‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক সেন্টার’ এর লাইভে ডিএমপির কমিশনার নাসিরুল্লাহ্

সংগঠনটির নাম ‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’। বয়স প্রায় সাড়ে সাত বছর। ২০১৬ এর আগে অব্দি তারা কাজ করতো সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। ২০১৬ থেকেই তারা সামাজিক কাজটাকে ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের সাংগঠনিক মূল লক্ষ্যকে দাঁড় করায় ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট’কে। এ পর্যন্ত কখনই তারা তাদের কোনো ধরণের কার্যক্রমকে ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আনেনি।

কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে মানুষ যেন বিনামূল্যেই ভালো কিছু শিখতে পারে ঘরে বসেই, সেজন্য ‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’ এবার অনলাইন লার্নিং ভিত্তিক একটি প্রোজেক্ট গ্রহণ করেছেন, যেটির নাম ‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক সেন্টার’। একটি গ্রুপের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষ মানুষকে ‘লাইভ শো’তে এনে অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় ২৫ এপ্রিল থেকে, যদিও গ্রুপটির সৃষ্টি ১৮ এপ্রিল। এক মাসেরও কম সময়ে তারা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের কাছে ভালো একটি জায়গা করে নিতে পেরেছে। এই লাইভ শো’গুলো উপস্থাপনা করে চলেছেন ‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’এর প্রতিষ্ঠাতা এবং উপস্থাপক ঈশা খান (অপূর্ব)।

১৯ মে তাদের এই লাইভ শো এর অষ্টম পর্ব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং এই পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ডিভিশনের সম্মানিত সিনিয়র এ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার জনাব সাইদ নাসিরুল্লাহ্। ১৯ মে ঠিক রাত ৯ টায় ‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’এর অফিসিয়াল ফেসবুক ফ্যান পেইজ থেকে এই লাইভটি সম্প্রচার করা হবে। এই শো-এর আলোচনার বিষয় বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সাইবার ক্রাইম’।

‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’ এর প্রতিষ্ঠাতা ঈশা খান (অপূর্ব)’ এর কাছে এই লাইভ শো-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানতে চাওয়া হলে, উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা মূলত খুবই সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দক্ষ মানুষকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করছি। আমরা জানি, আমাদের অডিয়েন্স বেশিরভাগই মফস্বল শহরাঞ্চলগুলো থেকে বা যাদের সাথে ঢাকার সম্পর্ক তুলনামূলক কম। ঢাকা কেন্দ্রীক মানুষ কিছুটা হলেও এই ধরণের জ্ঞান পাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু মফস্বলের ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক কিছু থেকেই এখনও অনেকটাই বঞ্চিত। দ্বিতীয়ত, যতটুকু তারা পায়, সেটাও এমনভাবে পায় যে সেগুলো বুঝতে গেলেও কাউকে আগে থেকেও কিছুটা স্টাডি করে রাখতে হয়। সেই কারণে আমরা চেষ্টা করি আমাদের আলোচনাকে খুবই সহজবোধ্য করার যেন সকলেই নির্দ্বিধায় এটি বুঝতে পারে”।

একই সাথে আমরা ঈশা খান (অপূর্ব)-এর কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম এই পর্বে সিনিয়র এ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার মহোদয়কে অতিথি হিসেবে রাখা এবং এই পর্বের বিষয়ে। এ সম্পর্কে উত্তরে তিনি বলেন, “কোয়ারেন্টাইনে মানুষ সবাই ঘরে বসে। সুতরাং, তারা সবচেয়ে বেশি সময় কাটাচ্ছে অনলাইন দুনিয়াতেই। সোস্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য অনলাইন সাইটগুলো অতি মাত্রায় ব্যবহার করলেও, আমরা এর থেকে কী ধরণের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে, এ সংক্রান্ত জ্ঞান সবার মাঝে নেই।

