সকালে ডাবের পানি খেলে কী হয়

সকালে উঠে কী খেলে শরীর ভালো থাকবে, কী খাওয়া ঠিক নয় তা নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেন। বেশিরভাগ সময় ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি খেয়ে নেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সকাল বেলা পানির বদলে ডাবের পানি খেতে পারলে সেটির গুনাগুণ অনেকাংশেই বেশি। কেননা শরীরে পুষ্টি জোগাতে ডাবের পানির তুলনা নেই। এছাড়া অনেকেরই অভ্যাস আছে সকালে উঠে খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার।

চলুন জেনে নিই সকালে ডাবের পানি খাওয়ার যত উপকারিতা-

১.হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে
ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম থাকে। যেটি হাড়কে শক্ত-পোক্ত করে তোলার পাশাপাশি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও ডাবে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়ামও এক্ষেত্রে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

২.শরীরকে বিষমুক্ত করে
দেহের প্রতিটি কোণায় উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিতে এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে নানাবিধ রোগ যেমন শরীরের ধারে কাঁছে ঘেঁষতে পারে না, ঠিক তেমনি সার্বিকভাবেও শরীরিক ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

৩.ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে
ডাবের পানিতে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং ডায়াটারি ফাইবার ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এই কারণেই রোজের ডায়েটে ডাবকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৪.কিডনির ক্ষমতা বাড়ে
প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে ডাবের পানি কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেইসঙ্গে শরীরে উপস্থিত টক্সিন উপাদানদের ইউরিনের সঙ্গে বের করে দিয়ে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়।

৪.পানির ঘাটতি মেটে
ডাবের পানি শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গেই দেহে পানির ঘাটতি মিটতে শুরু করে। একইসঙ্গে এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট কম্পোজিশান ডায়ারিয়া, বমি এবং অতিরিক্ত ঘামের পর শরীরের ভিতরে খনিজের ঘাটতি মেটাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫.শরীর এবং ত্বকের বয়স কমে
ডাবের পানিতে রয়েছে সাইটোকিনিস নামে একটি অ্যান্টি-এজিং উপাদান, যা শরীরের ওপর বয়সের ছাপ পরতে দেয় না। সেইসঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬.ওজন হ্রাস পায়
ডাবের পানিতে বেশ কিছু উপকারি এনজাইম আছে। যেটি হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেটাবলিজমের উন্নতিতেও সাহায্য করে থাকে। ফলে খাবার খাওয়া মাত্র তা এত ভালো ভাবে হজম হয়ে যায় যে শরীরে হজম না হওয়া খাবার মেদ হিসেবে জমার সুযোগই পায় না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।

৭.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন এবং পাইরিডোক্সিনের মতো উপকারি উপদানে ভরপুর ডাবের পানি প্রতিদিন পান করলে শরীরের শক্তি এতটা বৃদ্ধি পায় যে জীবাণুরা কোনওভাবেই ক্ষতি করার সুযোগ পায় না। সেইসঙ্গে ডাবের পানিতে অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল প্রপাটিজ নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮.হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে
শরীরে বাজে কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর পরিমাণ কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডাবের পানির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। দেহে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমাতেও ডাবের পানি বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

৯. মানসিক চাপ কমাতে পারে
ডাবের পানি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে সাইটোকিনিন নামক একটি যৌগ রয়েছে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এই যৌগটিতে মানুষের মধ্যে বার্ধক্য বিরোধী এবং মানসিক চাপ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। সকালে ডাবের পানি পান করলে তা মানসিক চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

সূত্র: ইত্তেফাক




মেহেরপুরে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত

“স্নায়ু বৈচিত্রকে বরণ করি, টেকসই সমাজ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অটিজম সচেতনতা বিষয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এছাড়াও সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।




৫ আগস্টের আগে তৈরি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেবে না পিএসসি

গত বছরের ৫ আগস্টের আগে তৈরি বা ছাপানো যেকোনো প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে বিসিএসসহ নন–ক্যাডার পদে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

মঙ্গলবার পিএসসির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পিএসসির একটি সূত্র জানায়, বর্তমান কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আগে তৈরি বা ছাপানো কোনো প্রশ্নপত্র বা ম্যানুস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে আর কোনো নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করবে না কমিশন। পাশাপাশি বিজি প্রেসে আর কোনো নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে। পিএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অনুরোধ করেছে, কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে যেন প্রভাবিত না হন।

এদিকে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা পিএসসির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

পিএসসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। এ ধরনের গুজব বা ভুয়া তথ্য বিসিএস পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের বিভ্রান্ত করার জন্য প্রচার করা হচ্ছে, যা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি পিএসসি অনুরোধ জানিয়েছে, সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে তথ্য যাচাই না করে বিসিএস পরীক্ষা বা প্রশ্নপত্রসংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রচার না করার জন্য।

সূত্র: যুগান্তর




কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন নারী ও শিশু ঢাকার বাড্ডা থেকে উদ্ধার

কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে তিন নারী ও এক শিশু নিখোঁজের একদিন পর তাদেরকে রাজধানীর বাড্ডা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার তালবাড়িয়া পশ্চিম রানাখড়িয়া এলাকার আবুদর রাজ্জাকের মেয়ে আফরোজা খাতুন (১৬), মো. রানার মেয়ে অথৈই খাতুন (১৭), মো. আরিফুল ইসলামের মেয়ে আনিকা খাতুন (২১) ও তার নাতি ছেলে মো. আনাছ (১৯ মাস)।

মিরপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল আজিজ ও এসআই শরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে। এসময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পরিবারের অবহেলার স্বীকার এবং নিজেরা আয়-রোজগার করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যদের সেভেন-আপ এর মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা কাজ শুরু করি। অতঃপর মিরপুর থানার চৌকস একটি অভিযানিক দল রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে তাদের উদ্ধার করে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সেভেন-আপের মধ্যে চেতনানাশক খাইয়ে একই পরিবারের তিন নারীসহ শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল।




কুষ্টিয়ায় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেছেন, “অটিজমে আক্রান্ত প্রতিটি শিশুই বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন। তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কোনো না কোনো বিষয়ে দক্ষতা থাকে। এমন অনেক শিশু আছে, যারা অটিজমে আক্রান্ত হলেও মাত্রা কম; তারা স্বাভাবিক শিশুদের মতোই লেখাপড়া করতে পারে। আবার অনেকের গাণিতিক দক্ষতা স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। তাই কোনোভাবেই তাদের পিছিয়ে পড়া শিশু ভাবা যাবে না। বরং তাদের দক্ষতা উন্নয়নে আমাদের সবাইকে পাশে থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের অভিনব পাঠদান পদ্ধতি, বিশেষ থেরাপি এবং প্রতিটি শিশুর পৃথক দক্ষতা শনাক্ত করে তাকে সে বিষয়ে পারদর্শী করে গড়ে তোলে।”

মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৮তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “প্রতিটি শিশুই সৃষ্টিকর্তার উপহার। কোনো শিশুই সমাজের বোঝা নয়। অটিজম নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অবস্থার উন্নয়নে অনেক দূর এগিয়েছে। কুসংস্কার দূর করতে সমাজে ব্যাপকভাবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।”

তিনি বলেন, “অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে অটিজমে আক্রান্ত সন্তানকে সমাজ থেকে আড়ালে রাখেন, যা সন্তানের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। অথচ সময়মতো সঠিকভাবে অটিজম শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলে তাদের জীবনেও অনেকটাই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল লতিফ শেখের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মো. মুরাদ হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য সংস্থার চিকিৎসক ডা. কমলেশ, এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চু প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখন আহমেদ, এনডিডি স্কুলের অধ্যক্ষ আফসানা বেগম, অভিভাবক সাফিনা ইয়াসমিন ও বদরুন্নাহার বেগম প্রমুখ।

এর আগে “স্নায়ুবৈচিত্র্যকে বরণ করি, টেকসই সমাজ গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৮তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল লতিফ শেখ জানান, কুষ্টিয়া জেলায় বর্তমানে ৬৭ হাজার ৯০০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৬০ জন সরকার নির্ধারিত ভাতা পাচ্ছেন। জেলার ২টি সরকারি ও ১৫টি বেসরকারি এনডিডি (অটিজম ও প্রতিবন্ধী) স্কুল রয়েছে।




‘আপার ক্লাস থেকে সাধারণ দর্শক—সবাই দেখছেন বরবাদ’

সিনেমা মুক্তির ২২তম দিনে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়ে ‘বরবাদ’ দেখলেন শাকিব খান। ঈদে মুক্তির পর দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, টিকিট নিয়ে হাহাকার। ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকা শাকিব নিজেও জানিয়েছিলেন, তার পরিবারের সদস্যরাও টিকিট পাচ্ছেন না ছবি দেখার।

গতকাল সোমবার এয়ারপোর্ট সংলগ্ন স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির বিশেষ প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত হন শাকিব। সিনেমা দেখার আগে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের ভালোবাসার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শাকিব খান বলেন, ‘এত মানুষের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। দর্শক সিনেমাটার জন্য এত ভালোবাসা দিচ্ছেন যা সত্যি অতুলনীয়। নতুন ছবির শুটিংয়ের কারণে সময় করতে পারিনি। আজ অবশেষে আসতে পারলাম। সিনেমাটা গুলশান আপার ক্লাস থেকে গুলিস্তানের সাধারণ দর্শক সবাই দেখছেন। সবাই বলছেন, হ্যাঁ, এটাই সিনেমা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা হয়তো ভাবছেন, ‘বরবাদ’ লাস্ট সিনেমা যেটা ১০০ কোটিতে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে আমি মনে করি, এটা শেষ নয় বরং শুরু। গত বছর ‘তুফান’ দেখেছি, ভালো বিজনেস করেছে। এ বছর ‘বরবাদ’ এলো, তার চেয়েও ভালো বিজনেস করল। আগামীতে যেই সিনেমাগুলো আসবে, ইনশাআল্লাহ সেগুলো আরও ভালো করবে।’

উদাহরণ টেনে শাকিব খান বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে এক সপ্তাহে একটি সিনেমা ১০০ কোটির ব্যবসা করেছিল, সেটা তাদের জন্য বিরাট ব্যাপার ছিল। কিন্তু যারা সিনেমা তৈরি করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল ১ হাজার কোটি। এখন দেখা যায় পাশের দেশের সিনেমাগুলো হাজার কোটিতে না পৌঁছালে সুপারহিটই ঘোষণা করা হয় না।’

মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘বরবাদ’ সিনেমায় শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে আছেন কলকাতার ইধিকা পাল। দর্শকনন্দিত এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, শহীদুজ্জামান সেলিম, মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু ও যীশু সেনগুপ্ত।

সূত্র: যুগান্তর




গাংনীতে ভূট্টাক্ষেত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গোপালনগর মাঠের ভুট্টা ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গোপালনগর মাঠের আব্দুল খালেকের ভূট্টা ক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে। চেহারা দেখে সনাক্ত করা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাইল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভুট্টা ক্ষেতে মরদেহটি দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সনাক্ত হলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি এই স্থানে পল্লী বিদ্যুতের নির্মাণাধীন লাইনের কিছু তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার চুরি করতে এসে দুর্ঘটনায় এই অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা যেতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।




সিলেটে বৃষ্টি, অপেক্ষায় বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে লিড নিয়েছিল ৮২ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে এখনও ২৫ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টি হানা দিয়েছে সিলেটে। যার কারণে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়নি এখনও।

সিলেটে গত রাতে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালেও ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে, থামার কোনো লক্ষ্মণই দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে তৃতীয় দিন সকালের খেলা প্রায় আধঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি এখনও।

রাত থেকে বৃষ্টি চলছে। যার ফলে খেলা যে শুরু হতে দেরি হবে, তা অনুমিতই ছিল। যে কারণে দুই দলও অনেক দেরি করে এসেছে মাঠে। ৯টা ৪৫ মিনিটে খেলা শুরুর কথা থাকলেও দুই দল স্টেডিয়ামে এসেছেই ১০টা বাজে।

মাঠের পিচ ঢাকা আছে কভারে। তবে বাকি মাঠে কভার নেই। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বেশ ভালো। তাই সে নিয়ে খুব একটা চিন্তা নেই।

চিন্তা যা নিয়ে আছে, তা হলো বাংলাদেশের ব্যাটিং। প্রথম দিনে মোটামুটি ভালো শুরুর পরও শেষ দেড় সেশনে ৮ উইকেট খুইয়ে বিপাকে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা অতটা ভালো না হলেও নেহায়েত মন্দ হয়নি। তবে দলের হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ‘রেওয়াজ’ এমন শুরুর পরও স্বস্তি দিচ্ছে না আদৌ।

সূত্র: যুগান্তর




মেহেরপুরের কুতুবপুরে জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগ ও পথসভা

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের তেরঘরিয়া ও রুদ্রনগরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটার দিকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষ শান্তি পাবে। গত ১৬ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের কোনো শান্তি ছিল না। স্বৈরাচার হাসিনার আমলে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কোর্টের বারান্দায় যেতে যেতে আমাদের পায়ে আঘাত লেগেছে। আমার ভাইদের ওপর বিনা কারণে হামলা-মামলা হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করবে জামায়াতে ইসলামী। আমরা যদি নির্বাচিত হই, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।”

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হোসাইন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক জাব্বারুল ইসলাম মাস্টার, ১ নম্বর ওয়ার্ড রুদ্রনগরের সভাপতি শেরেগুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রকিব, যুব বিভাগের সভাপতি সাহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রকিব আলী, কোষাধ্যক্ষ তোফাজ্জল, সদস্য খলিলুর রহমান, আজিজুল, জুলফিকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।




গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিজ দলীয় নেতা নির্বাচন করলেন গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতাকর্মী। ভোটারদের সরাসরি ভোটে কাজিপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাহাবুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানা।

আজ সোমবার দুপুরে হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কাজিপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের সরাসরি ভোটে তারা নির্বাচিত হন। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের পূর্বে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শিল্পপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

কাজিপুর ইউনিয়ন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি রেজাউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আব্দুল আওয়াল, আলফাজ উদ্দীন কালু।

এছাড়াও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাউসার আলীসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দাল হকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে কাজিপুর ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ড কমিটির মোট ৪শ ৫৯ ভোটরের মধ্যে ৪শ ৩২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোট গ্রহণ শেষে সভাপতি পদে কাজিপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন ২৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা বেতবাড়িয়া গ্রামের মঞ্জুরুল হক টকি পেয়েছেন ১৬৬ ভোট। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে কাজিপুর গ্রামের মাসুদ রানা ২৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম পিন্টু পেয়েছেন ১৫৮ ভোট।