দশ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতার প্রতীক ফুলের চাহিদা কোন কালেই কম ছিল না। ফুলের প্রতি মানুষের ভলোবাসা চিরন্তর। যে কোন উৎসব বা দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলের চাহিদা থাকে ব্যাপক।

এবার ভালোবাসা দিবসে মেহেরপুরে ফুলের চাহিদা বেশ চোখে পড়ার মত। সেই চাহিদা আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে বসন্ত উৎসব। ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত বরণ একই দিনে হওয়ায় উৎসবের আমেজটা একটু বেশি।

এবছর মেহেরপুরে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রির আশা করছে ব্যবসায়ীরা। তবে ছুটির দিন থাকায় একটু হতাশাও প্রকাশ করেছে তারা। ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত বরণকে কেন্দ্র করে জেলায় গড়ে উঠেছে স্থায়ী অস্থায়ী প্রায় অর্ধশত ফুলের দোকান।

গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, মল্লিকা, জারবেরা ইত্যাদি নানা রকম ফুলের সমাহার এইসব দোকান গুলোতে।

স্বার্নালী ফুল ঘরের মালিক রাশেদুজ্জামান বলেন, এবার ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত বরণ উৎসব একই দিনে হওয়ায় ব্যাপক ফুলের জোগান দিয়েছি। আশা করছি লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি হতে পারে। এবছর ফুলের দাম একটু বেশি। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় একটু একটু ভয়ে ভয়ে আছি, দেখা যায় শেষ পর্যন্ত কি হয়।

টুটুল ফুল ঘরের মালিক বলেন, গত বছর প্রায় একলক্ষ টাকার ফুল বিক্রি করেছিলাম এ বছর হয়তো হবে না। স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েরাই বেশি ফুল কেনে। শুক্রবার ছুটির দিনে এইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, তাই এবছর ফুল হয়তো বেশি বিক্রি হবে না।

মুজিবনগর থেকে শাকিল রেজা জানান, ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ভিন্নরুপে সেজেছে মুজিবনগর। সেই সাথে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ফুলের দোকান। বাহারি সব ফুলে সজ্জিত এইসব দোকান গুলো। মেহেরপুরের সব চেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে লোকের সমাগম হবে প্রচুর। সেই লক্ষে শুধু মুজিবনগরেই ২ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার টার্গেট করছে ব্যবসায়ীরা।

গাংনী থেকে শাহিন সিদ্দীকি জানান, গাংনীতে ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব কে কেন্দ্র করে বেশ উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপেক্ষাকৃত তরুন-তরুনীদের মাঝে আমেজটা বেশি। প্রিয় মানুষটাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে তারা। সেই লক্ষে ফুল বিক্রেতারাও বাহারি সব ফুলের সমাহার ঘটিয়েছে দোকানিরা। রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ফুলের দোকান।

মেপ্র/আরপি




‘খাস আদায়’ করছেন দুই যুব মহিলা লীগ নেত্রী

মেহেরপুরের মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের পিকনিক কর্ণার থেকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। গত দুই বছর ধরে বেসরকারী ব্যক্তিদের দিয়ে খাস কালেকশনের দায়িত্ব দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে টেন্ডার করা হলেও অজ্ঞাত কারণে টেন্ডার ছাড়াই পিকনিক কর্ণারটি লিজ দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে কিছু লোককে সুবিধা পাইয়ে দিতে উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী আকলিমা খাতুন ও সাধারণ সম্পাদিকা তহমিনা খাতুনকে এই লিজ দেওয়া হয়েছে। তাদের দুইজনের নেতৃত্বে এগারো জন খাস কালেকশনের দায়িত্বে আছেন।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাস প্রতি চারশ টাকা, মিনিবাস দুইশো টাকা, নছিমন-করিমন ও অটো ৫০ টাকা এবং মোটরসাইকেল প্রতি ১০ টাকা করে খাস আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ গাড়ি প্রতি চুলার নাম করে অতিরিক্ত একশো টাকা আদায় করা হচ্ছে যা রিসিপ্টে উল্লেখ নাই। পিকনিকের এই মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে একশ টি গাড়ি এই পিকনিক কর্ণারে আসছে। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাস জুড়ে গড়ে একশোটি গাড়ি আসে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান। তবে অন্যান্য মাসগুলোতেও একশ নাহলেও প্রতিদিনই অনেক গাড়ি আসে।

