মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

“অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন নারী ও কন্যার উন্নয়ন” এই প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় মেহেরপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নাসিমা খাতুনের সভপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেনহাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম।

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা শারমিন দৃষ্টির সঞ্চালনায় এছাড়াও এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার সাজেদুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মালেক, মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু, উম্মে হানি ও তৃপ্তি কনা বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও কর্মচারীরা।

অভিযোগের একটি অনুলিপি মেহেরপুর প্রতিদিন কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগকারীদের অভিযোগের কিছুটা সত্যাতা পাওয়া গেছে। মেহেরপুর প্রতিদিন এ সকল অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। যেগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, স্বদেশ কুমার ঘোষ মাগুরা পল্লী বিদ্যুতে থাকাকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শেখরের আশ্রয় এবং প্রশ্রয়ে মাগুরাতে তিনি ত্রাসের রাজত্ব করেছেন এবং মেহেরপুরে এসে তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রীর সাথে তাল মিলিয়ে দুর্নীতির রাজত্ব করেছেন।

বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মিটিং মিছিলে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের গুণগান করছেন যার প্রমাণ মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল অফিসাররা। তথাকথিত পবিস-আরইবি আন্দোলনের সময় তিনি চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ডিসি অফিসে দলবল নিয়ে স্মারকলিপি দেন এবং আরইবির বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্বুদ্ধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ চাষীদের নিকট হতে দুর্নীতিবাজ স্বদেশ কুমার ঘোষ গত চার মাসে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। বামুন্দি অফিস এবং গাংনী অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে চাষীদের ট্রান্সফরমার দিয়ে ওই অর্থ তিনি নিজে গ্রহণ করেছেন।

এজিএম জেরিন, পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার তাজুল ও মোজাম্মেলের মাধ্যমে জিএম সাধারণ কৃষকের মাঝে থেকে টাকা নিতেন। এজিএম জেরিনের অপকর্মের শেষ নেই তারপরেও তাকে ইএমসি দপ্তরে রেখে জিএম সাহেব দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইতিপূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে আরইবিতে একাধিকবার অভিযোগ গেলেও জিএম তাঁর প্রভাব খাটিয়ে ও তদন্ত কমিটিতে ভয় দেখিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করতে দেননি।

গত চার মাসে বামুন্দি অফিসে ৮৫টি ট্রান্সফরমার বিনামূল্যে কৃষকের মাঝে দিলেও প্রতিটি ট্রান্সফরমার হতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে এজিএম হানিফ স্যার এবং জিএম স্যার আত্মসাৎ করেছে। এজিএম হানিফ স্যার চাকরি জীবনে দুর্নীতির কারণে এর আগেও শাস্তি প্রাপ্ত হয়েছে দিনাজপুর সমিতিতে আর স্বদেশ কুমার প্রতিটি সমিতিতেই দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বর্তমানে ঠিকাদার তাজুল ও মোজাম্মেল, এজিএম জেরিন ও জিএম স্যার মিলে গ্রাহকের নিকট হতে অবৈধভাবে অর্থ নিয়ে অনুমোদন ব্যতী রেখে লাইন নির্মান করছে। এতে সহযোগীতা করছেন গাংনী অফিসের ডিজিএম। তিনি বর্তমানে ঢাকা পবিসে বদলী হয়েছেন।

প্রতিটি অফিসে গ্রাহক ট্রান্সফরমার ক্রয় না করলে জামানাতের টাকা নেওয়া নিষেধ থাকলেও গাংনী ও বামুন্দি অফিসের জন্য তা ছিল ব্যতিক্রম। এজিএম জেরিন এই অপকর্মগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন।

সমিতি স্টোর হতে বিনামূল্যে কাট আওট সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রতিটি কাট আওট-এর জন্য কৃষকের কাছ থেকে ৫হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এই টাকার ভাগ পায় এজিএম জেরিন ও জিএম।

শিল্প গ্রাহক এর ক্ষেত্রে টাকা দিতে গ্রাহক অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বছরের পর বছর আবেদন পেন্ডিং রাখা হয় জিএম এর নির্দেশে। অথচ টাকার বিনিময়ে অনুমোদন ছাড়াই সংযোগ হচ্ছে।

সেচ নীতিমালা না মেনে সমিতিতে ট্রান্সফরমারের ঘাটতি থাকলেও টাকার বিনিময়ে ট্রান্সফরমার সরবরাহ, গাংনী জোনাল অফিসের আওতায় সেচ নীতিমালা না মেনে টাকার বিনিময়ে কমান্ডিং এরিয়ার মধ্যে সংযোগ প্রাদান করেন।