সেই কারণেই আমরা চেষ্টা করেছি এই ‘সাইবার ক্রাইম’ বিষয়েই একটি পর্বের আয়োজন করতে। সাইদ নাসিরুল্লাহ অভি ভাইয়াকে অসংখ্য ধন্যবাদ তিনি আমাদের সাথে এত সুন্দর ভাবে কো-অপারেট করেছেন। আমরা ছোট মানুষ। তবুও তিনি খুব আন্তরিকভাবেই আমাদেরকে গ্রহণ করেছেন এবং এই উদ্যোগী আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ‘দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর ক্রাইম ডিপার্টমেন্টের করেস্পন্ডেন্ট এবং বড় ভাই জিয়া চৌধুরি ভাইয়াকে। এই পর্বের জন্য উনার আন্তরিকতাও ছিল চরমে। এই মানুষগুলোকে সাথে না পেলে কোনোভাবেই এই আয়োজন এত সুন্দরভাবে করা সম্ভব ছিল না”।

‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’এর পক্ষ থেকে সকলকে এই লাইভ আয়োজনটি দেখার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছেন ১৯ মে বাংলাদেশ সময় ঠিক রাত ৯টায়।




এই সময়ে ঈদ ফ্যাশন

দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় রোজার ঈদে। কিন্তু করোনার প্রভাবে এবারের ঈদ ফ্যাশনের চিত্রটা পাল্টে গেছে। কেমন কাটছে তাদের সময়।

‘উৎসবে ও প্রতিদিনে ভিন্নমাত্রা’— এই শ্লোগান নিয়েই অঞ্জন’স-এর পথচলা। ঈদকে আরও বেশি উৎসব মুখর ও প্রাণবন্ত করতে অঞ্জন’স প্রতিবছর পোশাক নিয়ে বিশেষ আয়োজন করে থাকে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে সমসাময়িক ট্রেন্ড নিয়ে এবারের আয়োজনে থাকছে জামদানি, কাঁথা, কলকা, ফুলকারি সহ বিভিন্ন ধরনের জিওমেট্রিক ও ফ্লোরাল মোটিফ। আর পোশাকের প্যাটার্ন চলমান ট্রেন্ড অনুসরণ করেই করা হয়েছে।

ঈদ আয়োজনে মেয়েদের জন্য থাকছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ ওড়না ও বিভিন্ন ধরনের টপস। ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, টি-শার্ট ও শেরোয়ানী। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া। তারুণ্য নির্ভর এবারের ডিজাইনে বিভিন্ন ধরনের কটন, লিনেন কটন, জর্জেট, সিল্ক, এন্ডিকটন সহ নতুন ধরনের উইভিং ডিজাইনের কাপড় দিয়ে পোশাকগুলো করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা আছে অঞ্জন’স-এর ঢাকার সোবহানবাগ, রিং রোড মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বনানী রোড ১১, বেইলি রোড, ওয়ারি, মালিবাগ, রংপুর এবং খুলনা শাখা। স্টোরের পাশাপাশি নান্দনিক রুচি ও সর্বশেষ ট্রেন্ড নিয়ে এবারের আয়োজনগুলো অনলাইনে www.anjans.com এবং ফেইজবুক anjans.bd-এ পাওয়া যাবে। ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি ও অঞ্জন’স-এর শীর্ষ নির্বাহী মো. শাহীন আহম্মেদ বলেন, দেশের বৃহত্ শপিংমলগুলো বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র গুলশান দেশিদশ খোলা আছে। সংগঠন থেকে অন্যান্য ফ্যাশন হাউজগুলোর আউটলেট খোলা না খোলার বিষয়ে সদস্যদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হবে না। নিজ উদ্যোগে কেউ চাইলে দোকান খুলতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উত্সাহিত করতে হবে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে ‘সারা’ লাইফ স্টাইল এবার অনলাইনের মাধ্যমেই পণ্য পৌঁছে দিবে গ্রাহকের দরজায়। সারার নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারার পেজ থেকে পণ্য অর্ডার করলেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে। বরাবরের মতই সারার এবারের ঈদ আয়োজনে মেয়েদের জন্য থাকছে পার্টি ওয়্যার সিঙ্গেল পিস, পার্টি ওয়্যার থ্রি-পিস, এক্সক্লুসিভ শাড়ি, প্রিন্টেড শাড়ি, কুর্তি, প্রিন্টেড থ্রি-পিস, ফ্যাশন টপস ও ডেনিম। শিশুদের জন্য থাকছে ফ্রক, টপস, টপস-স্কার্ট সেট, টপস-বটম সেট, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, বটমস, পাঞ্জাবি-পায়জামা, নিউ বর্ন-নিমা সেট। তবে সারার ঈদ আয়োজনে এবার অন্যতম আকর্ষণ হিসাবে রয়েছে ফুল ফ্যামিলি কালেকশন— পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি, টি-শার্ট, পোলো শার্ট। অনলাইন শপিংয়ের জন্য