ফলে প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ মাসে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আদায় হয়। দুই বছর আগে ওই পিকনিক কর্ণারটি ভ্যাটসহ ২৭ লাখ টাকায় লিজ দেওয়া হয়েছিল। অথচ গত বছর খাস আদায় করে ১১ লাখ টাকার মত পেয়েছিল সরকারি রাজস্ব খাতে। এবছরও খাস আদায় করা হচ্ছে। ফলে গত দুই বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার । অপরদিকে, গুটিকতক রাজনৈতিক নেতা যারা লিজ নিয়েছেন তারা পকেটস্থ করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

যশোরের খাজুরা বাজার থেকে পিকনিকে আসা মিহির ঘোষ ও আলকামা বিশ^াস জানান, গাড়ি প্রতি পাঁচশ টাকা নেওয়া হলেও রশিদ দেওয়া হচ্চে চারশ টাকার। এছাড়া কোন কথা বলতে গেলে তারা খুব খারাপ আচরণ দেখাচ্ছে।

নাটোরের কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম লিটনের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের বার্ষিক শিক্ষা সফর হিসেবে দুটি গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন মুজিবনগরে। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য পর্যটন স্থানের মত মুজিবনগর এক করলে হবে না। মুজিবনগর আমাদের চেতনার জায়গা। এই মুজিবনগরে আসতে পথে পথে চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে। মেহেরপুর জেলায় প্রবেশ করেই এই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। মুজিবনগওে পৌছাতে গিয়ে প্রায় নয়শ থেকে এক হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এটা খুবই দু:খজনক।

মুজিবনগর পিকনিক কর্ণারের একটি দোকানের মালিক ইছাহাক মল্লিক জানান, মুজিবনগরে আসা পর্যটকদের কাছে থেকে কোন টাকা নেওয়ায় উচিৎ নয়। এটা আমাদের স্বাধীনতার জায়গা। আমি ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে ব্যবসা করি। আগে একশ টাকা নেওয়া হত। এখন চারশ থেকে পাঁচশ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, পিকনিক কর্ণারের আম বাগানে গাছ রয়েছে প্রায় ৩শ টি। হায়াত আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকায় বাগানটি বিক্রি করা হয়েছে। সৌচাগারটিও ফ্রি লিজ ফ্রি থাকলেও ৩০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ দেওয়া হয়েছে।

মুজিবনগরনাজমুল ইসলাম নামের অন্য দোকান দার জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি গাড়ি আসে পিকনিক কর্ণারে। সে হিেেসব চারশ টাকা করে গাড়ি প্রতি হলে দুই মাসে আয় হয় ২৪ লাখ টাকা। এছাড়াও ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কমবেশি গাড়ি আসে এই পিকনিক কর্ণারে।

মৌখিকভাবে খাস আদায়ের লিজ গ্রহিতা মুজিবনগর উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী তকলিমা খাতুন ও সাধারণ সম্পাদিকা তহিমনা খাতুন জানান, ইউএনও স্যার আমাদের শ্রমিক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা টাকা তুলে উনার কাছে জমা দিব। উনি আমাদের কত কি দিবেন আমরা জানি না। আমরা এগারো জন এই খাস আদায়ের দায়িত্বে রয়েছি। আজ (গত শনিবার) সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ৮৪টি গাড়ির খাস আদায় করেছি।

মেহেরপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে তিনি কম মূল্য দেওয়ায় টেন্ডার পাননি। তার বিপরীতে ২৭ লক্ষ টাকা ডাক দিয়ে আরিফুল এনাম বকুল টেন্ডার পেয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর টেন্ডারের জন্য তাকে কিছু জানানোও হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা জানান, কিছু জনকে এই সুবিধা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কৌশলে তাদের দায়িত্ব দিয়ে খাস আদায় করাচ্ছেন। এতে সরকার প্রচুর রাজস্ব হারাচ্ছে।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উসমান গনি বলেন, কাঙ্খিত মুল্য না পাওয়ায় ডিসি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক অভিজ্ঞ কিছু লোককে দায়িত্ব দিয়ে খাস আদায় করা হচ্ছে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো: আতাউল গনি বলেন, মুজিবনগর স্মৃতি কমেপ্লক্স দেখভালের জন্য কোন অর্গানোগ্রাম নাই, কোন লোকবলও নাই। তিন বার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় নিয়মানুযায়ী খাস কালেকশন করা হচ্ছে। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পূর্বের অভিজ্ঞতা আছে এমন কয়েকজনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাগান ও সৌচাগার লিজের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

