দর্শনায় কনস্টেবলের মৃত্যুর ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ইমিগ্রেশন ভবন থেকে পুলিশ কনস্টেবল শামিম রেজা সাজুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের এক মাস পর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহত কনস্টেবলের বাবা হাসেম আলী ফরাজী মঙ্গলবার (২০ মে) দর্শনা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি গ্রহণ করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দিয়েছেন। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান লাভলু জানান, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শামিম রেজা সাজু চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন বিভাগে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ এপ্রিল সকালে চেকপোস্টের নতুন ভবনের দোতলার একটি কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় দর্শনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

তবে এক মাসের বেশি সময় পর নিহতের বাবা আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তারেক মাহমুদ, লাভলুর রহমান, মিঠুন হোসেন, সহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, ইমিগ্রেশন বিভাগের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী ও কনস্টেবল সোহেল রানা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শামিম রেজা বিবাহিত এবং তাঁর পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তান পিত্রালয়ে থাকলেও শামিম দর্শনার নতুন ভবনে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর পারিবারিক জীবনে কোনো অশান্তি ছিল না।

বাদীর দাবি, দর্শনা ইমিগ্রেশনে যোগদানের পর থেকেই শামিম রেজা সহকর্মীদের বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। নানা অজুহাতে আসামিরা তাঁকে হেনস্তা করতেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। প্রতিবাদ করায় শামিমকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ১৭ এপ্রিল ১ থেকে ৫ নম্বর আসামি শামিমকে খুনের হুমকি দিলে তিনি তাঁর সহকর্মী ও একই গ্রামের বাসিন্দা কনস্টেবল সোহেল রানাকে (৭ নম্বর আসামি) হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টি জানান। কিন্তু সোহেল রানা তা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের বিষয়টি জানিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা যৌথভাবে শামিমকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।




ঝিনাইদহে রেলপথ বাস্তবায়নের দাবীতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

ঝিনাইদহ জেলা শহরে রেলপথ চাই বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়ালের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঝিনাইদহ শহরে রেলপথ স্থাপনের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন “ঝিনাইদহ শহরে রেলপথ চাই” বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ওরফে রেল আব্দুল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক আরিফা ইয়াসমীন লিম্পা, মুখ্য সংগঠক আনোয়ার ফিরোজ মাসুম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইফাজ তানভির মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম ও কার্যকরী সদস্য পারভীন সুলতানাসহ সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মী। এবং জেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ কে এম ওয়াজেদ হোসেন। এছাড়াও ঝিনাইদহ শহরের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪

মেহেরপুরের গাংনীতে ২৪ ঘন্টার অভিযানে ০৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গাই অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাংনীর আড়পাড়া পূর্ব পাড়ার মহসিন মোল্লার ছেলে খোকন, মহব্বত, মহব্বত আলীর ছেলে মানিক, নওদাপাড়া তোফাজ্জেল হকের ছেলে আব্দুল ওয়াহেদ ।

গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে । জেলার সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন অপরাধের অপরাধীদের গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।




মুজিবনগরে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ২৪ ঘন্টার অভিযানে ০১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গাই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

গ্রেফতারকৃত হলেন বাগোয়ান মোল্লা পাড়া, থানা- মুজিবনগরের মিনারুল ইসলাম এর স্ত্রী মোছা: দিলিকা খাতুন (৪২) । সিআর নং-৪৬৮/২৪, ধারা- N I Act 138

গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।




কমিটি গঠন কেন অবৈধ না কারণ দর্শাতে আদালতের নোটিশ

মেহেরপুরে বিএনপি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে কমিটি গঠনের অভিযোগে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কমিটি গঠনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

রবিবার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপির ৩ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, শাহদুল করিম, ছানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে মঙ্গলবার বিকালে শুনানি শেষে মেহেরপুরের সিনিয়র সহকারী জজ–২ আদালতের বিচারক মো: মাসুদ রানা এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে দলের গঠনতন্ত্র না মেনে কমিটি নির্বাচন করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে ৯ জন বিবাদীকে ৫ কর্মদিবস সময় বেঁধে দেন।