করোনায় থমকে থাকা জীবনে আসন্ন ঈদ উৎসব খানিকটা বর্ণিল করতে জেন্টল পার্ক এনেছে নতুন ডিজাইনের ঈদ পোশাক। স্টোরের মতো সব পণ্যই এবার মিলছে তাদের অনলাইন স্টোর ও ফেসবুক প্লাটফর্মে। দেশি মোটিফের সঙ্গে প্যাটার্ন, কাটিংয়ের বৈচিত্র্যতা নিয়ে পুরো ঈদ পোশাকই এবার তারুণ্যের ট্রেন্ড নির্ভর। থাকছে কাবলি, কামিজ, কুর্তি, পাঞ্জাবিসহ শিশুদের পোশাক। নতুন পোশাক ক্রয়ে ক্রেতা আগ্রহ বাড়াতে থাকছে মূল্যছাড় ক্যাম্পেইন। শোরুমে বা অনলাইন প্লাটফর্মে কেনাকাটায় থাকছে সকল পণ্যে ২০% মূল্যছাড় সুবিধা। ঘরে বসে ঈদের পোশাক পেতে বাড়তি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে না। জেন্টল পার্ক অনলাইন প্লাটফর্মে কেনাকাটায় নিজস্ব ডেলিভারি টিম ঢাকা ও চট্টগ্রামে পণ্য পৌঁছে দিবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। পাশাপাশি সারাদেশের গ্রাহকরাও বিনামূল্যে পাবেন বাড়তি মূল্যছাড় সহ ডেলিভারি সুবিধা। জেন্টল পার্কের উদ্যোক্তা ও প্রধান ডিজাইনার শাহাদত্ হোসেন বাবু জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বজুড়েই এখন দুঃসময়। তবুও ফ্যাশনপ্রিয় সবাই যেন সীমিতভাবে হলেও ঈদ আনন্দে মেতে ওঠতে পারে তাই গ্রাহকদের বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছি আমরা। নিয়ম মেনে দেশজুড়ে বিনামূল্যে পণ্য ডেলিভারি সুবিধাছাড়াও সকল পণ্যে ২০% মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা করেছি। সামাজিক দূরত্ব এবং সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ১০ মে থেকে আমাদের রিটেইল স্টোর খোলা রাখা হচ্ছে। জেন্টলপার্কের স্টোর ছাড়াও ফেসবুক ভেরিফাইড পেজ এবং অনলাইনে মিলবে ঈদ পোশাকের খোঁজ ও ছবি সহ প্রয়োজনীয় তথ্য। অনলাইন শপিংয়ের জন্য : www.gentlepark.com

মুসলিম বিশ্বে চলছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। কয়েকদিন পরই আসছে আনন্দের দিন ঈদ। যদিও চলতি বাস্তবতায় ঈদের সেই চিরচেনা আনন্দ থাকবে না। ঘরে আটকে থাকা মানুষের মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটার আনন্দ নেই। তবুও যে জীবন থেমে নেই। আর এমন বাস্তবতায় ফ্যাশন ব্রান্ড বিশ্বরঙ-এ থাকছে ঘরে বসেই ঈদ শপিং করার সুযোগ। অনলাইনে পছন্দের পোশাকটি অর্ডার করলেই পৌঁছে যাবে আপনার ঘরে। কারণ পণ্য সরবরাহের প্রতিটি ধাপে বিশ্বরঙ-এর থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা। বিশ্বরঙ-এর অনলাইন শপে স্বাভাবিক সময়ের মতো মন মাতানো সব বাহারি ডিজাইনের কালেকশনই থাকছে; সেই সঙ্গে থাকছে ঈদ শুভেচ্ছা স্বরূপ ১০% মূল্যছাড়। ওয়েব পেজ www.bishworang.com এবং ফেসবুক পেজ bishworangfanclub-এর মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসেই কিনতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি।