মেপ্র/ইএম




অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! উনিশের যুবাদের হাত ধরে বিশ্বজয় করল বাংলাদেশ। পচেফস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্নায়ুক্ষয়ী ফাইনালে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বৃষ্টি আইনে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নিল আকবর আলী-পারভেজ হোসেন, শরিফুল ইসলামরা, তানজীব হাসানরা। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ক্রিকেট দুনিয়াকে বার্তা দিয়ে রাখল—আমরা উঠে আসছি।

কী অসাধারণ ধৈর্যের না পরিচয় দিয়েছেন আকবর আলী। ক্যাপ্টেনস নক যাকে বলে সেটিই। রীতিমতো ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আকবর খেলে গেছেন। ৭৭ বলে ৪৩ রান করে তিনি আজ জাতীয় বীর। শেষের দিকে রকিবুলও কম যাননি। ভারতীয় বোলারদের বোলিং-তোপগুলো সামলে তিনি অধিনায়ককে সঙ্গ দিয়ে গেছেন অসাধারণ কৃতিত্বে। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই মাঠ ছেড়েছেন এ দুজন।

যশস্বী জয়সোয়ালের বলে সপ্তম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর (পারভেজ হোসেন) মনে হচ্ছিল জয়টা দূর দিগন্তেই থেকে যাবে। তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। কিন্তু এ সময় আকবর নতুন কৌশল হাতে নেন। উইকেটে টিকে থাকতে হবে। হাতে বল অনেক। উইকেটগুলোই কেবল আগলে রাখতে হবে। আকবরের নতুন কৌশলে নিজেকে মিলিয়ে দেন রকিবুল। ভারতের প্রতিটি বল দেখে শুনে খেলেছেন তাঁরা। একপর্যায়ে টানা ২৫ বলে রানশূন্য ছিল বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে নিজেদের খোলস থেকে বের করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ওই মুহূর্তে অবশ্য বৃষ্টি আইন এগিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশকে। পচেফস্ট্রুমের বাংলাদেশি সমর্থকদের তখন কায়মন প্রার্থনা বৃষ্টির। তবে আকবর আর রকিবুল যেভাবে উইকেটে নিজেদের বেঁধে ফেলেছিলেন, তাতে দুর্ভাবনা খুব একটা ছিল না। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন প্রয়োজনীয় রানটা খুব সহজেই নিয়ে নিতে পারবেন তাঁরা। কেবল টিকিয়ে রাখতে হবে উইকেট।

বৃষ্টি একপর্যায়ে এল। সে সময় বৃষ্টি আইনে ১৬ রান এগিয়ে বাংলাদেশ। খেলা আর শুরু না হলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন—এমন একটা সমীকরণ মাথায় নিয়েই ড্রেসিং রুমে ফিরল বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টি থেমে গেল দ্রুতই। এবার নতুন লক্ষ্য ৩০ বলে ৭। বৃষ্টি শেষে মাঠে নেমে আকবর আর রকিবুল তেমন সময়ই নিলেন না। বাংলাদেশকে পৌঁছে দিলেন বিশ্বজয়ের মঞ্চে।

বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। কিন্তু ১৭৮ রানের লক্ষ্যটাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। কারণ রবি বিষনয় নামের এক লেগ স্পিনার। দারুণ ওপেনিং জুটির পর এই লেগ স্পিনারের ঘূর্ণিতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। একে একে ফিরে গেলেন সেমিফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান তানজীদ হাসান, মাহমুদুল হাসান, তৌহিদ হৃদয় আর শাহদাত হোসেন—এবারের যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের এ ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই ছিলেন দারুণ ফর্মে। মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছিল সেট হয়ে যাওয়া ওপেনার পারভেজের চোট। পায়ের চোটে ভালো খেলতে খেলতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। মূলত শ্রুশুষার কারণে যে সময়টুকু পারভেজ মাঠে ছিলেন না, সে সময়টুকুতেই চাপ ভয়বাহভাবে চেপে বসে বাংলাদেশের ওপর।

পারভেজ খোঁড়াতে খোঁড়াতেই মাঠে নামলেন। দেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বারপ্রান্তে। চোট নিয়ে তিনি কীভাবে বসে থাকেন। তিনি মাঠে নামলেন। একাই লড়তে থাকা আকবর তখন সঙ্গী পেয়ে গেছেন। পারভেজ নিজের ইনিংসের দ্বিতীয় অংশটা খুব খারাপ করলেন না। দলের ওপর চেপে বসা ভয়াবহ চাপ তিনি সামলে উঠতে অধিনায়ককে দিলেন যোগ্য সঙ্গ। আকবর যদি বীর হন, তাহলে পারভেজও আজ কম যাননি। ২৩৫ মিনিট ব্যাটিং করে ৭৯ বলে তিনি করেছেন ৪৭। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি বাউন্ডারির মার।

