শনিবারে খোলেনি হরিণাকুণ্ডুর ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সরকারী প্রজ্ঞাপনের তোয়াক্কা না করে অন্যান্য সাপ্তাহিক ছুটির মত ১৭ মে শনিবার, স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৭ ও ২৪ মে শনিবার খোলা রাখার নির্দেশ জারি করে সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদুল আযহার বন্ধ উপলক্ষে ক্ষতি পুষাতে এই দ্ইু শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিদ্যালয় খোলা রেখে পাঠদান করাতে করার নির্দেশনা জারি করে। এই দিনে কোন ভাবেই নিজেদের সিদ্ধান্তে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করতে পারবে না।

অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন শনিবার বেলা ১২টায় সরেজমিনে হরিনাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটীয়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিটি রুমে তালা বন্ধ। বিদ্যালয়ের মাঠে কিম্বা শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, নেই কোনো শিক্ষা কার্যক্রমের নমুনা। আশপাশের কয়েকজন গ্রামবাসীর নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন সকালের দিকে কয়েকজন শিক্ষককে দেখেছিলাম প্রাইভেট পড়াতে পরে আর কোন শিক্ষক বা ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা যায়নি। আজ স্কুলে ক্লাস হয়নি বলে জানান প্রতিবেশি নুরুল ইসলাম।

এই অবস্থায় এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্ন উঠেছে কেন তারা সরকারি নির্দেশণা অমান্য করে বিদ্যালয়টি বন্ধ রেখেছে, এর দায়ভার কে নেবে? শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষতিই বা পূরণ করবে কিভাবে?

স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মনে করেণ, এ ধরনের দায়িত্বহীনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কাজী ইউনুচ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দেশনাটি আমাদের বুঝতে ভুল হয়েছে, আমনা ভেবেছি প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা থাকবে সে অনুপাতে অফিস সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খোলা ছিল কোন ছাত্র-ছাত্রী না আসায় অফিস সহকারী ও কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের অফিস বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায়, আগামী শনিবারে আর এমন ভুল হবেনা ঠিক হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে হরিনাকুণ্ডু উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আঃ বারীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলের কার্যক্রম ১০ থেকে ৪টা পর্যন্ত চালু রাখার কথা কোন প্রতিষ্ঠান যদি এটা না করে তাহলে তাদেও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৭ মে শনিবার ক্লাস বন্ধ রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধ শোকজসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




গাংনীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১

মেহেরপুরের গাংনীতে ২৪ ঘন্টার অভিযানে ০১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার রাত থেকে আজ রবিবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গাই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

গ্রেফতারকৃত হলেন চেংগাড়ার মোঃ হারুনুর রশিদের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।




মেহেরপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আধাঘন্টার কালবৈশাখী তাণ্ডবে তছনছ মেহেরপুরের আম-লিচু, উঠতি ফসলি জমি ও গাছপালা। রাত থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল পুরো জেলা। ঝরে পড়েছে আম-লিচু, কাঁঠাল। মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে কলা ও ধানক্ষেত। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা চাষিদের।

শনিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে চলে ঝড়ের তাণ্ডব। আধাঘণ্টা পর ঝড়ের গতি কিছুটা কমলেও এর প্রভাব ছিল রাত ৯টা পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের একটি দুই বিঘার কলাক্ষেত ঝড়ে মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে। আর কয়েকদিন পরই কৃষক ফসল ঘরে তুলতেন। দুই বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি ফসল ধান ও পেঁপের ক্ষতি হয়েছে। ১৫ মে থেকে আম-লিচু সংগ্রহ শুরু করেছেন বাগানিরা। গতকালের ঝড়ে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ আম-লিচু ঝরে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাঁদের।

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মেহেরপুর শহরসহ পুরো জেলা। সকাল থেকে শহর এবং পর্যায়ক্রমে পল্লি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। জেলার কয়েক জায়গায় গাছপালা ভেঙে পড়েছে সড়কের উপর। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মাঠপর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ঝড়ে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। আজ বিকাল অথবা কালকের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।




গাংনীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৩

গাংনীতে পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আজ  শনিবার ভোর পর্যন্ত গাংনীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কাজীপুর (খন্দকারপাড়া) এলাকার মো. জিয়ারত আলী, ভবানীপুরের মো. আলী হোসেনের ছেলে মো. রায়হান কবির, এবং রায়পুর মধ্যপাড়ার মৃ. হাজারী বিশ্বাসের ছেলে মো. ফুরাত আলী ওরফে ফরহাদ হোসেন।

গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি–বিএসএফ পতাকা বৈঠক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক কিছু ইস্যু নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পতাকা বৈঠক করেছে বিজিবি ও বিএসএফ। শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভারতের আহ্বানে জগন্নাথপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শূন্যরেখার কাছে অনুষ্ঠিত হয় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের এ বৈঠক।

বৈঠকে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান এবং ভারতের ১৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী সুভাষ চন্দ্র গাঙ্গুয়া। উপস্থিত ছিলেন উভয় দেশের স্টাফ অফিসার, কোম্পানি কমান্ডার ও ক্যাম্প কমান্ডারগণ।

বৈঠকে বিজিবি অধিনায়ক সীমান্তের ভারতীয় অংশে বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে পোস্ট বা বাংকার নির্মাণ এবং ১৫০ গজের মধ্যে বাঁশ ও কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের বিষয়ে আপত্তি জানান। এছাড়া শূন্যরেখায় ড্রোন উড্ডয়ন এবং বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

বিএসএফ কমান্ড্যান্ট এসব ইস্যুতে সহমত প্রকাশ করে জানান, বর্ষায় ডিউটি পরিচালনার সুবিধার্থে পুরাতন পোস্ট সংস্কার করা হলেও নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে না। পুশইনের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে সে বিষয়ে তিনি সজাগ থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চোরাচালান রোধে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে গরু চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় তা প্রতিরোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দু’পক্ষই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, সীমান্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং তথ্য বিনিময় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা মেইন পিলার ৯৭ ও এর আশপাশের সাব পিলার ও টি-পিলারসমূহ যৌথভাবে পরিদর্শন করেন।




বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হলেন ঝিনাইদহের সাংবাদিক আসিফ কাজল

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নতুন এ্যাডহক কমিটিতে আবারও সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল।

শনিবার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যুগ্ম সচিব আমিনুল ইসলাম এনডিসি এই অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন করেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গঠিত এ কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইমাদুল হক খান। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচ খান আব্দুর রাজ্জাক (রাজ), জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস, শ্যুটার খন্দকার তুহিন আহমেদ, ক্রীড়া সাংবাদিক শেখ দিদারুল ইসলাম, আইনজীবী ও সাবেক খেলোয়াড় অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, ছাত্র প্রতিনিধি মো.মাজহারুল ইসলাম শিহাব এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মো. মাসুদুর রহমান (টনি)।

পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন খুলনা বিভাগের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।
উল্লেখ্য, আসিফ ইকবাল কাজল এর আগেও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

আসিফ কাজল পুনরায় এডহক কমিটিতে স্থান পাওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়ালসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।




ঝিনাইদহে সড়কে ঝরলো আম বিক্রেতার প্রাণ

ঝিনাইদহ শহরে আম বিক্রি করতে যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় লিটন মন্ডল (৪৫) নামে এক আম ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৭ মে) ভোর ৫টার দিকে ঝিনাইদহ সদরের ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের ধানহাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ইজিবাইকে করে আম নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের ফলের আড়তে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী লিটন মন্ডল এসময় ধানহাড়িয়া নিকটে পৌছালে বিপরিত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগে ইজিবাইকটির। এতে লিটন মন্ডল পড়ে গিয়ে চাপা পড়েন আম বহনকারী ইজিবাইকের নিচে।

পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠালে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার শাহ আলম জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই লিটন মন্ডল নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত লিটন মন্ডল মাগুরা সদর উপজেলার বাসতালি গ্রামের শফি মন্ডলের ছেলে। তিনি মৌসমি ফলের ব্যবসা করতেন।

আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, ভোর ৫টার দিকে মাগুরার বাসতৈল এলাকা থেকে ইজিবাইকে আম নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের আড়তে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন লিটন মন্ডল। পথে ধানহাড়িয়ায় পৌঁছালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সামনে থেকে ইজিবাইকে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকের নিচে চাপা পড়েন তিনি। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিনাইদহ হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এখনো আটক করা যায়নি। মরদেহটি পোষ্টমর্টেমের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।




কৃষি ও প্রবাসী আয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড – মনির হায়দার

প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সহকারী (ঐকমত্য) সাংবাদিক মনির হায়দার বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটো জায়গাকে অর্থনীতির মেরুদন্ড বলা হয়। একটি আমাদের কৃষি ও অপরটি প্রবাসী আয়। প্রবাসীদের মর্যাদা দেওয়াসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করছে।

আজ শনিবার (১৭ মে) বেলা ১২ টার দিকে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে প্রবাসির মেধাবী সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, প্রবাসী মৃতের পরিবারকে আর্থিক অনুদান বীমা সুবিধা ও মৃত্যুজনিত চেক বিতরন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই চেক বিতরন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচীব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: ফিরোজ সরকার, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, মেহেরপুর পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম পিপিএম প্রমুখ।

সাংবাদিক মনির হায়দার আরও বলেন, অনেকে গামেন্টস শিল্পকে অর্থনীতির চালিকা শক্তি বলে থাকেন। কারন, এই শিল্পেও দেশের প্রায় ৪০/৫০ লক্ষ লোক কাজ করেন। আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে ৫০ লক্ষ লোক কাজ করলেও প্রবাসী শ্রমিকের তিন ভাগের এক ভাগ। কারণ, আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী রয়েছেন। সে বিবেচনায় আমাদের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান কৃষির পরেই।

বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়া একটি দেশ চলতে পারেনা উল্লেখ করে মনির হায়দার আরও বলেন, একটি রাস্ট্র চালাতে হলে বিদেশী মুদ্রা বা ডলার লাগে। বৈদেশিক মুদ্রা দুই ভাবে আসে একটি হলো রেমিন্টেস পার্টনার ও বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে। গর্মেন্টস সেক্টরে পণ্য রপ্তানি করে ৩৫ বিলিয়ন ডলার আয় হয়। তবে সেখানে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে ৩২ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। তাই গার্মেন্টস সেক্টর থেকে আমাদের অর্থনীতিতে ৩ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়। সেখানে প্রবাসীদের থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয় পুরোটাই অর্থনীতিতে যুক্ত হয়। সুতরাং প্রবাসীর আয় আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো যারা কথা বলেছে, অতীতের সরকার প্রবাসীদের মর্যাদা ও গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। অথচ, তারা প্রবাসীদের জন্য কোনো কিছুই করেনি। ড. ইউনুস সরকার আসার পর এক মাসের মধ্যেই বিমাবন্দরে প্রবাসীদের জন্য একটি লাউঞ্জ চালু করেছে। সেই লাউঞ্জে প্রবাসীরা যাওয়া এবং আসার সময় বসে বিভিন্ন রকম সেবা পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বর্তমানে প্রবাসীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা ও তাদের মর্যাদাসহ সকল ধরণের কাজ করছে।

এসময় মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তাজ উদ্দীন খান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, জজ্বকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর সাদ্দাম হোসেন, জেলা বিএনপির নেতা ও আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন,জামায়াতের মেহেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারী জেনারেল ইকবাল হোসাইন, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক কালু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখার সদস্য সচীব মোজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৫৪ জন প্রবাসী, প্রবাসে গিয়ে মৃত্যু, প্রবাসীদের পরিবারকে বীমার এক কোটি ৯৩ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।




শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৩

মাগুরার আট বছরের শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এ রায় দেন।

আলোচিত এই মামলায় আসামি ছিলেন, শিশুটির বড় বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা রোকেয়া বেগম।

আদালত মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া মামলার অন্য আসামিরা- বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা রোকেয়া বেগমকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল আলোচিত মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন ২৯ জন। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানি করে ১২ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল অ্যাভিডেন্স ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, এ মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি, মেডিকেল রিপোর্ট, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য এবং মামলার মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমাণ করতে পেরেছে।

ফলে একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে অমানবিক পাশবিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে, তার জন্য আসামিদের আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেবে, যা বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এর আগে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, মাগুরায় আট বছরের শিশুর সঙ্গে বর্বর পাশবিক ঘটনায় সারা দেশ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরাও এ ঘৃণ্য ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি জানায়।

মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসে গত ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। এ ঘটনার পর মাগুরাসহ সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। গত ৮ মার্চ পুলিশের অভিযুক্ত এ চারজনকেই আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন শিশুর মা আয়েশা আক্তার।

ধর্ষণের ঘটনার পর শিশুকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল এবং পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।

এ ঘটনার পর পুলিশের রিমান্ড চলাকালে মামলার মূল আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। যেখানে এ ঘটনায় সে একাই জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেয়।

গত ১৩ এপ্রিল চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আলাউদ্দিন সরদার শিশুটির মায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত চার আসামি আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, বোনের শাশুড়ি জাহেদা বেগম, বোনজামাই সজীব শেখ ও সজীবের বড় ভাই রাতুল শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২৩ এপ্রিল চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ২৭ এপ্রিল বাদীসহ তিনজনের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে সাক্ষীর কার্যক্রম শুরু হয়ে ৭ মে অষ্টম কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্য পর্ব শেষ হয়।

৮ মে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ছাড়া ১২ ও ১৩ মে যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত।




এবারের কোরবানির চমক মেহেরপুরের ‘কালামানিক’

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিশাল আকৃতির একটি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। নজরকাড়া ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির ওজন ২১/২২ মণ। দুই বছর ধরে গরুটিকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন ওই গ্রামের পূর্বপাড়ার শাহারুল ইসলাম। দেখতে কুচকুচে কালো এবং বড় হওয়ায় গরুটির নাম রেখেছেন ‘কালামানিক’।

দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কালামানিকের ঘরে চলে ফ্যান। গোসল করানো হয় দিনে দুই-তিন বার। কালামানিকের নিয়মিত খাবারে মধ্যে রয়েছে খৈল, কাঁচা ঘাস, বিচালি, ভুট্টার ময়দা, চালের কুড়া। পরম যত্নে পালিত কালামানিক জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি শাহারুল ইসলামের। ১৮ লাখ টাকা দাম উঠলেও তিনি গরুটির দাম হাঁকছেন ২৫ লাখ টাকা।

শাহারুল ইসলাম বলেন, জেলার মধ্যে বড় গরু কালামানিক। দুই বছর ধরে গরুটিকে পালন করছি। কেমিক্যাল জাতীয় খাবার না খাইয়ে আমি ভুসি, গমের ছাল, কাঁচা ঘাস, বিচালি খাওয়াই। খাবারের দাম অনেক বেশি। তাই কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গরুটি বিক্রি করে একটু লাভের আশা করছি। এতো বড় গরু একা পালন করা সম্ভব হয় না । তাই স্ত্রী ও ছেলে সব সময় আমাকে সহযোগিতা করে। প্রাণিসম্পদ অফিসও আমাকে সহায়তা ও বিভিন্ন পরামর্শ দেয়।

এদিকে কালামানিককে খাওয়ানো, গোসল করা থেকে শুরু করে পরম আদর যত্ন করেন শাহারুলের ছেলে সামিউল। আর এ কারণেই তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে মধুর সম্পর্ক।

সামিউল বলে, বাইরের কেউ গরুর কাছে গেলে রেগে যায়। তবে আমি গেলে শান্ত হয়ে যায়।
নিজের সন্তানের মতো যত্নে বড় করা কালামানিককে আসন্ন কোরবানিতে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান শাহারুলের স্ত্রী বিলকিস খাতুন। তিনি বলেন, স্বামী বাইরে কাজে গেলে আমি কালামানিককে দেখাশোনা করি।

শাহারুলের ভাই জিনারুল বলেন, বড় ভাই দুই বছর ধরে যত্ন করে গরুটিকে বড় করেছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে অনেকেই গরুটিকে দেখত আসছে। অনেকে আশানুরুপ দাম বলেছে। আমিও এমন একটি গরু এবার পালন করতে চাই।

প্রতিবেশী দুলাল মিয়া বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকারক বা হরমোন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার না করে দেশীয় খাবার বিচালি, চালের কুড়া, খৈল, কাঁচা ঘাস খাইয়ে শাহারুল গরু লালন-পালন করেছেন। কোরবানি ঈদে দাম ভালো পেলে এলাকার অনেকেই কালামানিকের মতো এমন গরু পালন করতে চান।

মেহেরপুর প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার ব্যানার্জী বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে শাহারুল যে গরুটি লালন-পালন করেছেন তা জেলার মধ্যে অন্যতম একটি বড় গরু। বাণিজ্যিক ও প্রান্তিক খামারিদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ২৬ হাজার ৪৭টি খামারে মোট ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৩টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২৯৭টি গরু, ১ লাখ ১৫ হাজার ছাগল, ২ হাজার ৬৯৪টি ভেড়া এবং ৭৬২টি মহিষ রয়েছে।