এই করোনাকালে সরকার নির্দেশিত নিয়ম মেনে ক্রেতা ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কে ক্র্যাফট ঢাকাতে কিছু নির্দিষ্ট শাখা ও খুলনায় অবস্থিত শাখা ক্রেতাদের জন্য সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন শপ www.kaykraft.com এবং ফেসবুক পেজ kaykraft.com.bd-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে ক্রেতারা বিকাশ, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড এবং ঢাকায় ক্যাশ অন ডেলিভারি নিয়ে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা আছে কে ক্র্যাফট এর ঢাকার সোবহানবাগ, রিং রোড মোহাম্মাদপুর, মিরপুর, বনানী রোড ১১, বেইলি রোড, ওয়ারি, মালিবাগ, আজিজ সুপার মার্কেট, গুলশান দেশিদশ এবং খুলনা শাখা।

দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফটের উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, অনলাইন ও আউটলেট থেকে এই দুর্যোগ সময়ে যারা কেনাকাটা করে দেশীয় পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত সবাইকে তাদের নিজ নিজ পেশা রক্ষায় সাহায্য করছেন—তাদের সবার প্রতি কে ক্র্যাফট কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সীমিত সময়ের জন্য ৩০% ছাড়ে সকল পণ্য বিক্রি করছে। তিনি আরও বলেন, এবারের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঈদ উদযাপনে অনেক ক্রেতা নানা কারণে কেনাকাটাতে সাশ্রয়ী হবেন, আবার কেনাকাটা না-ও করতে পারেন। ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান, আপনি যদি কেনাকাটা করেন, তাহলে দেশীয় পণ্যই কিনুন, দেশজ উৎপাদনে সহযোগী হন।

ইত্তেফাক/




আকাশ যখন ছাদ, রোদ-বৃষ্টি তার নিত্য সঙ্গী

মেহেরপুরের গাংনীতে প্রতিবন্ধী ৪ কন্যাকে নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছে মা মেহেরনীগার। একদশক আগে স্বামী হারিয়ে ভিক্ষা করে সংসার চালায় মেহেরনীগার। কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে দিন পার করে পরিবারের ৫ সদস্য। বাংলাদেশ সরকার যখন গরীব অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে। তখনও মেহেরনীগারের ভাগ্যে জোটেনি কোন সহযোগিতা। খোলা আকাশ যার ঘরের ছাদ, রোদ-বৃষ্টি তার নৃত্যদিনের সঙ্গী।

জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ৮নং ধানখোলা ইউপি ৫ নং ওয়ার্ড ভাটাপাড়া গ্রামের ভাঙা মাটির ঘরে ৪ প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বসবাস করে মেহেরনীগার। ২০১২ সালে মেহেরপুর শহরের ভিক্ষা করতে গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় স্বামী শফিকুল ইসলাম।
রেখে যায় ৪ মানসিক প্রতিবন্ধী কন্যা সন্তান। প্রথম কন্যা চাঁনতাঁরা খাতুন (১৭) ২য় কন্যা শুকতাঁরা খাতুন (১৪) ৩য় আঁখিতাঁরা খাতুন(১০) ৪র্থ নয়নতাঁরা খাতুন (৬)।

তবে ৪র্থ কন্যা সন্তান কে জালশুকা গ্রামে রফেউদ্দীন লালন পালন করছে ।

মেহেরনীগার বেগম জানান, “কোন আবাদি জমিজমা নেই, দেড় কাটা জমির উপর ক্ষুদ্র মাটির ঘর ছিলো। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেটাও চলে যায়। প্রথম কন্যা চাঁদতাঁরা খাতুনকে সাথে নিয়ে সারা দিন ভিক্ষা করে যা পাই, তাই দিয়ে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন পার করি।”

৮নং ধানখোলা ইউপি ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হযরত আলী জানান প্রতিবন্ধী কার্ড করা হয়নি তবে আগামীতে করে দেওয়া জন্য চেষ্টা করবো।
ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান বলেন, “আমি চেষ্টা করছি ২জন প্রতিবন্ধীকে কার্ড করে দেওয়ার জন্য। একটি পরিবারের ৪ জন সদস্য প্রতিবন্ধী এদের জন্য আমি কিছু করতে চাই।”

গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক বলেন বিষয়টি আমার জানা ছিলো না আমি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।