২০১৬ সালে ঘরের মাঠে যুব বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। শিরোপা জয়ের হট ফেবারিট হয়েও সেবার দূর থেকেই দেখতে হয়েছিল অন্যদের জয়োৎসব। এবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠতেই স্বপ্নটা আবার ডানা মেলতে শুরু করে। শেষ চারের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করেই লক্ষ্য ছিল একটাই—শিরোপা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন এক প্রজন্ম লক্ষ্যটাকে নিজেদের করে নিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাটা জানিয়ে দিল দারুণভাবেই।

সূত্র: প্রথমআলো




মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে (পর্ব-৩)

মেহেরপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সফলতার পাশাপাশি রয়েছে ব্যার্থতাও। মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে তিন থানায় পুলিশের বিশেষ তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে।

মাদক বিরোধী অভিযানে ধরা খেয়ে জেলের ঘানি টানছে বেশ কিছু মাদকের হোতা। কেউ জেল খেটে বাড়ি ফিরে বেছে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবন। আবার কেউ পর্দার আড়ালে থেকেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের ব্যবসা। মাদক ছেড়ে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে িেফরে আসতে চাইলেও অনেক সময় তারাও পুলিশের স্বীকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৯ সালের শুরু থেকে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে ৫০৬টি। এই মামলায় গত এক বছরে আটক হয়েছে ৭২০ জন আসামী। এর ভিতর কেউ কেউ জেলে থাকলেও বেশির ভাগই মুক্ত।

মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জেলাতে ২০১৯ সালে মাদক বিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৮’শ ৬১ বোতল ফেন্সিডিল, ১২৭.৫ কেজি গাঁজা, ২ হাজার ১’শ ৭৭ পিচ ইয়াবা, ১.১২ কেজি হেরোইন, ২০ বোতল বিয়ার, ২ লিটার চোলাই মদ ও ৪ টি গাঁজার গাছ উদ্ধার হয়েছে।

প্রশাসনের এতো সাফল্যের পর কিন্তু থেমে নেই মাদক ব্যবসা। বিভিন্ন কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।
গত ৬ ও ১৩ জানুয়ারী দৈনিক ‘মেহেরপুর প্রতিদিন’এ মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশীত হয়। সেখানে বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে যারা বিভিন্ন কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও ‘মেহেরপুর প্রতিদিন’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এক সময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল কিন্তু এখন আর করে না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও পুলিশি বিভিন্ন হয়রানীর কারনে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ সম্পূর্ন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে।

এদের মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের বিজন। এক সময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত খাকলেও তৎকালীন পুলিশ সুপার হামিদুল আলম এর সহযোগীতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। এখন বিজন চট্টগ্রামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

এছাড়াও আরও বেশ কিছু মানুষ আছে যারা মাদক ব্যবসা থেকে সরে এসে জীবিকার তাগিদে প্রবাশে পাড়ি জমিয়েছে।

মুজিবনগর থানার ওসি আব্দুল হাসেম জানান, আমরা গত ২০১৯ সালে ৫৬ টি মাদক মামলায় ১০৯ জন আসামী আটক করেছি। সেই সাথে ৩ কেজি গাঁজা, ৫৯০ বোতল ফেন্সিডিল, ৩৭ পিচ ইয়াবা ও ৬৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছি। আমাদের মাদক বিরোধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মুজিবনগর পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর।

গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, গত ২০১৯ সালে গাংনী থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯০ টি মামলা হয়। এই মামলায় ১১৭ জন আসামীকে আটক করা হয়। সেই সাথে ২ হাজার ৫’শ ৯৫ বোতল ফেন্সিডিল, ৫৩ কেজি ৭৫৫ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ১’শ ৬৫ পিচ ইয়াবা, ১’শ ৫ গ্রাম হেরোইন ও ২ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। গাংনীর মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের পুলিশ সদস্যরা সব সময় তৎপর রয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দ্বারা খান জানান, আমাদের চলামান অভিযানে ২০১৯ সালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২’শ টি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। এই মামলায় ২৪৫ জন আসামী আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই সাথে ৫১৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪’শ ৩৭ গ্রাম হেরোইন, ৩’ ৩৬ পিচ ইয়াবা ও ৯৮ লিটার ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ লক্ষ্য ৮২ হাজার ৪’শ টাকা। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক নিয়ন্ত্রনে আমরা সব সময় সোচ্চার।

