ঠিকাদারদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হঠাৎ করে চরমপন্থিদের উত্থানের হওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন, ‘ত্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে সকল চরমপন্থিরা আত্মগোপনে রয়েছে তাঁদের সম্পর্কে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি।’

তিনি আরো বলেন,‘চরমপন্থি নিয়ে জনমনে কিছুটা শংকা তৈরি হয়েছে। পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে। খুব দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’




বাড়তি সুবিধা নয় বরং ভারতের ক্ষতি হয়েছে, দাবি গাঙ্গুলীর

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একক দল হিসেবে নিজেদের সবগুলো ম্যাচ দুবাইয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে ভারত। যাকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে উল্লেখ্য করে এর সমালোচনা করছে বাকি দলগুলো। তবে একে কোনোভাবেই বাড়তি সুবিধা মানতে নারাজ সৌরভ গাঙ্গুলী। বরং এর জন্য ভারতের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক ও বিসিসিআইপ্রধান সৌরভ গাঙ্গুলীর।

রোহিত শর্মার দলের পাকিস্তানে না যাওয়াটাকে বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে বলে দাবি সৌরভের। তিনি বলেন, ‘ভারত নিজেদের ইচ্ছায় সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলতে রাজি হয়নি! তারা পাকিস্তানে যেতে পারছে না, ভারতের সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। এজন্য খেলতে হচ্ছে (দুবাইয়ে)। এটা তো ভারতীয় দলের হাতে নেই। ব্যাপারটি তো এমনই।’

এবার কেবল দুবাইয়ে খেললেও আগের দুটি আইসিসি আসরে ভারত অনেক ভ্রমণ করেছে। আর সেখানে সাফল্যও পেয়েছে। যে কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুর সুবিধা নিয়ে সাফল্য পাচ্ছে ভারত সেটা বলার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সৌরভ।

সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘ভারত দেশের মাঠের বিশ্বকাপে ৯টি ভিন্ন শহরে খেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ৮টি (আদতে ৫টি) ভিন্ন শহরে খেলে। ভারত দুবাইয়ে খেলার কোনো ব্যাপার এখানে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে আছে, ২০০৩ বিশ্বকাপে অধিনায়ক ছিলাম আমি, তখন জিম্বাবুয়েতে সফরে যায়নি ইংল্যান্ড। তারা জিম্বাবুয়েকে পয়েন্ট দিয়ে দিয়েছে, কারণ সেখানে গিয়ে খেলবে না। কাজেই সব দেশেরই নিজস্ব ধরন আছে সবকিছুর এবং আমার মনে হয়, পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায় ভারতীয় দল ও সরকারের কোনো ভুল এখানে নেই।’

পাকিস্তানের এই আসর আয়োজনের পেছনে নিজের ভূমিকারও কথাও তুলে ধরেন সাবেক এই বিসিসিআইপ্রধান। বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমি যখন বিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলাম ২০২০ সালে, তখন আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক করেছিলাম পাকিস্তানকে। ২০৩১ পর্যন্ত সব বৈশ্বিক আসরের ভেন্যু ঠিক করার গ্রুপের অংশ ছিলাম আমি। ভারতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৯ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে। এটা তো ভারত নিজে করেনি। তাদের পাকিস্তানে যাওয়ার উপায় নেই।’

পাকিস্তানে খেলতে না পেরে যে ভারতীয় ব্যাটারদের ক্ষতি হয়েছে সেটাও জানান গাঙ্গুলী। বলেন, ‘আমি বলতে পারি, বিরাট কোহলি, রোহিত শার্মা, কেএল রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ারের মতো ব্যাটসম্যানদের বরং খারাপ লাগছে লাহোর ও করাচির মতো উইকেটে খেলতে না পেরে, অন্য দলগুলি যেখানে ৩৫০ রান তুলছে। ইংল্যান্ড সাড়ে তিনশ করেছে, অস্ট্রেলিয়া তাড়া করে জিতেছে। নিউজিল্যান্ড ৩৬০ করেছে। দুবাইয়ে সেখানে ২৪০-২৫০ রান হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোহলি, রোহিত, শ্রেয়াস, শুবমান গিলরা ভাবছে, ‘দুবাইয়ে অমন উইকেট কেন পেলাম না আমরা! পেলে তো তিন-চারটি সেঞ্চুরি হয়ে যেত। পাকিস্তানের যেতে না পেরে বরং ভারতই সুযোগ হারাচ্ছে নিষ্প্রাণ উইকেটে খেলার।’