করোনা জয়ের গল্প শোনালেন বাবা ও তার দুই মেয়ে

বাংলাদেশে কভিড-১৯ করোনাভাইরাস জয় করে শতাধিক মানুষ ঘরে ফিরেছেন। তাদের সেই করোনা জয়ের গল্প অন্য সকলের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার। মহামারী করোনাকে যারা হারিয়ে দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগেরই শেষ পর্যন্ত মনোবল অটুট ছিল। হার না মানার প্রতিজ্ঞাই তাদের সাহায্য করে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।

কিশোরগঞ্জে ভৈরবে এক পরিবারের তিন সদস্য করোনাকে হারিয়ে দিয়েছেন। দুই মেয়ে ও তাদের বাবা এবার শুনিয়েছেন করোনাজয়ের গল্প। পরিবারের অভিভাবক কাজী আবুল হোসেন ব্যবসায়ী। তার দুই মেয়ে হালিমা তুর্য স্নিগ্ধা ও নওশিন শার্মিলী নিরা। গত ১৭ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন স্নিগ্ধা। আক্রান্ত হওয়ার পর রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। পরদিন ডাক্তার তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নমুনা পরীক্ষা করে ঢাকায় পাঠায়। ১৯ এপ্রিল তার বাবা আবুল হোসেন ও ছোটবোন নিরার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। তাদেরও একই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায় প্রশাসন। বাবাকে নিয়ে বেশি চিন্তায় পড়েন স্নিগ্ধা। কারণ তার ৬০ বছর বয়সী বাবার হৃদরোগসহ শরীরে আরও কিছু রোগ রয়েছে।

হাসপাতালে থেকে নিয়মিত তারা ওষুধ খাওয়াসহ সব নিয়ম মেনে চলেছেন। এরপর গত শুক্রবার আবারও বাবা-মেয়েদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। সোমবার তিনজনেরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। স্নিগ্ধা জানান, নিয়ম মেনে চলায় এটা সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ৫ বার গরম পানিতে ভাপ নেয়াসহ গারগিল করা, লেবুর শরবত, আদা-লং লেবু দিয়ে দৈনিক ৮-১০ বার চা পান, ফলমূল খাওয়া সবই করেছি। ডাক্তারদের দেয়া ওষুধ নিয়মিত সেবন করেছি। চিকিৎসকদের কথা মেনে চলেছি। আবারও আমাদের তিনজনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তখন নেগেটিভ আসলে আমরা হাসপাতাল থেকে রিলিজ পাব। সূত্র-বাংলাদেশ প্রতিদিন




পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এভারেস্টের সমান গ্রহাণু!

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এভারেস্টের সমান গ্রহাণু। ২.৫ মাইল চওড়া গ্রহাণুটি ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৪৬১ মাইল বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। ২৯ এপ্রিল ভোর ৫টা ৫৬ নাগাদ পৃথিবীর গা ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ গ্রহাণুর নাম দেয়া হয়েছে ২০১২এক্সএ১৩৩ ।

নাসা সূত্রে জানা গেছে, গ্রহাণুটির আয়তন প্রায় মাউন্ট এভারেস্টের সমান। আকারে বৃহৎ এ গ্রহাণুর সামনের অংশে উঁচু রেখার মতো রয়েছে, যা দূর থেকে ‘মাস্কের মতো’ দেখতে। গ্রহাণুটির কোড নাম ৫২৭৬৮ এবং এটি শেষবার ১৯৯৮ সালে দেখা গিয়েছিল।

পৃথিবী ঘেঁষে উড়ে যাওয়ার সময় পৃথিবী থেকে গ্রহাণুর দূরত্ব হবে ৩৯ লাখ কিলোমিটার। পৃথিবীর সঙ্গে এ গ্রহাণুর সংঘর্ষের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা)। নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী স্পর্শ করবে না এ উল্কাপিণ্ড।
অতীতে এমন আরও বেশকিছু গ্রহাণু পৃথিবীর কোলঘেঁষে অতিক্রম করেছে এবং পৃথিবীর নিকটবর্তী বিভিন্ন বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছে। তাই ভবিষ্যতে এমন আরেকটি গ্রহাণু যে পৃথিবীর ওপর আঘাত হানবে না, সেটা খুব ফলাও করে বলা যাচ্ছে না। এ কারণে নাসাসহ অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো নিয়মিত এসব ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলোর দিকে কড়া নজর রাখছে। সূত্র-বাংলাদেশ প্রতিদিন