জেলা গোয়েন্দা বিভাগের ওসি রবিউল ইসলাম জানান, গত বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাদক নিয়ন্ত্র আইনে ১৬০ টি মামলা হয়। যেখানে ২৪৯ জন আসামীর নাম আছে। সেই সাথে চলমান অভিযানে ১১’শ ৫৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৯ কেজি গাঁজা, ৬’শ ৩৯ পিচ ইয়াবা, ৩’শ ৫৭ গ্রাম হেরোইন, ২০ ক্যান বিয়ার ও চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। মাদক বিরোধী অভিযান আমাদের চলমান আছে। মাদকের সাথে কোন আপস নয়।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল- আমিন ধুমকেতু বলেন, কেউ যদি খারাপ কাজ থেকে সরে আসতে চাই তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কোন মানুষই ইচ্ছে করে খারাপ পথে যায় না। প্রয়োজনের তাগিদে অথবা অসৎ সঙ্গে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যদি প্রশাসন উদ্যোগ নেই এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহযোগীতান করেন তাহলে অনেকটাই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 

জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু বলেন, মাদকের সাথে যারা জড়িত এদের মধ্যে রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে। এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যে সব জায়গায় মাদকের রুট হিসেবে পরিচিত সেখানে প্রশাসনের উদ্যোগে পথ করা যেতে পারে। মাদকের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে অনুরোধ করা হবে। সেই সাথে যারা সৎ পথে ফিরে আসবে তাদের পুলিশি কোন হয়রানি বা আটক করা হবে বরং তাদের বিভিন্ন সৎ উপার্জনে সহযোগীতা করা হবে এই আশ্বাস দিলে হয়তো অনেকটা মাদক নিয়ন্ত্রণ হতে পারে।

 

মেহেরপুর পুলিশ সুপার এস এস মুরাদ আলী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সব সময় কঠর অবস্থানে থাকি। আমরা ইতিমধ্যে শুধু মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য তিন থানায় তিনটি চৌকস টিম তৈরি করেছি। তারা খুব ভালো কাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযানে ব্যাপক মাদক দ্রব্য উদ্ধার সহ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা করেছে। আমাদের মাদক বিরোধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। (চলবে)

মেপ্র/ইএম




গাংনীতে লোন দেওয়ার নাম করে তিন লক্ষা টাকা নিয়ে লাপাত্তা একটি এনজিও

মেহেরপুরের গাংনীতে পলাশবাড়ি আদর্শ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতারণা। চাকুরি দেবার নামে অর্থবানিজ্য। গ্রাহকদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা সংস্থার মালিক। দরিদ্র ব্যাক্তিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনে নিয়োজিত মাঠকর্মীরা দিশেহারা। আত্নগোপনে শাখা ব্যাবস্থাপক। স্বাক্ষরিত সাদা স্ট্যাম্প নিয়ে মাঠকর্মীদের দেখে নেবার হুমকি অব্যহত মালিক পক্ষের।

জানাগেছে, পালাশ বাড়ি আদর্শ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমতিরি নামে একটি এনজিও সংস্থা (যার গভঃ রেজিঃ নং-০০৫৩৪) । সরকারি কোন প্রকার অনুমোতি বা অনুমোদন না নিয়েই গাংনী পৌর এলাকায় চৌগাছায় একটি পরিত্যাক্ত ঘর ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ শুরু করেন।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করার লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৯ জন মাঠ কর্মী ও একজন শাখা ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়া হয়। আগ্রহী প্রার্থীদের আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নেয়া হয় ৫০ টাকা মুল্যের স্বাক্ষরিত একটি সাদা ষ্ট্যাম্প ও দশ হাজার টাকা জামানত। কয়েক জনকে নিয়োগ দেয়া হয় নামে মাত্র। অধিকাংশই আজো নিয়োগ পত্র হাতে পাইনি বলে জানিয়েছেন মাঠকর্মীরা।

নিয়োগ পত্র না দেয়া হলেও সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী একমাস আগে থেকেই শুরু হয় গ্রাহক সংগ্রহের কাজ। মাঠকর্মীরা স্বল্প সুদে ঋণ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সদস্য ভর্তি শুরু করেন। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১৬১ জন।