সমিতির রেস্ট হাউসে বসে মদ ও মেয়ে নিয়ে অসভ্যতা করার অভিযোগও উঠেছে জিএম এর বিরুদ্ধে। এ কাজে সহযোগিতা করেন দুই এজিএম।

মিটার ও সার্ভিস তাঁর আরইবি হতে সাপ্লাই করলেও সংশ্লিষ্ট এজিএম টাকার বিনিময়ে কাট আওট, সার্ভিস তাঁর, মিটার দিয়ে থাকেন।
সমিতির নতুন সভাপতি একজন আওয়ামী লীগের দোসর হওয়ার পরও পুনরায় তাকেই পরিচালক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মোজাহিদুল ইসলাম মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও গত মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলে তার নাম রেখে দিয়েছিলেন জিএম। এছাড়া তিনি যোগসাজশ করে যুবলীগ নেতা পেরেশানের কাজিনকে পুনরায় সভাপতি করেছেন। যার মাধ্যমে তিনি পুরোনাদের দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎকে চালানো চেষ্টা করছেন। এছাড়া কৃষক ও সাধারণ গ্রাহকদের যে অভিযোগ আছে তা সুষ্ঠ তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন আরইবি নিয়ণÍ্রণ করেন। এখানে আমরা শুধু দাপ্তরিক কাজ করি। তবে সরকারের নির্দেশনায় সারাদেশেও কোথাও নির্বাচন না হওয়ায় পুনরায় পুরোনা কয়েকজন সদস্য হয়েছে। তাদের ভোটেই সভাপতি নির্বাচত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে এসকল অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্বের কিছূ ভুলক্রুটি হয়ে থাকলেও সামনে যাতে এগুলো না হয় সেদিকে ব্যবস্থা নিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।




মেহেরপুরে সর্বনিম্ন ফিতরা ১০০ টাকা, সর্বোচ্চ ৩৩০০ টাকা

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ফিতরা ও যাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে মেহেরপুর হোটেল বাজার জামে মসজিদে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে এই নিসাব নির্ধারণ করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা রোকনুজ্জামান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সিরাজ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. আব্দুল ওহাব, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা জামাল উদ্দীন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাওলানা ইদ্রিস আলী, সদস্য মাওলানা সাইফুল ইসলাম এবং উপদেষ্টা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য মুসল্লিগণ।

সভায় ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয় সর্বনিম্ন ১০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৩৩০০ টাকা জনপ্রতি।

এছাড়া, যাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয়। সমস্ত ব্যক্তিগত খরচ বাদ দিয়ে সর্বনিম্ন ৮০,৩৭৫ টাকা সঞ্চিত থাকলে, সেই টাকার আড়াই শতাংশ (২.৫%) হারে যাকাত প্রদান করতে হবে।




মুজিবনগরে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

উম্মাহর স্বার্থে, সুন্নাহর সাথে এই স্লোগানে মুজিবনগরে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসহায়দের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মুজিবনগর কমপ্লেক্স মাঠে “ভাবনাহীন সিয়াম সাধনা” নিশ্চিত করতে উপজেলার ৮০ জন অসহায় নারী ও পুরুষের মাঝে এসব ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পলাশ মণ্ডল, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহমুদুল হাসান, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী ওমর ফারুক প্রিন্স, সহ-সভাপতি খাইরুল বাসার, সাধারণ সম্পাদক হাসান মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্র প্রতিনিধি আরিফ খান ও শাওন শেখ।

এসময় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন আশিক শেখ, আবিদ রেজা, জাহাঙ্গীর আলম, পারভেজ, তরিকুল ইসলাম, সাদ্দাম ও সিলন।




কোটচাঁদপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চাঁদপাড়া রেলগেট এলাকা থেকে চল্লিশোর্ধ ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়র জানায়, চাঁদপাড়া রেলগেট থেকে ২’শ দুরে মাঠের মধ্যে রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি কবির হোসেন মাতব্বর বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।” এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।




