মেহেরপুর কৃষি বিভাগের উদাসিনতায় মানহীন কীটনাশক কোম্পানীর রমরমা ব্যবসা

শুখসাগর পেঁয়াজ এবার দু:খের হাতছানি দিচ্ছে মুজিবনগরের কৃষকদের। মানহীন কোম্পানী “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর নিম্নমানের য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) পেঁয়াজ ক্ষেতে ব্যবহার করে পথে বসতে যাচ্ছেন উপজেলার অর্ধশতাধিক চাষী।

পাঁচ/ছয়দিন আগে কৃষকরা স্থানীয় সার কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে য়োকরাল নামক এই ছত্রাকনাশক (পেস্টিসাইড) তাঁদের জমির উঠতি পেঁয়াজের পঁচন রোধে দিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে মুজিবনগরের নাজিরাকোনা গ্রামের নাগার মাঠসহ এলাকার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার প্রায় অর্ধাশতাধিক কৃষকের প্রায় জমির পেঁয়াজ খেত এখন জমিতেই লুটিয়ে পড়েছে। পেঁয়াজ গাছের কলি হলুদ হয়ে চুপসে যাচ্ছে। ডগা শুকিয়ে লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে। পাশের জমির পেঁয়াজ গাছ বড় হয়ে গেলেও আক্রান্ত জমির পেঁয়াজ রয়েছে মাটির সাথে সুয়ে। এবারের শীত মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা, শিবপুর, ভবরপাড়া, কেদারগঞ্জ, মানিকনগর গ্রামের অর্ধ শতাধিক কৃষক। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরামর্শে পেঁয়াজের ছত্রাকজনিত রোগ থেকে বাঁচতে “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর নিম্নমানের য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) প্রয়োগের পরেই এ অবস্থা হয়েছে পেঁয়াজ ক্ষেতের।

স্থানীয় কৃষকের মতে, প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতি হতে পারে। মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা গ্রামের পেঁয়াজ চাষী আবুল হোসেন জানান, বর্গা নেওয়া এক বিঘা জমিতে চাষ করছেন পেঁয়াজ। জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পেঁয়াজ খেত ছত্রাকজনিত রোগ থেকে বাঁচাতে স্থানীয় ব্যবসায়ীর পরামর্শে “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এর পর থেকেই হলুদ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে পেঁয়াজ ক্ষেত। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে আমার ৮০/৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। ধার দেনা করে এক বিঘা জমিতে এই চাষ করেছেন তিনি। পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপদের মধ্যে আছেন তিনি। পেঁয়াজ বিক্রি করে এবছর তার প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হতো বলে জানান তিনি। এই বছর নাজিরাকোনা গ্রামের আফর আলী এক বিঘা জমিতে, আব্দুল আলীমের এক বিঘা জামিতে হাফিজুল ইসলামের এক বিঘা জমিতে অ্যাডভোকেট আ্ব্দুল আলীমের এক বিঘা জমিতে, শহিদুল ইসলামের এক বিঘা জমিতে, জনি মন্ডলের ৫ বিঘা জমির পেঁয়াজের মধ্যে ২ বিঘা জমিসহ এই গ্রামের প্রায় ১৫ জন কৃষকের প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এই ছত্রাক নাশক কীটনাশকটি প্রয়োগ করে সব পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। শিবপুর গ্রামের কৃষক হিরন আলী জানান, আমি প্রতি বছরই পেঁয়াজের চাষ করি।

এবছরও আমি তিন বিঘা জমিতে এই চাষটি করেছি। এছাড়া আমার ভাই হাফিজুল ইসলামেরও তিন বিঘা এবং রকিবুল সর্দারের এক বিঘা জমির পেঁয়াজ ক্ষেতে এই কীটনাশকটি ব্যবহার করেছিলাম। আমাদের মাঠে আরও বেশ কয়েকজন পেঁয়াজ চাষীর ক্ষেতে এই কীটনাশকটি স্প্রে করে পেঁয়াজের চারা এখন ধুকে ধুকে মরছে। এছাড়া বল্লভপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষী জাহিদুল ইসলাম জানান, আমিসহ এলাকার বেশ কয়েকজন চাষী পেঁয়াজ ক্ষেতে “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর নিম্নমানের য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) প্রয়োগের পরেই এ অবস্থা হয়েছে। নাজিরাকোনা গ্রামের আবুল হোসেন, হাফিজুল ইসলাম নয়, এই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আরও অর্ধশতাধিক কৃষক একই পরিস্থিতে পড়েছেন। য়োকরল নামের কীটনাশকটি ব্যবহার করার দুই-তিন দিন পর থেকেই পেঁয়াজের গাছগুলো শুকিয়ে যাওয়া শুরু করে। শেকড়ে পচন ধরে সব শেষ হয়ে গেছে।