এই ১৬১ জনের কাছ থেকে ভর্তি ফিস বাবদ ৩০ টাকা, অফিস চার্জ ২০ টাকা, পাশবই বাবদ ২০ টাকা জমা নেয়া হয়। ঋণ দেবার কথা বলে ভর্তিকৃত সদস্যদের কাছ সেভিং চার্জ হিসেবে জমা নেয়া হয় ১০ হাজার টাকায় ১ হাজার টাকা। মাঠকর্মীরা তাদের উত্তোলনকৃত টাকা ম্যানেজার মাসুদ রানা’র কাছে জমা দিতেন প্রতিদিন। এভাবে গাংনীর বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা আদায় করেন মাঠকর্মীরা।

মাঠকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একমাস যাবত সদস্যদের মাঝে ঋণ দেবার কথা থকলেও সংস্থা কাউকে ঋণ দেয়নি। সদস্যদের কাছ থেকে শুধু টাকা নিয়েই চলেছেন। এ নিয়ে মাঠকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃস্টি হয়। ম্যানেজার মাসুদ রানার সাথে শুরু হয় মাঠকর্মীদের বাকবিতন্ডা।

বিষয়টি জানাজানি হলে চৌগাছাস্থ অফিসে গিয়ে দেখা গেছে ভুতুড়ে পরিবেশে ভগ্ন জরাজীর্ণ একটি ঘরে সাইনবোর্ড সর্বোস্ব একটি অফিস। তিনটি টেবিল আর কয়েকটি চেয়ার বসিয়ে সাজানো হয়েছে অফিসের ভিতর। অফিস দেখে মনেই হবেনা এখানে কেউ বসবাস করেন কিংবা অফিস করেছেন।

তবুও বসে রয়েছেন আরফিনা খাতুন, জুলেখা খাতুন ও লিজন নামের তিন মাঠকর্মী। কথা হয় তাদের সাথে। তারা জানান, আমাদের কাউকে আজো নিয়োগ পত্র দেয়নি পলাশবাড়ি সমবায় সমিতি লিমিটেড। বিভিন্ন গ্রাম থেকে টাকা সংগ্র করে তারা ম্যানেজারের কাছে প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন জমা রাখেন। সংস্থার মালিক জাহিদ হাসান নামের এক ব্যাক্তি আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন। আমাদের সাথে আর দেখা হয়নি সংস্থার মালিক জাহিদ হাসানের। মালিকের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ও কথা হয় ম্যানেজার মাসুদ রানার ।

সমবায় র্কতৃক রেজিষ্ট্রেশনের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে জ কাগজ পত্র নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থার ম্যানেজার মাসুদ রানা। তবে কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন বলে দাবী করা হয়। মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম শুরু করতে হলে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আছে কিনা তা জানতে চাইলে তা নেই ভুইফোড় এ সংস্থার। সম্পূর্ণ ভুয়ার ওপর চলছে তাদের কার্যক্রম।

মাসুদ রানার সাথে সংস্থার বৈধ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সে থেকেই অত্নগোপনে রয়েছেন ম্যানেজার মাসুদ রানা। তবে তার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি পলাশবাড়ি সমবায় সমিতির মালিক জাহিদ হাসনকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

মাসুদ রানা জানায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তিনি চাকুরি নিয়েছেন। তিনি এখন নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান। ম্যানেজার থেকে শুরু করে স্টাফদের কেউ মালিক জাহিদ হাসানের পরিচয় জানেন না। তবে তাদের কাছে জাহিদ হাসান কখনো কুষ্ঠিয়া, কখনো খলিশাকুন্ডি আবার কখনো মেহেরপুরের ছেলে বলে নিজেকে জাহির করতেন।
সর্বশেষ তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের বলে একটি সুত্র জানিয়েছে। তিনি বেশ কিছুদিন মালেশিয়া ছিলেন। প্রবাস খেটে দেশে ফিরে এনজিও’র ব্যাবসা করার পরিকল্পনা করে মানুষকে প্রতারিত করে চলেছেন।

বিষয়টি এলকায় জানাজানি হলে গত মঙ্গলবার মাঠকর্মীরা ম্যানেজার মাসুদ রানার মোটরসাইকেল ও সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত কিছু টাকা জব্দ করে অফিস ঘর মালিকের হাতে জমা রাখেন। পরে ঘর মালিক গাংনী থানা পুলিশ আটকৃত মোটরসাইকেল ও টাকা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। জাহিদ হাসান মাঠকর্মীদের দেয়া স্বাক্ষরিত সাদা স্ট্যাম্প দিয়ে দেখে নেবার হুমকি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মাঠকর্মীরা।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত জাহিদ হাসান তার সংস্থার মাঠকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করলেও বুধবার থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রেখেছেন। জাহিদ হাসানের সাথে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে বক্তব্য লেখা হয়নি।

গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, মোটরসাইকেল ও টাকা পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে তবে শুক্রবার সংস্থার মালিক এখানে আসবেন। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা ফেরদ দিতে হবে।

গাংনী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জানিয়েছেন উক্ত রেজি নাম্বারে গাংনী উপজেলায় কোন সমবায় সমিতিকে রেজিষ্ট্রেশন দেয়া হয়নি। যে রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার সাইনবোর্ডে ব্যাবহার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে।

এনজিও ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, এরা এক ধরনের প্রতারক। এরা এলাকার দরিদ্র মানুষকে বোকাবানিয়ে শোষণ করে পালিয়ে যায়। এদের বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়া দরকার। সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহাম্মেদ জানান, প্রায় একমাস ধরে যারা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন মানুষকে খোজ খবর নিয়ে মাঠ-পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে কাজ করতে হতো। এরা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মানুষের টাকা হাতিয়ে নেবার একটি চক্র। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া দরকার। না হলে এখান থেকে পালিয়ে অন্যদের প্রতারিত করবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান, পলাশবাড়ি সমবায় সমিতি নামের কোন সংস্থা গাংনীতে আছে বলে আমার জানা নেই। কেউ আমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেনি।
মেপ্র/ আরপি




‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’

রাহিতুল ইসলামের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে এই শর্টফিল্ম পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ। ধ্রুব টিভি নামের ইউটিউব চ্যানেল থেকে তোলা এই শর্টফিল্ম এরই মধ্যে দেখা হয়েছে ২৩ লাখের বেশি।

‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’ উপন্যাসটি একজন তরুণ সম্ভাবনায় ফ্রিল্যান্সারকে নিয়ে। ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিয়ে অনেক তরুণই নিজের ভাগ্য বদলেছেন। কিন্তু এ পেশার সামাজিক স্বীকৃতি নেই এখনো। সেরকম এক তরুণের গল্পই আছে এই বই ও শর্টফিল্মে। এই বইয়ে উঠে এসেছে সেই ফ্রিল্যান্সারের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেমের গল্প।

‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’ প্রধানত ফ্রিল্যান্সিং পেশার সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে আবর্তিত। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো চাকরির চেয়ে আউটসোর্সিং পেশা হিসেবে ভালো। নিজের স্বাধীনতা রয়েছে। উপন্যাসটির গল্প কাল্পনিক নয়। এটি মাহাবুব নামের একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবন থেকে নেয়া। শূন্য থেকে শুরু করা এই তরুণ কীভাবে এ পেশার আদর্শ হয়ে ওঠে, সেই দৃশ্যই আঁকা হয়েছে ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্পে’। গল্পের নায়ক মাহাবুবের জীবন-সংগ্রামের পাশাপাশি তার প্রেমের এক অন্তরঙ্গ বয়ান এ উপন্যাস।

এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আফরান নিশো ও তানজিন তিশা অভিনীত শর্টফিল্মটি দর্শক মহলে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইউটিউবে এই শর্টফিল্মের ব্যাপারে ভক্তরা ইতিবাচক প্রশংসা করেছেন। সবার অপেক্ষা এই শর্টফিল্মের দ্বিতীয় সিজনের জন্য। সবার প্রশ্ন কবে আসবে ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প ২’।

 

আরো পড়ুন-চুয়াডাঙ্গায় গাঁজাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক




তিন উপজেলার দুটিতে নেই সাব-রেজিস্ট্রার, দুর্ভোগে মেহেরপুরবাসী

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হয়েছেন গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। মুজিবনগর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার নেই এক বছর ধরে। আর ১৪ ডিসেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার অবসরে গেছেন। এ পদটিও শূন্য। শুধুমাত্র সদর উপজেলায় রয়েছেন একজন সাব-রেজিস্ট্রার। তিনি সদর ও মুজিবনগর উপজেলা অফিস সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