মেহেরপুরে শিশুশ্রম পরিবিক্ষণ কমিটির সেমিনার

“সুস্থ শ্রমিক, শোভন কর্মপরিবেশ; গড়ে তুলবে স্মার্ট বাংলাদেশ ” এই প্রতিপাদ্যে মেহেরপুরে জেলা শিশুশ্রম পরিবিক্ষণ কমিটির সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ। জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিষদ অধিপত্য এর আয়োজনে সেমিনারে কুষ্টিয়া শিশু শ্রম পরিবিক্ষণ কমিটির উপ-মহাপরিদর্শক মোঃ ফরহাদ ওহাবের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া কলকারখানা শ্রম পরিদর্শক শওকত আলী, কুষ্টিয়া কলকারখানা শ্রম পরিদর্শক মোঃ ইশতিয়াক, জেলা সমাজে কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আসাদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (অ:দা:) নাসিমা খাতুন, পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

সেমিনার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক অংশগ্রহণ করে। সেমিনারে বক্তারা শিশুশ্রম নিরসন, শিশু শ্রম আইন, শিশুদের যথাযথ বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেন।




রোজা রেখেও ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি এড়াবেন যেভাবে

রমজান মাসে বিশ্বজুড়ে রোজা পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ এই রোজা। এই মাস জুড়ে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

এই দীর্ঘ সময় খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা থাকলেও, কেউ কেউ এই মাসে তাদের খাদ্যাভ্যাসের আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করতে পারে। অথবা অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময়ের জন্য খাদ্য ও পানীয় পরিহার করার ফলে অনেকেই এক ধরনের ক্লান্তি এবং অবসাদ অনুভব করতে পারেন। আবার যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড সুগারের মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন তাদের এই উপবাস কষ্টকর হতে পারে।

এখানে স্বাস্থ্যকর উপায়ে রোজা রাখার জন্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বিবিসি অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেছে। যার মাধ্যমে অনেকেই রমজান মাসে কীভাবে কাটাবেন তার পরিকল্পনা করতে পারেন।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমন কিছু কার্যকর পদ্ধতির কথা এখানে বলা হবে যা অনুসরণ করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

তিন ধাপে সেহরি

রোজাদার ব্যক্তি দিনের প্রথম আহার হল সেহরি। এই সময়ে তিনি যা খাবেন তা নির্ধারণ করবে যে তিনি সারাদিন রোজা রাখার সময় কতোটা ক্লান্ত, তৃষ্ণার্ত বা ক্ষুধার্ত বোধ করবেন।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ফাদি আব্বাস পরামর্শ দিয়েছেন যে নিম্নলিখিত টিপস অনুসরণ করলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা সহজ হবে, শরীরে পানিশূন্যতা কম হবে যা স্বাস্থ্য ঠিক রাখবে।

আব্বাস বলেছেন, সেহরিতে আপনার উচিত এমন সব খাবারের দিকে মনোনিবেশ করা যাতে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি থাকে।

তার মতে, খাবারটি তিন ধাপে খাওয়া উচিত এবং এক ধাপের সঙ্গে আরেক ধাপের যেন পাঁচ মিনিটের ব্যবধান থাকে।সেহরি শুরু করতে হবে সালাদ দিয়ে। এতে থাকতে পারে শসা, লেটুস ইত্যাদি। তবে খেয়াল রাখতে হবে সালাদে যেন লবণ বেশি না থাকে।

কেননা লবণ বেশি খেলে কয়েক ঘণ্টা পরে শরীরে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। পনির এবং বাদামের অনেক উপকারিতা থাকলেও এতে থাকা লবণের কারণে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়।

তিনি বলছেন, সেহরির দ্বিতীয় ধাপে ক্ষেত্রে হবে শর্করা ও চিনি জাতীয় খাবার। এক্ষেত্রে দুই তিন টুকরো বা এক কাপ তাজা ফল খাওয়া ভাল, যেগুলোয় পানির পরিমাণ বেশি। যেমন তরমুজ, কমলা। চাইলে এসব ফলের জুস করেও খেতে পারেন এক কাপ পরিমাণে। এরপর তৃতীয় বা শেষ ধাপে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে।

রোজা রাখার সময় সেহরিতে চা এবং কফি পান করা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। কারণ এসব পানি হল মূত্রবর্ধক এবং এতে ক্যাফিন থাকে। এতে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যাবে।

শরীরের তরল কমে যাওয়া মানে তা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। না হলে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হবে। এর ফলে মাথাব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্লান্ত বা অলস বোধ করলে কী করবেন?

রমজানের টেবিলে খাবারের সমাহার কেমন হবে সেটি একেকটি পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির উপরও নির্ভর করে। আবার রোজার মাসে অনেকে আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইফতার বিনিময় করেন।

এই অভ্যাসের ফলে প্রতিদিন পরিবেশন করা খাবারের বহুগুণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয় এবং এইভাবে প্রত্যেকে বিভিন্ন রকম খাবার উপভোগ করতে পারেন। প্রতিদিন তাদের টেবিলে হরেক রকম খাবার থাকে।

এতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ইফতারে তার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খায়। এতে তার কী ক্ষতি হচ্ছে সেটা তিনি বুঝতে পারেন না।

এই ভুড়িভোজের ফলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, যেমন পেটে ব্যথা, পেট ভার লাগা, অলসতা, ঘুম ঘুম ভাব ইত্যাদি হয়।

তবে, কিছু মানুষের জন্য সমস্যাটি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে যদি তার উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তে চিনির মাত্রা বেশি থাকে।

ফাদি আব্বাসের মতে, রোজার প্রথম দিনগুলি সবচেয়ে কঠিন, কারণ শক্তির উৎস হিসাবে শরীরের চর্বির প্রয়োজন শুরু হয় চার দিনের পর থেকে।

আব্বাস বলেন, সেহরির মতো ইফতারও তিনটি পর্যায়ে খেতে হবে, এক খাবার থেকে পরের খাবারের মধ্যে ছয় মিনিটের ব্যবধানে থাকতে হবে।

কারণ, আপনার পেট ভরেছে কিনা মস্তিষ্কের সেই সংকেত পেতে ১৮ মিনিট সময় লাগে। তাই এই সময়ের কথা মাথায় রেখেই খাবারের ধাপগুলো সাজানো প্রয়োজন।

ফাদি আব্বাস ভাষ্য, প্রথম পর্যায়ে এক কাপ পানি খেয়ে রোজা ভাঙার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পানি খেতে হবে বসে থাকা অবস্থায় এবং তিনটি ধাপেই পানি যোগ করতে হবে।

ছয় মিনিট পর, দ্বিতীয় ধাপে আপনি রোজার সময় শরীরের যে শক্তি হারিয়েছেন তা পূরণ করবেন। এজন্য চিনি ও শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া শুরু করেন। সেটা হাতে তৈরি খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক খাবার হলে ভালো যেমন খেজুর বা তাজা ফলের রস।

তৃতীয় ধাপ শুরুর আগে আরও ছয় মিনিট অপেক্ষা করার কথা জানান ফাদি আব্বাস। পেটে চাপ না দেওয়ার জন্য একটি থালায় ছোট ছোট করে কাটা সালাদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শাকসবজিতে থাকা ফাইবার শরীরকে ভিটামিন সরবরাহ করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে খুব প্রয়োজনীয়।

তিনি আরও বলেন, সালাদের পরে, আপনার খুব বেশি হলে একটি বা দুটি খাবার খাওয়া উচিত, যাতে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আলু, ভাত, রুটি, পিঠা, খিচুরি ইত্যাদি।

শুধুমাত্র এক ধরনের খাবারই বেছে নেবেন। একইভাবে প্রোটিনের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র এক ধরনের খাবার খাবেন যেমন: বিভিন্ন ধরনের শস্য, ডিম, চর্বিহীন মাংস, এবং দুগ্ধজাত খাবার।

এসব খাবার কতোটা চিবিয়ে খাচ্ছেন সেটাও জরুরি। খাবার নরম হলে ৩০ সেকেন্ড ধরে চাবাবেন এবং শক্ত হলে যেমন যেমন মাংস এবং বাদাম এগুলো খেতে এক মিনিট ধরে চিবিয়ে খাবেন।

শরীরের জন্য প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও, একবারে অনেক পানি খাওয়া এবং ভুল উপায়ে প্রচুর পরিমাণে পান করা অন্ত্র এবং কিডনির কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অতএব, আপনাকে অবশ্যই একটি স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং সকালের নাস্তা খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে একবারে দুই কাপের বেশি পানি পান করবেন না।

তবে পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার তৃষ্ণার্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়, বরং প্রতি ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টা পর পর আপনার পানি পান করা উচিত। এমনকি পানি পান করার সময় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনি অ্যালার্ম সেট করতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি




ঝিনাইদহে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

ঝিনাইদহে ১ হাজার ৩৫০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া আক্তার চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ নবী, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জুনাইদ হাবীবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, গ্রীষ্মকালীন মুগ ও তিলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ৩৫০ কৃষককে এ উপকরণ দেওয়া হয়। ৮০০ কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নতজাতের মুগ বীজ ও ১৫ কেজি রাসায়নিক সার এবং সাড়ে ৫০০ কৃষকের প্রত্যেকে ১ কেজি গ্রীষ্মকালীন তিল ও ১৫ কেজি রাসায়নিক সার দেওয়া হয়।




মেহেরপুরে নদ-নদী পুনঃখনন ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গণশুনানি

মেহেরপুরে নদ-নদী পুনঃখনন ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রকল্প প্রণয়নে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বেলা ১১টায় মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি নীলকুঠি সংলগ্ন কাজলা নদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মূয়ীদুর রহমান।

এছাড়াও গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন প্রকৃতি ও পরিবেশবিদ এনামুল আজিম, পৌর কলেজের প্রভাষক আলিম উদ্দীন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুব উল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

গণশুনানিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজাইন অনুযায়ী কাজলা নদী, সেউটিয়াসহ অন্যান্য নদ-নদী ও খাল পুনঃখনন এবং সঠিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দাবি জানানো হয়। স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




ঘুমিয়েই পার অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, আনুশকা দোষ চাপালেন ছেলের ওপর

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দারুণ পারফরম্যান্স টিম ইন্ডিয়ার। বিরাট কোহলির চমৎকার হাফসেঞ্চুরির সাহায্যে অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনাল ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে ভারত। এই ম্যাচের দিনও মাঠে হাজির ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। তাকে ভিআইপি স্ট্যান্ডে বিরাটকে সমর্থন করতে এবং টিম ইন্ডিয়ার জন্য চিয়ার করতে বারবার দেখা গেছে। তবে ম্যাচের মাঝের একটি মুহূর্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। আপাতত সেই ভিডিওই তুমুল ভাইরাল সামাজিক মাধ্যমে।

এক্সে ব্যবহারকারী কিছু নেটিজেন ম্যাচের সময় আনুশকার ঘুমিয়ে পড়ার ভিডিওটি শেয়ার করে নিয়েছেন। সাদা রঙের টপ পরে আনুশকাকে মাথা হেলিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এক নেটিজেন ক্লিপটি শেয়ার করে লিখেছেন আনুশকা ঘুমিয়ে পড়েছেন। আচ্ছা ম্যাচ কি এতটাই বোরিং ছিল?

আরেকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, বেচারি খুব ক্লান্ত। দুটো ছোট বাচ্চা সামলেও ম্যাচ দেখতে এসেছে। তৃতীয়জন লিখেছেন— মনে হচ্ছে অকায় এখনো রাতে ঘুমাতে শুরু করেনি। তাই তো ম্যাচের মাঝে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন আনুশকা।

যদিও আবার একাংশ মানতে নারাজ যে, আনুশকা ঘুমিয়েছিলেন। একজন লিখেছেন  আরে বাবা প্রার্থনা করছে। এ রকমটা আগেও দেখা গেছে। আরেকজন লিখেছেন— বিরাটের জন্য প্রার্থনা করছে। এভাবে গালে হাত রেখে কে ঘুমায়।

সেমিফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে ভারত।

উল্লেখ্য, আনুশকা শর্মা ক্যারিয়ার থেকে অনেক দিন ধরেই বিরতি নিয়েছেন। মেয়ে ভামিকার জন্মের পর মাত্র একটা সিনেমাতে কাজ করেছেন, যা ছিল ঝুলন গোস্বামীর বায়োপিক। যদিও সেই সিনেমার কাজ তিনি হাতে নিয়েছিলেন প্রেগন্যান্সির আগেই। তবে নানা জটিলতার কারণে আটকে দেয় ‘চাকদা এক্সপ্রেস’-এর মুক্তি।

আনুশকাকে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘জিরো’-তে দেখা গিয়েছিল, যেখানে শাহরুখ খান ও ক্যাটরিনা কাইফও প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তবে ছবিটি ব্যর্থ হয়েছিল।

২০২১ সালে জন্ম হয় ভামিকার। এরপর ২০২৪ সালের শুরুতে জন্ম হয় অকায়ের। আপাতত দুই সন্তানেই বেশি ফোকাস আনুশকার। সেভাবে ভারতেও থাকেন না অভিনেত্রী। মাঝে শোনা গিয়েছিল বউ-সন্তান নিয়ে পাকাপাকিভাবে ভারত ছেড়ে লন্ডনে বাস করছেন বিরাট। আজকাল বেশিরভাগ তাদের সেই শহরেই দেখা যায়।

সূত্র: যুগান্তর