মেহেরপুরের আমঝুপিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অ্যাডভোকেসি সভা

“দলিত সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানবাধিকার সুরক্ষা সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় “দলিত সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন” শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুরের আমঝুপিতে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তাইওয়ান ফাউন্ডেশন ফর ডেমোক্রেসির আর্থিক সহায়তায় এবং মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার সভাপতিত্ব করেন মউকের নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলার সুধীসমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বারাদি দাসপাড়া, আমঝুপি হালদারপাড়া, চাঁদবিল হালদারপাড়া, আমঝুপি, কোলা ও খোকসা গ্রামের ৩০ জনের বেশি সুবিধাভোগী নারী।

সভায় কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপন করে মউকের নির্বাহী বলেন, মেহেরপুরের দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো নানাভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সচেতনতার অভাব ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি পরিষেবা গ্রহণে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও তথ্যের ঘাটতির কারণে তারা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত সুবিধাভোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং মউকের কাছে পরামর্শ ও সহায়তা প্রত্যাশা করেন। উত্তরে মউকের নির্বাহী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ স্থানীয় সরকার দপ্তর থেকে কীভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সংযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মউকের ভূমিকা তুলে ধরেন।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথিরাও আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। আনন্দঘন ও ফলপ্রসূ পরিবেশে সভাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিচার্ড রিমন মন্ডল, সুমাইয়া খাতুন, জাহিদুল ইসলামসহ মউকের অন্যান্য কর্মকর্তা।




বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে মানববন্ধন

‘প্লাস্টিক দুষন আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

পরিবেশ দুষণ বন্ধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের দাবীতে রোববার সকালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে সনাক ও টিআইবি। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে পরিবেশবিদ, মানবাধিকার কর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। সেসময় বক্তব্য রাখেন সনাক ও টিআইবির ঝিনাইদহের সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ, সদস্য এন এম শাহজালাল, মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু, সনাক সদস্য নাসরিন ইসলাম, পদ্মা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান, উই এর পরিচালক শরিফা খাতুন। কর্মসূচীতে ধারনাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য মাহজারুল ইসলাম। পরিচালনা করেন সনাকের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর হুমায়ন কবির।

সেসময় বক্তারা, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই এখনই সময় পরিবেশ রক্ষায় একযোগে কাজ করার।




জীবননগরের কৃতি সন্তান মাহমুদ হাসান খান বাবু বিজিএমইএ সভাপতি হওয়ায় শুভেচ্ছা

চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃতি সন্তান ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় জীবননগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং জীবননগর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ময়েন উদ্দিন মঈন, যুবদলের সদস্যসচিব কামরুজ্জামান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী, সদস্যসচিব মনির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সুজন খন্দকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হেজবুল্লাহ, জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ও সদস্যসচিব মকছেদুর রহমান রিমন হোসেন যৌথভাবে এক বার্তায় এ শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়া, জীবননগর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও মাহমুদ হাসান খান বাবুকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম. আর. বাবু, সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমান চঞ্চলসহ সকল সদস্য এক বিবৃতিতে তার সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন এবং তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।




কালীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে মহব্বত হোসেন (৬০) নামের একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৪ জন।

রোববার (১ জুন) সকালে উপজেলার নাকোবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জামাল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের সাথে বিএনপির অপর পক্ষ আরিফ, লিটন, বুলু ও আশরাফ’র সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে রোববার সকালে ইউনিয়নের নাকোবাড়িয়া গ্রামে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মহব্বত হোসেনের অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ফরিদপুরে রেফার্ড করা হয়। দুপুরে ফরিদপুর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল হাওলাদার বলেন, সংবাদ শুনেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।




চুয়াডাঙ্গা আকাশ হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ট্রেন আটকে মানববন্ধন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের আব্দুল গাফফার আকাশ হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ট্রেন আটক করে মানববন্ধন করা হয়েছে।

উথলী ইউনিয়নবাসী ও শোকার্ত পরিবারের ব্যানারে রোববার সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উথলী রেলস্টেশনে ২ ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়।

এসময় খুলনা হতে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ ট্রেন সকাল ৯টা ২০ মিনিটের সময় উথলী রেলস্টেশনে পৌঁছালে মানববন্ধনের কারণে ট্রেনটি আটকা পড়ে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশ এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সেনেরহুদা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় লোকজন মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। আকাশ হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ ট্রেন থামিয়ে ট্রেনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

মানববন্ধনে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মহিউদ্দিন, নিহত আকাশের বাবা জিন্নাত আলী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তারা বলেন, আকাশকে পরিকল্পিতভাবে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

উল্লেখ, গত ২১ মে কপোতাক্ষ ট্রেনযোগে চুয়াডাঙ্গা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জয়রামপুর আখ সেন্টারের নিকট রেল লাইনের পাশে পড়ে ছিল গাফফার আলী আকাশ (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ। এলাকাবাসীর ধারণা ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

আকাশ জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের জিন্নাত আলীর একমাত্র ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। পরদিন চুয়াডাঙ্গার সকল আঞ্চলিক পত্রিকাসহ কিছু জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রেন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ প্রচার করা হয়।

এদিকে আকাশের মৃত্যুর কয়েকদিন পর মৃত্যুর ঘটনার নতুন মোড় নেয়। পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। পরিবারের দাবি, একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা টিটিইসহ রেলওয়ে পুলিশ ও এটেনডেন্টরা আকাশকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে নিহত আকাশের পিতা জিন্নাত আলী দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় নিহত আকাশের পিতা জিন্নাত আলী বাদি হয়ে গত ২১ মে ওই ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা ২ জন রেলওয়ে পুলিশ, ১ জন টিটিই এবং ২ জন এটেনডেন্টকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আসামিরা হলেন- ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা টিটিই লালন চক্রবর্তী (৪২), রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক পারভেজ (৩৬), কনস্টেবল কাদের (৪০), এটেনডেন্ট মিলন (৩৭) ও সোহাগ মিয়া (৩৬)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাফফার আলী আকাশ অফিস শেষে প্রতিদিনের মতো কপোতাক্ষ ট্রেনযোগে চুয়াডাঙ্গা থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। ঘটনার দিন কপোতাক্ষ ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা টিটিই, রেলওয়ে পুলিশ ও এটেনডেন্টরা টিকিট না কেটে উঠা যাত্রীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করছিলেন এবং তাদের কাছে অবৈধভাবে অনেক টাকা দাবি করছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রেলওয়ে পুলিশসহ অন্যরা আকাশকে টেনে-হেঁচড়ে দরজার কাছে নিয়ে যায় এবং জয়রামপুর রেল স্টেশনের নিকট দরজা থেকে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। এ মামলায় ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী স্বাক্ষীও প্রদান করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কপোতাক্ষ ট্রেনের একই বগিতে থাকা একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আকাশ হত্যার সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রীর সাথে কথোপকথনের কল রেকর্ড হাতে পাওয়া গেছে। রেকর্ডে রাজশাহী থেকে ওঠা ওই ট্রেনের এক যাত্রী বলেছেন, আমরা ওই ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে ৭১ নম্বর সিটে বসে ছিলাম। এক পর্যায়ে দেখতে পাই লাল গেঞ্জি পরিহিত একটা ছেলেকে (আকাশ) বগিতে দায়িত্ব থাকা কয়েকজন লোক টেনে হেঁচড়ে দরজার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দরজার কাছে নিয়ে যাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ওই ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ছেলেটার মাথা নিচের দিক দিয়ে পড়ে যাচ্ছে। সেখানে দুইজন পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে।

কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, তারা দর্শনা হল্ট স্টেশনে নামার পর ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কাদের নামের এক পুলিশের কাছে জানতে চায়, ছেলেটার অপরাধ কি ছিল? পুলিশ কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যায়।

বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আকাশ অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলে। তার অকাল মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।




মেহেরপুরে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন

“কৃষিই সমৃদ্ধি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা। যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করা হয় রোববার (১ জুন) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনিরুজ্জানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম।

মেলায় মোট ১২টি স্টল অংশ নিয়েছে। এতে কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, জৈব সার, উন্নত জাতের বীজসহ নানা উদ্ভাবন ও কৃষি-সম্পর্কিত সামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।

জানা গেছে, ৩ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন বিকেলে কৃষি বিষয়ক সেমিনার, চাষাবাদ বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও কৃষকদের উদ্ভাবনী চর্চা শেয়ারিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।




মেহেরপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন

মেহেরপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে “টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি সংগঠনের সম্পৃক্ততা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুবাহ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে শনিবার আমঝুপির সুবাহ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মঈন-উল-আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সরিয়াজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাব মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল আলম।

এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইউপি সদস্য মোঃ আশাদুল হক, মোঃ আরফি হোসেন, মোঃ মকবুল হোসেন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ আনজুমান আরা, সোসাইটি ফর দ্য প্রোমোশন অব হিউম্যান রাইটসের নির্বাহী পরিচালক আবু আবেদিন প্রমুখ।

আলোচনায় তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে বরাদ্দ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি সরিয়াজুল ইসলাম ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে বরাদ্দ রাখার ঘোষণা দেন।




মেহেরপুরে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত

“দুগ্ধের অপার শক্তিতে মেতে উঠি এক সাথে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫।

দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১ জুন) মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ চত্বরে সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সুব্রত কুমার ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামিনুর রহমান খান।

ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সৈয়দ ছাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুজিবনগর ইউএলও ডা. হামিদুল আবিদ, গাংনী ইউএলও ডা. মোতালেব হোসেনসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জেলার বিভিন্ন গরু ও ছাগল খামারিরা।

বক্তারা দুধের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া খামারিদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভার আগে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সামনে এসে শেষ হয়।




গাংনীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

“কৃষিই সমৃদ্ধি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা। যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করা হয় রোববার (১ জুন) দুপুরে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বরে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা।

মেলায় মোট ১৪টি স্টল অংশ নিয়েছে। এতে কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, জৈব সার, উন্নত জাতের বীজসহ নানা উদ্ভাবন ও কৃষি-সম্পর্কিত সামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, “এই মেলার উদ্দেশ্য কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করানো, টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ফসল উৎপাদনে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।”

প্রধান অতিথি ইউএনও আনোয়ার হোসেন বলেন, “কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সরকার সব সময় কৃষকদের পাশে আছে। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

জানা গেছে, ৩ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন বিকেলে কৃষি বিষয়ক সেমিনার, চাষাবাদ বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও কৃষকদের উদ্ভাবনী চর্চা শেয়ারিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।




শহরজুড়ে ময়লা ও আবর্জনায় সয়লাব

দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা মেহেরপুর পৌরসভা। ১৮৫৯ সালের ১৫ এপ্রিল পৌরসভা গঠিত হয় দেশের চতুর্থ পৌরসভা হিসেবে। ১৯৯১ সালে ২য় শ্রেণি এবং ২০০১ সালে এটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে।

অথচ আজ এই শহরটা ডুবে আছে ময়লা-আবর্জনার পাহাড়ে। শহরের অলিগলি, বাজার, প্রধান সড়ক সবখানেই যেন বর্জ্যের দখলদারি। ডাস্টবিন নেই যথেষ্ট, যেটুকু আছে, সেগুলোরও পরিচর্যা নেই। প্রতিদিনের জমে থাকা ময়লা শহরের পরিবেশ দূষণ করছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়াচ্ছে রোগজীবাণুর উপদ্রব।

শহরের চারপাশে শুধু ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ, তবে প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা কাদের জন্য? রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে দেওয়া যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার নিয়ম মানেন না অনেকেই।

অন্যদিকে, পৌরসভার চরম উদাসীনতা বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করার পরও নেই কোনো কার্যকরী উদ্যোগ। যেখানে ডাস্টবিন থাকার কথা, সেখানে শুধু ফাঁকা জায়গা। প্রতিদিন ময়লা না তোলা, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না দেওয়া সবই পৌরসভার গাফিলতির ফল।

গড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আসিফ খন্দকার বলেন, আসলে ছোট্ট এই মেহেরপুর শহরটিকে ঠিকভাবে গুছিয়ে রাখা খুব কঠিন কিছু নয়। গড়পাড়ার মতো এলাকাতেও আগেও দেখেছি, এখনও দেখি ডাস্টবিন আছে, কিন্তু রাস্তার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এখন ময়লা ও আবর্জনার স্তুপ। এটা শুধু পৌরসভার একার দোষ নয়। একটা বড় সমস্যা হচ্ছে রাস্তার গরুগুলো। দেখে মনে হয় এদের কোনো মালিকই নেই সারাদিনরাত রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, আর ডাস্টবিনগুলোতে হামলা চালায়। তারা ময়লা টেনে বাইরে ছড়িয়ে ফেলে। তখন মানুষজন আর ডাস্টবিনে না ফেলে, সেই ছড়িয়ে থাকা ময়লার মধ্যেই ময়লা ফেলে দেন। এতে করে চারপাশে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এলাকাভিত্তিকভাবে আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এই শহরটাকে কখনোই গুছিয়ে রাখা সম্ভব না। পৌরসভার যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি আমাদের, সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে, সচেতন হতে হবে।

পৌরসভারও গাফিলতি আছে তারা নিয়মিত ময়লা তোলে না। ময়লা তোলে বললেও, পুরোপুরি নেয় না। বিশেষ করে বড় বাজার আর কাঁচাবাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ময়লা পড়ে থাকে। আমি কখনো দেখিনি মেইন রোডের বাইরে এগুলো পরিষ্কার করতে। এই টুকুই তাদের কাজ বলে মনে হয়।

বড় বাজারের বাসিন্দা দুদু মিয়া বলেন, সকালে নির্দিষ্ট সময়ে পৌরসভার গাড়ি আমাদের এলাকার ময়লা নিতে আসে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বিকাল হওয়ার পর থেকেই কিছু মানুষ আবার সেই একই জায়গায় ময়লা ফেলে দিয়ে চলে যায়। এতে করে জায়গাটা আবারও নোংরা হয়ে যায়, চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়ায়, পরিবেশ দূষিত হয়।

যতদিন না এলাকার মানুষ নিজেরা সচেতন হবে, ততদিন এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব না। শুধু পৌরসভার ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। আমাদের নিজেদেরও দায়িত্ব নিতে হবে, নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় ও জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে। নইলে পুরো শহরটাই নোংরা হয়ে থাকবে।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার‌্যক্রম নিয়ে মল্লিকপাড়ার বাসিন্দাদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় নিয়মিত ময়লা অপসারণ হলেও বর্তমানে তা অনেকটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

মল্লিকপাড়ার একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যা দেখছি, ৫ই আগস্টের আগে পৌরসভার গাড়ি একদিন পর পর ময়লা নিতে আসত। কিন্তু এখন চার-পাঁচ দিন পর পর এসে ওই নোংরা তুলে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

রাস্তার গরুগুলোও বড় সমস্যা। যেখানেই ময়লা রাখা হয়, ওরা তা ছড়িয়ে ফেলে। আর মানুষজনও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে। বাধ্য হয়ে আমি আমার বাড়ির সামনে লিখে টাঙিয়েছি ‘আমার এখানে ময়লা ফেলবেন না।’ কিন্তু কেউ তো শুনে না। উল্টো আমাকে এই নিয়ে ঝগড়াঝাঁটিতেও জড়াতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মল্লিকপাড়া তো একটা ভিআইপি এলাকা। কিন্তু এর এখনকার অবস্থা দেখে তা বোঝার উপায় নেই। আগে যেভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকত, এখন তেমন নেই। পৌরসভার যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা কী করছেন, সেটাই আমি বুঝে উঠতে পারি না।

একই এলাকার আতিকুর রহমান বলেন,ময়লা-আবর্জনা ফেলার যেসব জায়গা আছে, সেগুলো বেশ ঢুককো। ফলে খুব সহজেই সেই ময়লাগুলো গরুর কবলে পড়ে যায়, ওরা তা টেনে বাইরে ছড়িয়ে ফেলে। এতে পরিবেশ আরও নোংরা হয়ে পড়ে।

তবে, এ সকল বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।