স্বল্প পরিসরে পালিত হলো ‘মেহেরপুর প্রতিদিন’ এর ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

মেহেরপুর প্রতিদিন এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুর প্রতিদিন এর প্রধান কার্যালয়ে স্বল্প পরিসরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে প্রতিনিধি ও পেপার বিলিকারকদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত ২৬ মার্চ মেহেরপুর প্রতিদিন এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারনে পালন করা হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে সঠিক তথ্য না থাকায় সামাজিক ও শারিরীক দুরুত্ব বজায় রেখে শুধু ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পত্রিকার প্রকাশক এম এ এস ইমন, সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোযাম্মেল আযম, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর প্রতিদিন এর যুগ্ম সম্পাদক আল-আমিন, চীফ রিপোর্টার মর্তুজা ফারুক রুপক, স্টাফ রিপোর্টার এ শাহীন সিদ্দিকী, আক্তার হোসেন, শহিদুল ইসলাম, পারভেজ, বাসারুল, ফয়সাল, পিয়াল, রনি, মিন্টু সহ প্রত্রিকা সংস্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।




মেহেরপুর প্রতিদিন’র সাংবাদিক পারভেজ আহত

মেহেরপুর প্রতিদিন’র সাংবাদিক পারভেজ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে মেহেরপুর পুরাতন বাসস্টান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি টিকেট কাউন্টারের সামনে মুখোমুখি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন।

এতে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল টি মারাত্বক ভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায়।

‘মেহেরপুর প্রতিদিন’ পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।




কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল

কলুর ঘাড়ে ঘানি, চোখের ওপর মোটা কাপড়ের পর্দা দেয়া কলুর বলদ চলছে। কাঠের তৈরী ঘানিটা ঘুরছে, আর সরিষা পিষেতা থেকে তেল বেরুচ্ছে। ধীরে ধীরে মাটির পাত্রে সরিষার তেল। এভাবে তৈরি হয় খাঁটি সরিষার তেল। এর ঝাঁঝালো গন্ধে চোখে পানি এসে যায়।

বলছিলাম কুষ্টিয়ার কুমার খালী উপজেলার শেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল তৈরীর কথা। কয়েক বছর আগেও একমাত্র এই ঘানি ভাঙানো সরিষার তেল দিয়েই মিটতাসে কল পরিবারের তেলের চাহিদা।

বর্তমানে এখন আর এই ঘানি প্রত্যন্ত গ্রামে ও খুজে পাওয়া যায় না। তাই খাঁটি সরিষার তেলও মেলে খুব কম। বর্তমানের ভেজালের দিনে শতভাগ খাঁটি জিনিস খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এ কারণে তার ক্রেতা ও বেশি।

শুধু এলাকার মানুষ তার এ খাঁটি তেল কেনেন না, জেলা শহর থেকেও আগ্রহী ক্রেতারা এসে তেল নিয়ে যায় মিজানুর রহমান। কুষ্টিয়ার কুমার খালী উপজেলার শেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। এক সময় সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন সুদুর মধ্য প্রাচ্যের দেশ ওমানে।

হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দিনরাত খেয়ে না খেয়ে কাটিয়েছেন বিদেশে। ৫ বছর বিদেশ থাকার পর এক সড়ক দূর্ঘটনায় তার দুই পা ভেঙে যায়। এরপর আর বিদেশ থাকা হয়নি তার। দেশে ফিরে এসে যৎসামান্য টাকা আর হালের দুইটি বলদ দিয়ে শুরু করেন পৈত্রিক ব্যাবসা।

নিজের সংসারের হাল ফেরানো আর মানুষকে ভালো খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। শুরু করেছেন ঘানিতে সরিয়া পিশে তেল তৈরী করে বিক্রির কাজ। আর তার এই কাজে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন তার মা।

আব্দুল্লাহ শাহ নামের এক ক্রেতা জানান, এক সময়ে কাঠের ঘানির সাহায্যে ফোঁটায় ফোঁটায় নিংড়ানো খাঁটি সরিষার তেল এক সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারে বিক্রি হতো। এ তেল বিক্রি করেই জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন কলু স¤প্রদায়রা।