ধারদেনা করে আবাদ করা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ্এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব কৃষক। এখন ওই কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। কৃষকদের অনেকই স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা যদি মাঠে আসতেন, পরামর্শ দিতেন, তাহলে এই অবস্থা হতো না। এদিকে কীটনাশক কোম্পানির নাজিরাকোনা গ্রামের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আব্দুল জুব্বার জানান, “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর য়োকরাল ব্যবহারের পর এ রকম অভিযোগ আসছে সব জায়গা থেকে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে, ওই কোম্পানীর স্থানীয় ডিলার ও কোম্পানীর উর্দ্ধকন কর্মকর্তারা মাঠে এসে কৃষকদের ফসলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি পুরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কীটনাশক ব্যবসায়ী ও “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর ডিলার দানা মেম্বর বলেন, ‘শীতের সময় পেঁয়াজ খেতে ছত্রাকের আক্রমণ বাড়ে। তাই আমার কাছে যারা কীটনাশক নিতে আসে, তাদের “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর য়োকরাল নামক কীটনাশক দেই। তবে যাদেরই ওই কীটনাশক দিয়েছি, তাদেরই খেতে সমস্যা হয়েছে।

আমি কোম্পানির প্রতিনিধিকে জানাইছি। তারা এসে ওই কীটনাশক নিয়ে গেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।’ “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লি:” এর টেরিটরি অফিসার আসাদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে এলাকার ২০ জান কৃষক তাঁদের ৩৩ বিঘা জমির পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানালে কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় থেকে কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ পেঁয়াজ চাষীয়দের সাথে কথা বলেছেন এবং পেঁয়াজের স্যাম্পল পরিক্ষার জন্য নিয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তা ডিডি বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে কৃষকেরা অভিযোগ করেনি। কৃষকরা কার পরামর্শে এসব কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করে থাকে এটা আপনি আমাকে বলতে পারেন? সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করেন ডিডি। কীটনাশক দোকান পরিদর্শন করে মাসে অন্তত দুটি নমুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে (প্লান্ট প্রটেকশন) পাঠানোর কথা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের, এটা পাঠানো হয় কিনা।

এমন প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, এটা উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্ব আমার না। উপজেলা কৃষি অফিসার আপনার আয়ত্বের মধ্যে পড়ে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে বলেন, এধরণের প্রশ্ন করলে আমার সাথে কথা বলবেননা, বলেই কলটি কেটে দেন এই কৃষি কর্মকর্তা। এদিকে হাতে গোনা কয়েকটি কীটনাশক কোম্পানী ছাড়া অধিকাংশ মানহীন বালাইনাশকের (পেস্টিসাইড) কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এলাকার কৃষককুল। আবার ডিলারনির্ভর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মানহীন বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) ভুল ব্যাক্ষা দিয়ে কৃষকদের মাঝে বিপনন করছেন।

দোকান পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাকে মাসে অন্তত দুটি নমুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে (প্লান্ট প্রটেকশন) পাঠানোর কথা বলা হলেও সে নিয়মের পথে হাঁটছেন না কৃষি অফিস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফসল আবাদের পরিধি ও ধরন বদলে গেছে। বেড়েছে ফসলের জন্য ক্ষতিকর রোগজীবাণু ও কীটপতঙ্গ।

এসব দমনে কৃষক বালাইনাশকের ব্যবহারও বাড়িয়েছেন। আর এই সুযোগে কোম্পানিগুলো কাটছে কৃষকের পকেট। কৃষিতে কীটনাশক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে শক্ত নজরদারি দরকার বলে মনে করেন তারা।




সংষ্কারের আগে নির্বাচন নয় : বাংলাদেশ কংগ্রেস

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংষ্কার শেষে নির্বাচনের আয়োজন করার দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের বাংলামটরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে “রাষ্ট্র সংষ্কার : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা” শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে দলের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, দূর্বল নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশ দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

কাজী রেজাউল হোসেন আরো বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের কোন ভূমিকা থাকে না। তারা ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপার প্রস্তুত করে নির্বাহী বিভাগের হাতে তুলে দেয় এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন পরিচালনা করে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম সেমিনারে বলেন, নির্বাচন সংষ্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় কার্যকর কোন সংষ্কার হবে না। এমন সংষ্কার আনতে হবে যাতে শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনে আনুকূল্য না পায়।

এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি নিরপেক্ষ সরকার। প্রত্যাশিত সংষ্কারগুলো একমাত্র তাদের দ্বারাই সম্ভব। তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন দিলে দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসবে যারা যারা দলীয় স্বার্থের বাইরে কোন সংষ্কার করবে না।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেঃ কঃ (অবঃ) জোবায়ের উল্লাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উপদেষ্টা এ আর সিকদার সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল মোর্শেদ, অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মোস্তফা আনোয়ার ভুইয়া রিপন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ তুষার রহমান, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ আব্দুর রউফ খান, সমাজ সেবা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ মোঃ মাইনুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আনোয়ার কে মোর্শেদ, আব্দুর রহিম চৌধুরী, সোহেল হায়দার প্রমুখ।




মেহেরপুর জেলা বিএনপির নেতাদের সংবর্ধনা

মেহেরপুর জেলা বিএনপির নবগঠিত আহাবায়ক কমিটিকে আমদহ ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৪জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে মেহেরপুরের সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নে রায়পুর গ্রাম বিএনপি’র আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আমদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ খালেকুজ্জামান মজনু সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

মেহেরপুর সদর উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রকিবুল হাসান রিপন,সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, জেলা বিএনপি’র সিনিয়ার যুগ্ন আহবায়ক যুগ্ন আহবায়ক আমিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ফয়েজ মোহাম্মদ,

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়ার সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি এম এ কে খাইরুল বাশার, সাবেক সহ-সভাপতি আনছা-উল-হক, সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর খান সাতু, হাফিজুর রহমান হাফি, সহ-সভাপতি মীর ফারুক ,সহ-সভাপতি ওমর ফারুক লিটন ,জেলা বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহম্মেদ,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেনন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ছাবিহা সুলতানা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাউছার আলী,জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকাবিল্লাহ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আজমুল হোসেন মিন্টু,পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সদর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি হাসিবুজ্জামান স্বপ্নন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ফিরোজুর রহমান, আব্দুল লতিফ, মোশিউল আলম দিপু, সহ বিএনপির নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

গাংনী থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার বিশেষ অভিযানে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ বিভিন্ন মামলায় আদালতের পরোয়ানাভূক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইলের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক তিনটি টিম বুধবার দিবাগত রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত গাংনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব আসামি গ্রেফতার করে পুলিশ।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গাংনী উপজেলার ভরাট গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে জিআর ২৪১/১৬ নম্বর মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ সেলিম(৪০), একই উপজেলার কসবা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আদালতের পরোয়ানাভূক্ত সিআর ৯৫৫ /২৪ মামলার আসামি মোহাম্মদ মতিন আলী (৫৫) ও পলাশীপাড়া গ্রামের মোঃ সাদেক আলীর ছেলে আদালতের পরোয়ানাভূক্ত জিআর ৮৭/২৪ মামলার আসামি মোহাম্মদ টুটুল হোসেন (৩২)।
ওসি বানী ইসরাইল বলেন, সাজাপ্রাপ্তসহ তিনজন আসামিই আদালতের পরোয়ানাভূক্ত। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে আদালতে নিলে বিজ্ঞ আদালতে তাদের জামিন না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।




গাংনীতে যুব কাবাডি খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ তারুণ্য উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে যুব কাবাডি (অনুর্ধো-১৭ বালক ও বালিকা) খেলা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলায় বালক পর্যায়ে জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মানিকদিয়া এগারপাড়া দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলায় ৩২ পয়েন্ট অর্জন করে জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় দল উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট ও জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। খেলায় মানিকদিয়া এগারপাড়া দাখিল মাদ্রাসা দল অর্জন করে ১০ পয়েন্ট।

এছাড়া বালিকা কাবাডি দলের জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় বালিক দল ৩১ পয়েন্ট অর্জন করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ও মেহেরপুর জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। উপজেলা পর্যায়ে রানার্স অপ দল হয় জেটিএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় দল, তারা অর্জন করে ৪ পয়েন্ট।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের খেলোয়ারদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা তাদের হাতে কাপ ও মেডেল তুলে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে মোবারক, উপজেলা আনসার ভিডিপি সাঈদুর রহমান, উপজেলা বিআরডিবি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসান আল নুরানী,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখার সদস্য সচীব মুজাহিদুল ইসলাম।

 

খেলা পরিচালনা করেন, জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল হান্নান ও মানিকদিয়া এগারপাড়া আলীম মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল মাবুদ ও গাংনী উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় বক্্িরং দলের কোচ আতর আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা বলেন, কাবাডি বাংলাদেশের একটি জাতীয় খেলা। আগেকার দিনে বর্ষাকালসহ সারা বছরই গ্রামাঞ্চালের আনাচে কানাচে এই খেলা দেখা যেতো। সময়ের সাথে সাথে খেলা-ধুলার ধরনও পরিবর্তন হয়েছে। এখনকার ছেলে মেয়েরা মাঠে খেলার পরিবর্তে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রীনে বেশি আসক্ত হচ্ছে। তাই মোবাইল ও কম্পিউটারের স্ক্রীন আসক্ত থেকে বেরিয়ে এসে মাঠের খেলাধুলাকে গ্রহণ করতে হবে।

 

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিযোগীতার মাধ্যমে আমরা ভালো খেলোয়ারদের বের করে আনতে সক্ষম হবো। তাই, খেলা-ধুলা প্রতিযোগীতার মাধ্যমে এই খেলাগুলো আবারও গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, খেলা ধুলার মাধ্যমে ছেলে মেয়েরা শুধু সুস্থাস্থের অধিকারি হবে তা নয়, তাদের মন ও শারীরিক বিভিন্ন হরমনের পরিবর্তনগুলোও সাধিত হবে। ফলে তাদের যে কোনো কাজে মনোযোগও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, লেখা পড়ার মাধ্যমে মানুষ যেমন অনেক দুর এগিয়ে যেতে পারে, ঠিক তেমনি, খেলা ধুলার মাধ্যমেও এগিয়ে যেতে পারে। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের নাম না জানলেও মানুষ একজন খেলোয়ারের নাম জানে, যেমন মেসি যোগ করেন তিনি। একজন খেলোয়ার তার খেলার মাধ্যমে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে। একজন খেলোয়ার আঞ্চলিক বা জাতীয় গন্ডি নয়, তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডেলে বিচরণ করেন। তৃণমুলের খেলোয়ারদের আমরা সুযোগ তৈরী করে দিতে পারলে তারাই জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। তারাই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিচরণ করবে। আমাদের দেশের মান মর্যাদা বিশ্বের বুকে পৌছে দেবে।
এই টূর্ণামেন্টের মাধ্যমে এই খেলাগুলো মানুষের হৃদয়ে প্রথিত থাকবে।

আগামী দিনগুলোতে এই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং প্রতিটি গ্রামে এই খেলার চর্চা যেনো ধারাবাহিকভাবে চলে সেজন্য শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া সংগঠকদের প্রতি উদাত্ব আহবান জানান তিনি।

প্রীতম সাহা আরও বলেন, যারা খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত থাকে, তারা মাদক ও সামাজিক অন্যায় অপরাধ থেকে দুরে থাকেন। তারা সুঠাম দেহ ও সুস্বাস্থের অধিকারী হয়। খেলাধুলা শারীরিক মানুষিক ও আধ্যাতিক বিকাশেও দারুনভাবে সহযোগীতা করে। খেলাধুলা আমাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে।

মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহবান জানিয়ে ইউএনও প্রীতম সাহা বলেন, আমরা কেউ যেনো মাদকের দিকে হাত না বাড়াই।
সড়ক নিরাপত্তার উপর গুরত্ব দেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রীতম সাহা বলেন, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি চার লেনে উন্নিত হয়েছে। এই সড়কটিতে এখন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে গাড়িগুলো দ্রুত গতিতে ছুটছে। আমরা চাইনা দ্রুতগতির কারনে, আমাদের ছেলে বা মেয়ের জীবনে দুর্ঘটনা নেমে আসুক।
তরুণদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, দ্রুতগতিতে ও বেপরোয়া মটরসাইকেল চালানোর কারনে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর মিছিল দেখতে পাচ্ছি। এই ধরনের অনাকাংখিত দুর্ঘটনা ও মৃত্যু আমরা প্রত্যাশা করিনা। আমরা চাই সকলেই সুস্থ থাকুক। একটি দুর্ঘটনা, একটি পরিবার বা ব্যাক্তির কান্নার কারন না হয়।




মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা রুটে ছাত্রদের বাসভাড়া অর্ধেক

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের জন্য বাসভাড়া অর্ধেক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন মালিকদের তিনটি সংগঠন।

মেহেরপুর আন্ত:জেলা বাস ও মিনিবাস সমিতি কর্তৃক পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আজ হস্পতিবার সকাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেহেরপুর জেলার মধ্যে চলাচলরত সব লোকাল বাসে সকাল ৭টা-সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেক ভাড়ায় চলাচল করতে পারবেন। তবে এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে অথবা বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে মেহেরপুর আন্ত:জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সড়ক সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: নুরুল ইসলাম (বাবলু) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মেহেরপুর জেলা কমিটির আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ, সদস্য সচীব মো: মুজাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৪ নভেম্বর মেহেরপুর পরিবহন সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠনের নেতাদের যৌথ সভা হয়। এরপর সর্বসম্মতিক্রমে গত মঙ্গলবার বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির নেতাদের চূড়ান্ত সভায় অর্ধেক ভাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে মেহেরপুর থেকে গাংনীর ভাড়া ৩১ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা, মেহেরপুর থেকে বামন্দীর ভাড়া ৪৯ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা, মেহেরপুর থেকে খলিশাকুন্ডি ঘাট ৬৫ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা, মেহেরপুর থেকে আমলার ভাড়া ৭৬ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা, মেহেরপুর থেকে মিরপুর পর্যন্ত ৯৮ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা ও মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত ১২৮ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা রোডে মেহেরপুর থেকে আমঝুপি পর্যন্ত ১৪ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা, মেহেরপুর থেকে বারাদী পর্যন্ত ২৭ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা, মেহেরপুর থেকে গোকুলখালি পর্যন্ত ৪১ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা ও মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ৬১ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে।

মেহেরপুর আন্ত:জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সড়ক সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার মধ্যে এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মেহেরপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব মুজাহিদুর রহমান জানান, আগস্ট মাস থেকে এই দাবি তোলা হয়েছিল। অবশেষে কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শর্তগুলো মেনে যাতায়াত করেন, সে ব্যাপারে সবার সহযোগিতা চান তিনি।




মুজিবনগরে উপজেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ

বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিক্রিয়ায় দলের পূর্ণগঠন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলকে সক্ষমতা অর্জনের প্রত্যয়ে মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশর আয়োজন করা হয় ।

বৃহস্পতিবার (২৩ শে জানুয়ারি) চারটার দিকে মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে কেদারগঞ্জ বাজার এই কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য জেলা বিএনপির আহবায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন। তিনি বলেন, আপনারা দীর্ঘ ১৭টি বছর লড়াই সংগ্রাম করেছেন। একটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। একটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, জীবন দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, সেই সংগ্রাম থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আপনারা নতুন বাংলাদেশের প্রবেশ করেছেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন আজকে মুজিবনগর উপজেলার অন্তর্গত যেসব ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটি গুলো আছে সেই সব কমিটিকে আমি এই মুহূর্তে বিলুপ্ত ঘোষণা করলাম।

কর্মী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। তিনি বলেন, গত বুধবারে উনি যে কথাটা বলেছেন খুবই আপত্তিকর কথা। উনি বলেছেন তিন টাকার কমিটি, তিন টাকার কমিটি মানে উনি তারেক রহমানকে অবজ্ঞ করা হয়েছে। তারেক রহমানকে অবজ্ঞা করলে আমরা তাকে কেউ ছাড়বো না।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক অধ্যাপক ফয়েজ মোহাম্মদ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আনছা-উল-হক, আলমগীর খান সাতু, হাফিজুর রহমান হাফি, মীর ফারুক, ওমর ফারুক লিটন, জেলা বিএনপি  সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহম্মেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেনন, গাংনী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি রেজাউল হক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মিন্টু, পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাহিদ মাহবুব সানি, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুল লতিফ, মোশিউল আলম দিপুসহ বিএনপির নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের মানুষ। আমরা পিছ পা হতে জানিনি সেই কারনে আগামী দিনে যদি কমেটি নিয়ে কোনো বাজে কথা বলা হয় আপনি কালকে কমিটি ভেঙে নিয়ে আসবেন মুজিবনগরের মানুষ আপনার নেতৃত্বে বিএনপি করবে । আপনি আগামী দিনে মনোনয়ন নিয়ে আসবেন আমরা আপনাকে নির্বাচন করে পার্লামেন্টে পাঠাবো। এই পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তার আগে বিভ্রান্ত কর কোন কথা বলবেন না। তার আগে কোন অরুচিশীল কথা বলবেন না। বিএনপিকে খাটো করে দেখবেন না এটাই আমি মুজিবনগরের কর্মীসভা থেকে আহ্বান করে জানাচ্ছি।

মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুজিবনগর উপজেলার যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম।




কোটচাঁদপুরে তারুণ্যের উৎসব উদযাপিত

এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ এ প্রতিপাদ্যে কোটচাঁদপুরে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্য সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমীতে দিনব্যাপী চলে পিঠা উৎসব।

পিঠা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুরের সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমী প্রধান শিক্ষক আমীন উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,কোটচাঁদপুরের সাবদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান বাবুল,ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক এসকে ফয়েজ আহমেদ রিয়ন,যুগ্ন আহবায়ক হাসান তারেক।

পিঠা উৎসবে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা ১০টি স্টোল দেন। স্টোল গুলোয় সাজানো ছিল বাহারি সব ধরনের পিঠা।যা প্রায় বিলিন হতে চলেছে।

এদিকে পিঠা উৎসবের খবরে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন ওই এলাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা। আসেন এলাকার যুব বৃদ্ধারাও। এই পিঠা উৎসবকে ঘিরে বিদ্যালয়ে তৈরি হয় এক মিলন মেলা। চলে পিঠা কেনা বেচার ধুম। যা কিনতে ও খেতে পেরে খুশি সবাই। এমন পিঠা উৎসব প্রতিবছর হক দাবী মেলায় আসা ক্রেতা ও দর্শণার্থীদের। তাদেরই একজন সাবদারপুর এস ডি কলেজের ছাত্র আসিফ হোসেন।তিনি বলেন,এমন পিঠা উৎসব আগে কখনও দেখিনি। খবর পেয়ে দেখতে আসলাম। মেলায় আসতে পেরে খুব খুশি লাগছে। প্রতি বছর এমন মেলা হলে ভাল হয়।ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনও চাই প্রতি বছর মেলা হক। খুশি তিনিও। তবে পিঠার নাম বলতে পারেনি মেলায় আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের অনেকে।




মেহেরপুরে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ

মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের উদ্যোগে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার, ট্রাই-সাইকেল, টয়লেট চেয়ার, ওয়াকার এবং কর্ণার চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা তুলসী কুমার পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশাদুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পরামর্শক ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. মো. আব্দুল হাই।

অনুষ্ঠানে ৮৯টি হুইল চেয়ার, ৮টি ট্রাই-সাইকেল, ৫টি টয়লেট চেয়ার, ৫টি ওয়াকার এবং ২টি কর্ণার চেয়ার বিতরণ করা হয়।




মেহেরপুরে কারুপণ্য মেলা ও পিঠা উৎসব

“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরে উদযাপিত হয়েছে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫। এই উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে তারুণ্যের ভাবনায় নতুন বাংলাদেশ শীর্ষক কারুপণ্য মেলা, পিঠা উৎসব, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩ টায় মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুড়িপোতা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যাপক মোঃ আরিফ হোসেন তালুকদার, উপজেলা পাট বীজ কর্মকর্তা মোঃ ইমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, আব্দির রশিদ, বজলুর রহমান, চাঁদ আলী, দুলাল উদ্দিন, আয়ুব আলী, হেকমত আলী, লিয়াকত আলী ও আবুল কাসেম।

অনুষ্ঠানের শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বুড়িপোতা ইউনিয়নের সচিব সানেয়ার হোসেন।