সূত্র: যুগান্তর




বিএনপি নেতার আষ্ফালন, মানেননি আদালতের আদেশ

মেহেরপুরের নতুন মদনাডাঙ্গা গ্রামে জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিক্রি করা জমি ঘিরে নিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় গ্রাম বিএনপির নেতা আতিকুর রহমান পিন্টু।

এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা থাকলেও এখনো প্রতিবন্ধকতা সরানো হয়নি। পুলিশ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করতে গেলে উল্টো দম্ভোক্তি দেখিয়েছেন অভিযুক্ত পিন্টু।

জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ বিন হারুন (জুয়েল) নিজের বাগানে যাতায়াতের জন্য এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে ৬ লাখ টাকায় প্রায় সাড়ে তিন শতক জমি ক্রয় করেন। জমির দলিলেও উল্লেখ রয়েছে যে এটি মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পরদিনই পিন্টু ওই জমি ঘিরে দখলে নিয়ে নেন এবং ইমতিয়াজ বিন হারুনকে হুমকি দেন সেখানে না যাওয়ার জন্য।

মেহেরপুরের নতুন মনাডাঙ্গা গ্রামের আতিকুর রহমান পিন্টু ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা প্রায় সাড়ে তিন শতক জমি তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে নিয়েছে। বাগানের কোন পাশ দিয়ে যাতে বাগান মালিক জুয়েল প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাগানের অন্যপাশের জমির মালিকদেরও ঘিরে নিয়ে যাতায়াতে প্রতিবন্ধক তৈরীর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

পিন্টু অকপটে স্বীকারও করছেন মানুষের চলাচলের জন্য বিক্রি করা জমি দখলের বিষয়টি। মানুষের চলাচলের জন্য জমি ক্রেতা আইনজীবী খ. ম. ইমতিয়াজ বিন হারুনসহ (জুয়েল) মানুষ ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেনা।

পৈত্রিক সুত্রে বাগানের মালিক মেহেরপুর জেলা শহরের ইমতিয়াজ বিন হারুন। নিজের বাগানে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা ছিলো না। মাঠে যাতায়াতের এবং নিজের বাগানে যাতায়াতের জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান পিন্টু‘র কাছ থেকে ০.০৫৯৭ একর (প্রায় সাড়ে তিন শতক) জমি ৬লাখ টাকায় কিনে নেন ইমতিয়াজ।

জমির দলিলও হয়েছে সাধারণের যাতায়াতের জন্য। ফলে ওই জায়গা দিয়ে এতদিন এলাকার মানুষ মাঠে চাষাবাদের জন্য যাতায়াত করতেন। বিক্রি করা জমি ঘিরে নেয়ার ফলে সাধারণ মানুষ মাঠে যাতায়াত করতে পারছেনা।

গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন, সুমন হোসেন, সাইফুল ইসলামও স্বীকার করেন জমির মালিক ইমতিয়াজের। তিনিই পিন্টুর সাথে জমি কিনে তাদের যাতায়াতের রাস্তা করে দিয়েছেন। চলাচলের রাস্তা ঘিরে নিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে গ্রামের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইমতিয়াজ বিন হারুন জানান, মাঠে চাষাবাদের কৃষক ও নিজের বাগানে যাতায়াতের জন্য পিন্টুর কাছ থেকে ০.০৫৯৭ একর জমি কিনে জনসাধারণের জন্য পথ করে দিয়েছি। হঠাৎ করে ওই রাস্তা ঘিরে নিয়ে মাঠ ও বাগানে যাতায়াত করা যাচ্ছেনা। এমনকি তার একটি টিনের ছাউনি ছিলো। সে ভাংচুর করে প্রায় ৩৭ হাজার টিনও লুট করা হয়েছে।

গ্রামের বাজারে নিজের হার্ডওয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পিন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করে বলেন, ইমতিয়াজ তার কাছ থেকে জমি কিনে রাস্তা তৈরী করেছেন। এই জমি কেনার আগে একদিন জেলা শহরে ইমতিয়াজ আমাকে অপমান করেন। তার প্রতিশোধ নিতে জমি ঘিরে নিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে পিন্টু গ্রাম বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

বিষয়টি আদালতে গড়ালে মেহেরপুরের বিজ্ঞ বিচারিক আদালত ৬৯/২১ নং দেওয়ানী মোকদ্দমায় একটি আদেশ দেন। আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, আপিলকারী বাদী ইমতিয়াজ বিন হারুনের ক্রয়কৃত ৬১২ নং দাগের জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের জন্য বৈধ।
চলাচলের রাস্তার সঙ্গে যুক্ত ৬১৩ নং দাগের জমি সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত, যা আগেও পতিত ছিল। প্রতিপক্ষ পিন্টু এই সরকারি জমিতে কাটাতারের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, যা আদালতের নির্দেশনা অনুসারে অবৈধ।

আদালত প্রতিপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে এই বেড়া অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশনার পরও এখনো জমির দখল নিয়ে অচলাবস্থা চলছে।

মেহেরপুর সদর থানার এস আই সুজয় মল্লিক বলেন, বিজ্ঞ আদালতের আদেশে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে আসামিকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিতে বলা হলে আসামি বলেন, আদালত থেকে এর ফয়সালা হবে। সেভাবেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।




ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন, নারী ও কন্যার উন্নয়ন’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার (৮ মার্চ) সকালে শহরের পায়রা চত্বরে এ উপলক্ষে মানববন্ধন ও পথসভার আয়োজন করে মানবাধিকার ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক।

এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। এতে বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান, মানবাধিকার ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সভাপতি আমিনুর রহমান টুকু, সাধারণ সম্পাদক শরিফা খাতুন, সদস্য এন এম শাহজালাল, এডাপের সভাপতি মিজানুর রহমান, সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস লাকীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও পথসভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই) কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে এডাব’র আয়োজনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। নারীদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক মুক্তি, সহিংসতা প্রতিরোধ, কর্মক্ষেত্রে সমঅধিকার এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




আটার রুটিকে আরও বেশি পুষ্টিকর বানাবেন যেভাবে

ময়দার বদলে বেশি ফাইবার যুক্ত আটা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। কারণ ফাইবার পেটের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো, তেমনই ময়দার তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকরও।

কিন্তু কয়েকটি উপায়ে আটার রুটিকেও আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলা যায়। পুষ্টিবিদেরা বলছেন আটার রুটি আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য আটার সঙ্গে পাঁচ ধরনের স্বাস্থ্যকর উপাদান মেশানো যেতে পারে।

১। সজনে পাতা: সজনে পাতায় আছে ভিটামিন এ এবং আয়রন। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। আবার সজনে পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসও। যা রোগ দূরে রাখে। ১ কাপ আটায় ১-২ টেবিল চামচ রোদে শুকিয়ে গুঁড়িয়ে নেওয়া সজনেপাতা মিশিয়ে আটা মেখে নিন। তা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন রুটি।

২। হলুদ: হলুদেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। রয়েছে প্রদাহ নাশক উপাদান। ১ কাপ আটায় ১ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে আটা মাখুন।

৩। জোয়ান: জোয়ান হজমে সহায়ক। আবার জোয়ান পেট ফাঁপার মতো সমস্যা অস্থিসন্ধির ব্যথাও কমাতে সাহায্য করে। ১ চা-চামচ জোয়ান শুকনো কড়ায় হালকা ভেজে নিয়ে ১ কাপ আটায় মিশিয়ে মেখে নিন। রুটি সুস্বাদুও হবে খেতে।

৪। তিসি বীজ: তিসি বীজে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলও কম রাখে। ১ কাপ আটায় ১ টেবিল চামচ তিসি বীজ শুকনো কড়ায় ভেজে গুঁড়িয়ে দিয়ে দিন। তাই দিয়ে আটা মেখে রুটি বানিয়ে নিন।

৫। মেথি: মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ১ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়িয়ে নিয়ে ১ কাপ আটায় মিশিয়ে মাখুন। তবে মেথির রুটির স্বাদ সামান্য তেঁতো হবে। টক স্বাদের তরকারির সঙ্গে ভালো লাগবে।

সূত্র: যুগান্তর




ঝিনাইদহে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপন

ঝিনাইদহে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ দিবসের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও যশোর সামাজিক বন বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। সভাপতিত্ব করেন যশোর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব আশিকুর রহমান সমী, সরকারি কে.সি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, এবং ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ.বি. এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ যষ্টি চন্দ্র রায়।

বক্তারা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




নতুন রূপে ধরা দিলেন নুসরাত ফারিয়া

‘জিন’ ও ‘জিন টু’এর সাফল্যের পর এবার ‘জিন-থ্রি’ কিস্তি নিয়ে আসছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। আসন্ন ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি উপলক্ষ্যে নির্মিত হচ্ছে ‘জিন থ্রি’। আর এ সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে একেবারে সত্য ঘটনা অবলম্বনে।

সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে এ সিনেমাটির পোস্টার। সেখানে কালো পোশাকে দুহাত প্রসারিত করে জিনের রূপে দাঁড়িয়ে আছেন একটি মেয়ে। যার হাতভর্তি লম্বা নখ, বড় বড় রক্ত চোষা দাঁত। আর এমন লুকেই ধরা দিয়েছেন ঢালিউডের আলোচিত এক অভিনেত্রী।

এর আগে জাজের ‘জিন’ ও ‘জিন টু’ সিনেমা দুটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন অভিনেতা সজল। দুটি সিনেমাতেই তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। তবে এবার তৃতীয় কিস্তিতে নায়িকা বদলে গেছে। পূজা চেরীর পরিবর্তে পর্দায় আসছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া।

সম্প্রতি ‘জিন-থ্রি’ সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে ইতোমধ্যে অন্তর্জালে উন্মুক্ত হয়েছে এর পোস্টার। কিন্তু পোস্টারে গ্ল্যামারাস নুসরাত ফারিয়াকে প্রথম দেখাতে অনেকেই চিনতে পারেননি। অভিনেত্রীর এমন হাল রীতিমতো চমকে দিয়েছে নেটিজেনদের, তা বুঝতে বাকি নেই। কৌতূহল দর্শকরা জানতে চেয়েছেন গ্ল্যামারাস নুসরাত ফারিয়া কি তবে এবার আসলেই জিন, ভূত নাকি ভ্যাম্পায়ার? যদিও সিনেমাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব উত্তর মিলবে পুরো সিনেমাটি দেখলে। সে অপেক্ষায় নুসরাত ফারিয়ার ভক্ত-অনুরাগীরা।

সূত্র: যুগান্তর




মেহেরপুরের আমঝুপিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত

মেহেরপুরের আমঝুপিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) এবং এএলআরডি’র যৌথ উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার (৮ মার্চ) সকাল ১০টায় মউকের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক শিক্ষক হাজী আজগর আলী মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মউকের নির্বাহী প্রধান আশাদুজ্জামান সেলিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মউকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও নারী নেত্রী ফাহিমা খাতুন এবং কাজল রেখা।

মানবাধিকার কর্মী সাদ আহাম্মদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় নারী অধিকার ও নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডুকেশন প্রকল্পের উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন আক্তার।

এছাড়াও এসময় সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম, আমঝুপি ইউপি সদস্য সালমা বেগম, আরিফ হোসেন, সমাজসেবক শহীদুল্লাহ এবং আব্দুর রকিব উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় নারী নির্যাতনের বর্তমান চিত্র, এর কারণ ও প্রতিকার, বাল্যবিবাহ রোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এর আগে একটি র‍্যালি আমঝুপির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।




ফাইনালের আগে রোহিতকে কড়া কথা শোনালেন গাভাস্কার

আগামীকাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। রোহিত শর্মার হাতে আরও একটি শিরোপা দেখার স্বপ্ন বুনছে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমিরা। এবার সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অধিনায়ক রোহিতকে কড়া কথা শুনিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখনো জ্বলে উঠতে পারেননি রোহিত। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত রোহিতের সর্বোচ্চ ইনিংস ৪১ রানের, বাংলাদেশের বিপক্ষে। এই অবস্থায় ফাইনালে রোহিতকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। যা নিয়েই এবার রোহিতকে কড়া কথা শুনিয়েছেন গাভাস্কার।

গাভাস্কার বলেন, ‘যদি ও (রোহিত শর্মা) ২৫ ওভারও ব্যাট করে, ভারতের স্কোর পৌঁছে যাবে ১৮০-২০০ রানে। ভেবে দেখুন, ওরা যদি সেই সময় গোটা দুই উইকেট হারায়, শুধু ভেবে দেখুন ওরা কী করতে পারে। ওরা ৩৫০ বা তার বেশি রানে পৌঁছে যেতে পারে। যা নিয়ে রোহিতের ভাবা দরকার। আপাদমস্তক আগ্রাসী ক্রিকেট খেলা একটা ব্যাপার, কিন্তু ২৫-৩০ ওভার ব্যাট করার সুযোগ দেওয়ার জন্য কোথাও একটু বিচক্ষণতা থাকতে হবে। যদি ও সেটা করে ফেলতে পারে, প্রতিপক্ষের থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে চলে যাবে। এ ধরনের প্রভাকেই বলা হয়, ম্যাচ জয়।’

রোহিতের অল্পতে সন্তুষ্টি নিয়ে গাভাস্কার বলেন, ‘আমি মনে করি, একজন ব্যাটার হিসাবে, সে ২৫-৩০ করে রান করেই খুশি? তা হওয়া উচিত নয়। এটাই আমি ওকে বলব। সাত, আট ও নয় ওভার থাকার পরিবর্তে সে যদি ২৫ ওভার পর্যন্ত টিকে যাও, তাহলে দলে তার প্রভাব আরও বেশি হবে।’

সূত্র: যুগান্তর