তবে এক সময়ের গ্রাম বাংলার এই অতিপরিচিত দৃশ্যটি এখন খুব একটা চোখে পড়েনা। বৈদ্যুতিক যন্ত্রেই করা হয় তেল ভাঙানোর কাজ।

মিজানুর রহমান বলেন, বিদেশ যাওয়ার কয়েক বছর পর সড়ক দূর্ঘটনায় ফিরে আসি। সে সময় দেশে ফিরে বাড়ীতেই হালের বলদ দিয়ে শুরু করি পৈত্রিক ব্যাবসা। ৫ কেজি সরিষা থেকে প্রায় আড়াই কেজি তেল তৈরী হয়। আমরা এই তেল এখান থেকেই ১২০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি করে থাকি। অনেকেই এই ঘানি দেখতে আসে এবং তেল কিনে নিয়ে যায়।

ফজল শাহ নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আগে তো আমরাই সরিষার তেল দিয়েই তরকারী খেতাম, ভর্তা ভাজি খেতাম, শরীরে মাখতাম। আর এখন অনেক টাই কমে গেছে এর ব্যবহার। তাছাড়া ভেজালের ভীড়ে আমরা হারিয়ে যেতে বসেছি আসল কেই। যদি কোন ভেজাল না মেশানো হয় তা হলে এই তেলের উপরে আর কোন তেল নেই।

মার্কেটিং আর চটকদার বিজ্ঞাপনের জন্য সবাই ভুলতেই বসেছেন আসল-নকলের পার্থক্য। তবে মিজানের ঘানি দেখতে প্রতিদিনই আসে আগ্রহী ক্রেতা আর দর্শনার্থীরা।




চুয়াডাঙ্গায় কর্মহীন মানুষের মাঝে গণমাধ্যম কর্মীর খাবার বিতরণ

‘করোনা যুদ্ধ করবো জয়, বাড়ির বাইরে আর নয়’ স্লোগান নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১২’শ কর্মহীন মানুষের বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক হাশেম রেজা।

সোমবার দুপুরে দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

হাশেম রেজা বলেন, বাংলাদেশ প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরই আমি নিজ এলাকায় ফিরে আসি। সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে লিফলেট, মাস্ক বিতরণ করি। মাইকিং করে করোনা সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়ে গ্রামে গ্রামে।

এরই ধারাবাহিকতায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাবার বিতরণে উদ্যোগ নিই।




ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ভুল উপস্থাপন, দুঃখ প্রকাশ

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ খবর জানাতে এসে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ‘ভুল তথ্য’ উপস্থাপন করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিয়মিত অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম শাখার প্রধান হাবিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছি। মহাপরিচালক মহোদয় দেশের সব বিভাগের পরিচালকদের জানিয়েছেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত ২টা করে নমুনা পাঠাতে হবে। আগামীকাল অন্তত এক হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।’

বাংলাদেশে সন্দেহভাজন রোগীদের পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ওই কথা বলেছিলেন তিনি। তবে হাবিবুরের ওই কথাটি সঠিক নয় বলে রাতে গণমাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা। তার চিঠিতে বলা হয়, ‘আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভুলক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রতিটি উপজেলায় ২টি করে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সূত্র- বিডি ২৪ লাইভ ডটকম

প্রকৃতপক্ষে গত ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিবর্গের উপস্থিতিতে একটি সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর ফলে দেশের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে অধিকতর ধারণা সৃষ্টি হবে মত প্রকাশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম গৃহীত হয়। বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীর ৯টি এবং ঢাকার বাইরে ৫টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা কেন্দ্র সচল ছিল। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বাইরে ৪০টি জেলার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২৬৭টি নমুনা সংগৃহীত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন পিসিআর পরীক্ষা কেন্দ্র ১০০টি নমুনা সংগ্রহ করছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান -আইইডিসিআর পৃথকভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১০০টি নমুনা সংগ্রহ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাকি ২৪টি জেলার নমুনা সংগ্রহের তথ্য সন্ধ্যা নাগাদ তাদের হাতে আসেনি। দুপুরেরি ব্রিফিংয়ে দেশে আরও দুজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানানো হয়েছিল, যাদের নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৬ জন। নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতোই ৬ জনে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন