মেহেরপুরে ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক দুই মাদক ব্যবসায়ী

৯ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম।

আটক মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাহিরমাদি গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান জোয়ার্দারের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪০) ও একই গ্রামের আজিজুল সর্দারের ছেলে সজিব সর্দার ওরফে সজিব পারভেজ (৩৬)। এসময় তাদের বহনকাজে ব্যবহৃত নাম্বার বিহীন একটি টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে গাংনী উপজেলার মহেশপুর ডোবাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গাঁজাসহ আটক করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক আবুল হাসেম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক আবুল হাসেম জানান,ভারতীয় সীমান্ত থেকে গাঁজা নিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ী জোড়পুকুরিয়া বাজার হয়ে ষোলটাকার মধ্য দিয়ে যাবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর ডোবাপাড়া এলাকায় অবস্থান নিই। এসময় মোটরসাইকেল যোগে দুই মাদক ব্যবসায়ী যাওয়ার সময় তাদের গতিরোধ করি। পরে তারা গাঁজা ও মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা তাদের দুজনকে আটক করেন।

এ ঘটনায় গাংনী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও গাঁজা হস্তান্তর করা হয়েছে।




মেহেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই যুবকের কারাদণ্ড, জরিমানা আদায়

মেহেরপুরে মাদক সেবন করে মাতলামি করে সামাজিক অবক্ষয় করার অভিযোগে রিপন হোসেন ও রাসেল আহমেদ নামের ২ যুবককে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

সাজাপ্রাপ্ত রিপন হোসেন সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের মন্টু আলীর ছেলে এবং রাসেল আহমেদ মেহেরপুর শহরের শিশু বাগান পাড়ার ঝড়ুর ছেলে।

গতকাল সোমবার বিকালে মেহেরপুর সদর উপজেলা চাঁদবিলে গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রিপন ও রাসেলকে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

মেহেরপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজী মূয়ীদুর রহমান এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজী মূয়ীদুর রহমান বলেন, মাদকাসক্ত রিপন হোসেন ও রাসেল আহমেদ তাদের দোষ স্বীকার করায় তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মাদক সেবন করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে রিপন ও রাসেলকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে নেন মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।




প্রকাশিত হলো মেহেরপুরের লেখক খালিদ মোশারফের বই

মেহেরপুরের সন্তান খালিম মোশারফের ’শিক্ষা ও শিক্ষক’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার সহজ প্রকাশ থেকে। বইটি বাংলাদেশের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পাওয়া যাবে। বইটি অনলাইনে রকমারি থেকে কেনা যাবে। মেহেরপুরের রাজ্জাক লাইব্রেরিতে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। অথবা এই নম্বরে ০১৭৭৬১৬২২২৮ কল দিয়ে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।

যে কোন পাঠক বইটি পড়লে প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশু শিখন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবেন। ‘শিক্ষা ও শিক্ষক’ বই এর প্রতিটি প্রবন্ধ প্রাথমিক শিক্ষা জগতকে শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চোখ দিয়ে দেখার একটি সাবলীল পাঠ হিসেবে কাজ করে। এই বইটি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান গতিধারা অন্বেষণে আগ্রহী করে তুলবে।

লেখক খালিদ মোশারফ বর্তমানে ইন্সট্রাক্টর (জেনারেল) হিসেবে পিটিআইতে কর্মরত আছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর থেকে ২০১২ সালে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষামূলক প্রজেক্টে কাজ করেছেন। তিনি জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। বইটিতে তিনি শিক্ষা নিয়ে তার বিস্তৃত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।




মুজিবনগরে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

মুজিবনগরে ২০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ফেনসিডিল সহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক মুজিবনগর থানা পুলিশ।

আটকমাদক ব্যবসায়ী উপজেলার তারানগর গ্রামের চাঁদ আলীর (চান্দু) ছেলে সাইফুল শেখ(৪২)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজ্জ্বল দত্তের নির্দেশে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স মুজিবনগর আট কবর সড়কের রতনপুর হরণের বটতলা থেকে তারানগর মাদারতলা রোডের জহরুলের বাগানের কাছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ফেনসিডিল বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করা সাইফুল শেখকে আটক করে তার শরীর তল্লাশি করে হাতে থাকা ব্যাগের ভেতর থেকে ২০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজ্জ্বল কুমার দত্ত জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদ এর ভিত্তিতে ফেনসিডিল সহ সাইফুল শেখকে আটক করা হয়েছে। তার নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।




দামুড়হুদায় শিশুপাচারকারী সন্দেহে ৩ মহিলা আটক

দামুড়হুদায় নারীপাচারকারী সন্দেহে ৩ জন মহিলাকে আটক করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার হাতিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ হাঁটখোলাপাড়ার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী শেফালী খাতুন(৫০), শাহাজাহান আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৪৮) ও আইয়ুব ফকির এর স্ত্রী মালেকা খাতুন (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার হাতিভাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী হাতিভাঙ্গা গ্রামের রিপন আলীর মেয়ে রিয়া খাতুন (১১), সুইট আলীর মেয়ে সারিকা (১১) দ্বয়কে বিভিন্ন প্রোলোভন দেখিয়ে ৩ জন অপরিচিত মহিলা নিয়ে যেতে চাইলে বাচ্চাদের চিৎকারে এলাকাবাসি ছুটে এসে হাতিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার জনসাধারণ কর্তৃক উক্ত ৩ জন মহিলাকে অপহরণকারী সন্দেহে এলাকাবাসি আটক করে রাখে।

স্থানীয় জনসাধারণ উক্ত মহিলাদের উপর অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয় এবং তারা উক্ত মহিলা আসামিদেরকে পুলিশ হেফাজতে দিবে না মর্মে জানায়। পরবর্তীতে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর কবীর, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা মিতার উপস্থিতিতে ও দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলীর সহযোগিতায় উক্ত আসামীদেরকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

এলাকার লোকজন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুক এর প্রতিও অত্যান্ত খিপ্ত ও চরাও হয়। বিপুল সংখ্যক জনসাধারন স্কুলে অবস্থান করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রধান শিক্ষক সবসময় স্কুলের গেট বন্ধ রাখে, যার কারনে স্কুলের ভিতর কি হচ্ছে না হচ্ছে এলাকাবাসি জানতে পারে না। গ্রেফতারকৃত মহিলা আসামীগন বর্তমানে দামুড়হুদা মডেল থানা হেফাজতে আছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলা পক্রিয়াধীন, আসামীদের আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।




মেহেরপুরে সাদিক ই-বাইক গ্যালারির শুভ উদ্বোধন

বিভিন্ন রকমের স্কিটো মোটরসাইকেল সাইকেল বিভিন্ন ছোট ছেলেদের প্রাইভেট কার পেতে মেহেরপুরে সাদিক ই-বাইক গ্যালারির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ (১৫ জুলাই) বিকেলে সাড়ে ৫ টার দিকে মেহেরপুর শহরের প্রধান সড়ক কাঁশারী বাজার এলাকায় মনা জুয়েলার্সের আরো একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিতা কেটে সাদিক ই বাইক গ্যালারি শুভ উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মনা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান মনা। এ সময় ফিতা কেটে সাদিক ই বাইক গ্যালারির উদ্বোধন করেন হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান।

এছাড়াও হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল শিমন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোমিন, নির্বাহী সদস্য রাশেদ খান, মোঃ আসাদুল ইসলাম খোকন, মোঃ সাইদুল ইসলাম শাকিব,সাদিক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সেখানে সাদিক ই-বাইক গ্যালারির সাফল্য কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।




মুজিবনগরে কৃষকদের মাঝে রোপা আমন ধানের বীজ বিতরণ

মুজিবনগরে কৃষকদের মাঝে রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে খরিপ-২/মৌসুমে রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে আমন ধান বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সাদাত রত্ন এর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই বীজ বিতরণের উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবউদ্দিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা মাশরুবা আলম, বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মল্লিকসহ উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে খরিপ-২/মৌসুমে রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি প্রণোদনার আওতায় উপজেলার ৬ শত কৃষককে ১০ কেজি আমন ধান বীজ ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হবে।




বিষে ভরা বিশ্ব (আষাঢ়ে গল্প)

বিষে ভরা বিশ্ব আজ!! লকডাউন নামের ঢিলেঢালা কারফিউ কে উপেক্ষা করে সকাল-সকাল ভাবলাম যায় একটু ঘুরে আসি খোলা হাওয়ায়।। মনে-মনে ঘোরাঘুরি করাটা আমার স্বভাব। গড়াই নদীর তীর ধরে হেঁটে যেতেই দেখি সামনে একটি জায়গা থেকে কাদের জানি কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে, সামনে এগিয়ে আমি তো অবাক!! বাহ এখানে তো তারার মেলা বসেছে।

রবিবাবু, শরৎ বাবু, জীবনানন্দ বাবু, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আলাউদ্দিন আল আজাদ, শওকত ওসমান, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, নীহাররঞ্জন গুপ্ত, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতি বাবু, লালন ফকির, এমন আরও অনেক কালজয়ী লেখক রা সব বসে আছেন। চাঁদের হাট যেন। তাদের আলাপচারিতার মাঝে হাসি আর আনন্দের কমতি নেই। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা! এই করোনার সময়ে, লেখকদের না আছে মাস্ক না আছে হ্যান্ড গ্লাভস, না আছে কোন সুরক্ষা সামগ্রী দূরত্বের কোনো বালাই নেই। আমি ওখানে দাঁড়িয়েই একজন সুফি ভদ্রলোককে দেখছিলাম অনেকক্ষণ থেকে, হ্যাঁ এই সেই বিষাদ সিন্ধুর লেখক মীর মশাররফ হোসেন। যার লেখা পড়ে বুঝেছিলাম বিধির বিধান অখন্ডিয়। কারবালা প্রান্তর এর যুদ্ধের কথা পড়েছিলাম।

কৌতূহলী মন আমার, আমি লেখককে ডেকে বললাম, এই মহামারীর সময় কেন আপনারা একত্রিত হয়েছেন?? এমন দিনে অন্তত একটি মাস্ক পরতে পারতেন সকলে। এমনসময় লেখকদের মাঝখান থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে একজন বললেন, তোদের অসুস্থ পৃথিবীতে আমরা আর নেই রে!! হঠাৎ দূর থেকে আদম চাচার ডুগডুগির শব্দ ভেসে এলো আমি সম্বিত ফিরে পেলাম, চাচা বলছে এই যে খেলা, পরিবিবির মাজার দেখেন, হোসেনের তাবু দেখেন, এজিদের তাঁবু দেখেন, দেখেন দেখেন মক্কা-মদিনার খেলা দেখেন, বাইশকোপ দ্যাখেন।। যাকে আপনারা বলেন বায়স্কোপ।




মুজিবনগরে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত

মুজিবনগররে উপজেলা পর্যায়ে চলতি জুলাই মাসের বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা সময় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সকল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি সভাসহ এ দিন ১৩ টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সাদাত রত্ন এর সভাপতিত্বে সভাই উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজ্জ্বল কুমার দত্ত, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মেহেদী হাসানসহ সহ অনুষ্ঠিত সভাসমূহের সদস্যবৃন্দ।

এই দিন উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটি, উপজেলা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির ,উপজেলা চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি, উপজেলা ইনোভেশন কমিটি ,উপজেলা আইসিটি কমিটির , উপজেলা পণ্য বিপনণ কমিটির সভা, উপজেলা কর্ণধর কমিটি , উপজেলা যৌতুক, বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং জন্মমৃত্যূনিবন্ধন কমিটি, উপজেলা Watch Dog কমিটি, উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, উপজেলা নারী ও শিশু পাচার রোধকল্পে গঠিত প্রচার কমিটি , উপজেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটি ,কারাবন্ধী শিশু কিশোরদের মুক্তির বিষয় সংক্রান্ত এবং উপজেলা এসডিজি বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।




ভেটেরিনারি সার্জন ছাকিবুলের অনিয়মই যেন নিয়ম!

মেহেরপুর সদর উপজেলার প্রাণি সম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সৈয়দ ছাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে।

এক্সপোজার ভিজিটের টাকা আত্মসাৎ, সরকারি ডরমেটরি কর্মচারির নামে বরাদ্দ নিয়ে নিজে বসবাস, জরুরী সেবায় ব্যবহৃত এমভিসি গাড়িটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, চিকিৎসা সেবা প্রদান করে খামারীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া, নিজে চিকিৎসা না দিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানসহ সীমাহিন অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারে ভুক্তভোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

ডা. সৈয়দ ছাকিবুল ইসলাম ২০২১ সালে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে যোগদান করেন । বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্বে আছেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এক্সপোজার ভিজিট বাবদ বরাদ্দ এসেছে ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। এক্সপোজার ভিজিট বলতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য এক দল খামারিকে তাদের এলাকা থেকে অন্য এলাকার একটি খামার পরিদর্শনকে বোঝায়। অন্য এলাকার খামারিরা যেসব নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন বা উন্নয়ন সাধন করেছেন বা গবেষণা কেন্দ্রে বা খামারে যেসব প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে সেসব কার্যক্রম ভিজিটের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার খামারিদের প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করানো হয়। এ বিষয়ে ব্যয় বাবদ অংশগ্রহণকারীদের ভাতা, এলএসপি ভাতা, ভিএস/ইউএলওদের সম্মানি, পরিবহন খরচ এবং খাবার বাবদ খরচ হয়ে থাকে। ৬৩০ জনের উপর এই ব্যয় হবার কথা এবং দায়িত্বরত অফিসার ১টি ভিজিটের জন্য সম্মানি হিসেবে ১ হাজার টাকা করে পাবেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রকল্পে মোট ৫টি এক্সপোজার ভিজিট সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর ৬ জুলাই ১ম ভিজিটে চুয়াডাঙ্গা জেলার কুলপালায় হাস খামারে ব্যয় হয়েছে ১০০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ৬২ টাকা। ২ জুলাই ২য় ভিজিটে চুয়াডাঙ্গার কোষাঘাটা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ছাগল খামারে ব্যয় হয়েছে ১৪০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৫ টাকা। ৪ জুলাই ৩য় ভিজিটে দামুড়হুদা পোড়াপাড়ার রাজা এগ্রো ফার্মে ব্যয় হয়েছে ১১০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৮০ টাকা। ৮ জুলাই ৪র্থ ভিজিটে বারাদি, আলমডাঙ্গার বারাদিতে তাহাজুদ্দিন এগ্রোতে ব্যয় হয়েছে ১২০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৩০ টাকা। ১০ জুলাই ৫ম ভিজিটে কুষ্টিয়ার মিরপুরে দিশা এগ্রো ফার্মে ব্যয় হয়েছে ১৬০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ৬২হ হাজার ৯৬০ টাকা। ৫টি ভিজিটে ব্যয় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৭ টাকা। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ ছাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তিনি গত ১৩ জুন মেহেরপুর সোনালি ব্যাংক থেকে বরাদ্দের ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা একসাথে উত্তোলন করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পশু-পাখির জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্লিনিকের জন্য এমভিসি নামক একটি ডাবল কেবিন পিকআপ আছে। দ্রুততম সময়ে খামারিদের দোরগোড়ায় জরুরী চিকিৎসাসেবা পৌছানোর জন্য এই গাড়িটি ব্যবহার হয়ে থাকে। খামারিরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা। এর জন্য গাড়িটির একটি হটলাইন নাম্বার ১৬৩৫৮ রয়েছে। এখানে ফোন করে তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া সম্ভব। ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ ছাকিবুল ইসলাম এই গাড়ি ব্যবহার করে খামারিদের সেবা দিচ্ছেন, বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছেন নিয়মিত।

মেহেরপুর সদর উপজেলার উত্তর শালিকা গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলামের কাছে থেকে সেবা দিয়ে টাকা দাবি করেছেন ২২০০ টাকা। খামারি তাকে দিয়েছেন ২০০০ টাকা। একইভাবে শুভরাজপুরের সিরাজের ছেলে খামারি মনিরুল দিয়েছেন ৩৫০০ টাকা। একই গ্রামের ঝন্টু মিয়ার ছেলে খামারি তাহেরের কাছ থেকে ৪০০০ টাকা, একই গ্রামের সিরাজের ছেলে খামারি আমিরুলের কাছ থেকে ২ কিস্তিতে ৩০০০ টাকা, হরিরামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে খামারি শুভ’র কাছ থেকে ২ মাস আগে ৫ হাজার টাকাসহ আরো অনেকের কাছ থেকে চিকিৎসা বাবদ টাকা নিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রাণি সম্পদ সদর অফিসের ২য় তলায় ডরমেটরি আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বেতনের বাড়ি ভাড়া অংশের ২৫ শতাংশ টাকার বিনিময়ে রুম ভাড়া নিতে পারেন। ভেটেরিনারি সার্জনের মূল বেতন বেশি হওয়ায় নিজের নামে ডরমেটরি ভাড়া না নিয়ে কর্মচারি নাজমুল হক (ভিএফএ) এর নামে ১টি রুম বরাদ্দ দেখিয়ে ২টি রুম ফ্যামিলি নিয়ে ব্যবহার করছেন। অফিস সহকারি আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে নাজমুল হক (ভিএফএ) ১২০৪ টাকা ডরমেটরির ১টি রুমের ভাড়া বাবদ সোনালি ব্যাংক প্রধান শাখায় চালানের মাধ্যমে জমা দেন। সেখানে ২টি রুম নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করছেন ডাঃ সার্জন ছাকিবুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো প্রকার চিকিৎসা সম্পর্কিত ডিগ্রী না থাকা সত্ত্বেও প্রাণি সম্পদ হাসপাতালের আউটডোরে প্রেসক্রিপশন লিখছেন, বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করছেন এবং রেজিস্টার খাতা লিখছেন। রোগীর মালিকের নাম, রোগের বিবরণ এবং চিকিৎসা রেজিস্টার খাতায় লিখতে হয়। সেই খাতাটিও বহিরাগতদের দিয়ে করানো হচ্ছে। যা ভেটেরনারি সার্জনের কাছে রেজিস্টার খাতা থাকার কথা। নাজমুল, জনি রাহা, মুফাক্ষেরসহ বহিরাগত আরো অনেকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। সাংবাদিক দেখে অনেকেই দৌড়ে পালিয়ে যান। উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নেমপ্লেটে ভারপ্রাপ্ত শব্দটি না লিখে প্রতারণা করছেন ডাঃ ছাকিবুল ইসলাম। এছাড়াও তার চেম্বারের পুরো টেবিলটিতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানী থেকে দেওয়া ওষুধের নাম সম্বলিত সিল রাখা হয়েছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ ছাকিবুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সবকিছু নিয়মের মধ্যে করা হয়েছে। অন্যান্য প্রকল্পের তথ্য চাওয়া হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ দেবেন্দ্র নাথ সরকার (অ.দা.) বলেন, সদর ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ছাকিবুল ইসলামের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।