কারণ দর্শানোর জন্য আদালত যে সকল বিবাদীকে সময় বেঁধে দিয়েছেন, তারা হলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সদস্য সচিব অ্যাড. কামরুল হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে সভাপতি পদে বিজয়ী ঘোষিত মো: ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষিত মো: মমিনুল ইসলাম, তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন–২০২৫ এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো: আব্দুস সালাম, নির্বাচন কমিশনার মো: জুলফিকার আলী এবং অ্যাডভোকেট আরিফুজ্জামান।

জানা গেছে, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে অবৈধভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগে বাদীরা ৯ জনকে বিবাদী করে মেহেরপুর সিনিয়র সহকারী জজ–২ আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন।
মামলা নম্বর: ৭১/২৫।

মঙ্গলবার (২০ মে) বিকাল সাড়ে চারটার সময় মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী এই শুনানিতে অংশ নেন।

মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এএসএম সাইদুর রাজ্জাক এবং মামলাটিতে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাডভোকেট মো: মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৬ অনুচ্ছেদের “খ” ধারা লঙ্ঘন করে দলীয় কমিটি গঠনের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কাউন্সিলের বিধি-বিধান উপেক্ষা করে নিজেদের পছন্দের লোকদের নিয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলকে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন কেন্দ্র বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালত বাদী পক্ষের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিজ্ঞ আদালত এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. কামরুল হাসান বলেন, আমরা আদালতের আদেশের কথা শুনেছি, তবে কাগজ পাইনি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে কারণ দর্শানো হবে।




মেহেরপুরে সাপে কেটে কৃষকের মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে সাপের কেটে আবুল কাশেম (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি মৃত আবু জেহেলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মাঠে মহিষ চরাতে গেলে হঠাৎ একটি বিষধর সাপ আবুল কাশেমকে দংশন করে। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক ওঝার মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রাত ৯টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়।




মেহেরপুরে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪

মেহেরপুরে পুলিশের ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে গাংনীতে তিনজন ও মুজিবনগরে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাত থেকে আজ মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাংনীর নতুন দরবেশপুর স্কুলপাড়ার মৃত মিনারুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুস সালাম (২৩), লক্ষীনারায়ণপুর ধলার আহসানের ছেলে রকি (২২), খাসমহল ৬ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিমপাড়ার মো. নুর হোসেনের ছেলে মো. দবির আলী (৪৩) এবং মুজিবনগরের বাগোয়ান নতুন পাড়ার পটল মীরের ছেলে সলিম মীর (৫০)।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




মেহেরপুরে শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়নে সচেতনতামূলক কর্মশালা

মেহেরপুরে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়নে এবং সামাজিক সচেতনতায় যুবদের ভূমিকা’ শীর্ষক জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুন নাহার, মেহেরপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) জাহাঙ্গীর সেলিম, সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে মূলত বড়রাই, কিন্তু তারা থাকে অদৃশ্যমান। যাদের দেখা যায় তারা তরুণ সমাজ। বিশেষ করে বেকার তরুণরা এসব কর্মকাণ্ডে সহজেই ব্যবহৃত হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী, উদ্যোক্তা, এবং দপ্তরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।




ঝিনাইদহে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে হানিট্যাপ চক্র

ঝিনাইদহে কথিত প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সক্রিয় হানিট্র্যাপ চক্র। স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া বিয়ের কাবিননামা বানিয়ে ব্লাকমেইল করে কয়েকজন যুবকের কাছ থেকেও চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

আইনজীবী সহকারি (মোহরার), পুলিশ সদস্যসহ চক্রটিতে জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। তবে চক্রটির মূলহোতা আসমা খাতুন সাথী নামের এক নারী।

তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া কাবিননামা বানিয়ে, ভুয়া কলরেকর্ড ফাঁসের হুমকি দিয়ে ও মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ভিকটিমরা। এসময় হানিট্যাপ চক্রের মূলহোতা আসমা খাতুন সাথীর শ^শুর কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতারক চক্রের মূলহোতা আসমা খাতুন সাথী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষকে ফাঁদে ফেলে থানায় ভুয়া অভিযোগ দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, অর্থ লেনদেনের মতো ভুয়া অভিযোগ দিয়ে একাধিক মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। পুলিশ ও আদালতের মোহরারকে দিয়ে মামলার ভয়-ভীতি ও গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে বহু মানুষকে হয়রানি করেছেন।

গুলশান আরা ও মর্জিনা খাতুন নামের দুই ভিকটিম অভিযোগ করেন, বারবার নিজের ঠিকানা পাল্টে, স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে আসমা খাতুন সাথীর নেতৃত্বে চক্রটি বহু পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতিনিয়ত তারা টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। আদালতের মোহরার ও কতিপয় অসাদু পুলিশ সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে ওই নারী বেপরোয়া মামলাবাজি করে চলেছে।

ভিকটিমরা জানান, সাথী ও তার চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনটি সংসার ভেঙে গেছে। অনেক পুরুষ মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নারীরা মামলার ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না। এ পর্যন্ত ঠিকানা বদল করে প্রতারক আসমা খাতুন সাথী খুলনা ও ঝিনাইদহের আদালতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভুয়া অভিযোগে ৮টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার বিচারকার্য শুরুর আগেই চক্রটি কথিত বিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভয়-ভীতি দেখান। এক পর্যায়ে সহজ সরল মানুষগুলো চক্রের ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা দিয়ে মামলা থেকে রেহায় পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসমা খাতুন সাথীর সাথে কথা বলতে তার ফোনে কল দেওয়া হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।




হ্যাকারদের দৌরাত্ম্যে বেকায়দায় কোটচাঁদপুরের ভাতাভোগীরা

বিকাশ ও নগদ হ্যাকারদের দৌরাত্ম্যে বেকায়দায় কোটচাঁদপুরের ভাতাভোগীরা। ফোন করে পিন নম্বর চাওয়ায় ভাতার টাকা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৫৫ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। তিন মাস পর পর মোবাইলে তাদেরকে দেওয়া হয় ভাতার টাকা। আর এ টাকা দেওয়ার সময় হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন বিকাশ ও নগদ হ্যাকাররা। ফোন করে ভাতাভোগীদের কাছে চান পিন নম্বর। না দিলে ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে তাদের।

এদের একজন কোটচাঁদপুর তালসার গ্রামের আব্দুল সাত্তার। তিনি বলেন, আমার মা আমেনা খাতুন। উনার নতুন করে বিধবা ভাতার কার্ড হয়েছে। সোমবার রাতে হঠাৎ করে ফোন আসে ০৯৬৩৮৯৭০৬৮৮ নম্বর থেকে। বলেন, “আমি সমাজসেবা অফিস থেকে বলছি। আপনার মোবাইলের পিন নম্বরটা দিন। আপনার মায়ের টাকা এসেছে, পিন দিলে টাকা পাবেন।”

একইভাবে ওই নম্বর থেকে ফোন করা হয় তালসার গ্রামের আকিমুল ইসলাম সাজুর কাছে। তিনি বলেন, “রাত তখন ৯টা বাজে। ওই নম্বর থেকে ফোন করে বলেন, আপনি কি ওয়াদুদ ভুইয়া বলছেন? আমি সমাজসেবা অফিস থেকে বলছি। আপনার নামে টাকা এসেছে। পিন নম্বর দিলে টাকা দিতাম আপনাদের।”

এভাবেই একাধিক ভাতাভোগীর কাছে ফোন করে পিন নম্বর চাইছেন হ্যাকাররা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ। তিনি বলেন, “এ উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৫৫৫ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। যার মধ্যে বয়স্ক ভাতা পান ৬ হাজার ২০৬ জন, বিধবা ২ হাজার ৯৭০ জন, প্রতিবন্ধী ৪ হাজার ৩৭৯ জন। যাদেরকে আমরা তিন মাস পর পর ভাতার টাকা দিয়ে থাকি। আর এ টাকা দেওয়ার সময় হলেই হ্যাকাররা সক্রিয় হয়ে ওঠেন।”

তিনি বলেন, “আজ সকাল থেকে ৭-৮ জন ভাতাভোগীর অভিযোগে জানতে পেরেছি, হ্যাকাররা টাকা নিতে তাদের কাছে পিন নম্বর চায়। তারা পিন নম্বর না দিয়ে অফিসে এসেছেন।”

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ হয়নি। তবে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে প্রায় সময় ভুক্তভোগীরা আসেন। এসব নিয়ে এর আগে অনেক জিডিও আছে থানায়।”