শূন্য পদের ফলে গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সকল কার্যক্রম স্থবির। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জমি কেনাবেচনা ও জরুরী কাজে দলিল উত্তোলন করতে আসা লোকজন। অতিরিক্ত দায়িত্ব কিংবা শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এখানকার মানুষগুলো। শূন্য পদ পূরণ সাপেক্ষে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে এখন মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন হাজারও ভুক্তভোগী মানুষ।

এদিকে, বেকার সময় পার করছেন দলিল লেখক ও তাদের সহকারীসহ দুই শতাধিক মানুষ।
গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৌগলিক দিক থেকে গাংনী উপজেলা মেহেরপুর জেলার অর্ধেক। জনসংখ্যাও এখানে বেশি। ফলে জমি কেনাবেচনার পরিমাণও অনেক। প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই হাজার দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। সর্বশেষ সাব-রেজিস্ট্রার ২৯ ডিসেম্বর বদলি অবস্থায় ৯ হাজার ৯৭৪টি দলিল ভলিউম রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়ায় ছিল। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ভলিউম হয়েছে। কিন্তু সাব রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরের অভাবে সেগুলো মলিকদের দিতে পারছে না।

একইভাবে আরও ৬ হাজার ৯৭৪টি দলিল ভলিউম রেজিস্ট্রিারে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার দলিল হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন দলিল মালিকরা।

জমি ক্রেতা পুর্ব মালসাদহ গ্রামের মুক্তার হোসেন বলেন, আমি এক প্রবাসীর কাছ থেকে দেড় বিঘা জমি কিনে রেজিস্ট্রির দিনক্ষণ ঠিক করি। এখন সেই প্রবাসী আবারও বিদেশ চলে যাচ্ছে। এখন জমি রেজিস্ট্রি না হলে আমার জমির মালিকানা অনিশ্চিত। এ অবস্থায় আমার দুশ্চিন্তার সীমা নেই।

গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমরা ৭০ জন মুহুরী ও ১৫০ জন সহকারী বেকার সময় কাটাচ্ছি। অপরদিকে, ডিসেম্বর মাসে আমাদের সনদ নবায়ন হয়নি। জেলা রেজিস্ট্রার না থাকায় আমাদের দুর্ভোগের কথা বলার জায়গাও নেই।

গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের টিসি মহরার আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিদিনই দলিল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন দলিল মালিকরা। সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় আমাদের সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের নানা মন্তব্য ও গালমন্দও শুনতে হচ্ছে।

এদিকে, মুজিবনগর ও সদর উপজেলা অফিস সামলাচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম। সদর উপজেলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতি বুধবার তিনি মুজিবনগরে জমি রেজিস্ট্রি করেন। এতে সদর ও মুজিবনগর উপজেলার মানুষও ভোগান্তিতে রয়েছেন। সময় মতো দলিল রেজিস্ট্রি ও দলিলের নকল না পেয়ে জরুরী কাজ আটকে যাচ্ছে অনেকের।

২০১৩ সাল থেকে মুজিবনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের স্থায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে প্রতি সপ্তাহে ৬০-৭০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। ২০১৫ সাল থেকে সাব-রেজিস্ট্রার সাদিকুল ইসলাম তালুকদার ২০১৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তারপর থেকেই এ পদটি ফাঁকা।

সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন ও বদলি হয় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে। তাই এ সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের সুনজর ছাড়া ভোগান্তি লাঘব সম্ভব নয় বলে মনে করেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্টরা।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, সরকারের কাছে জানানো হচ্ছে। আশা করছি আমাদের এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত শূন্য পদে সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেবেন সরকার।




রোগীদের সেবা করবে নোমানের হেলপার রোবট

হাসপাতালে অনেক সময় অসহায় রোগীদের সাথে সহযোগী কেউ থাকে না। আবার নার্সরাও সবদিক সামলে উঠতে পারেন না। তবে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার সেবা দেবে হেলপার রোবট। রোগীদের বেডে ওষুধ ও খাদ্য পৌঁছে দেয়া এবং প্রয়োজনীয় দিবে ব্যবহার করা যাবে এই হেলপার রোবট।

এমন এক হেলপার রোবট তৈরী করে আবারো হৈচৈ ফেলে দিয়েছে সেই ক্ষুদে বিজ্ঞানীখ্যাত আব্দুল্লাহ আল নবী নোমান। জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতা পুরস্কার ২০২০ এ মেহেরপুর জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নোমান।

আব্দুল্লাহ আল নবী নোমান মেহেরপুরের গাংনীর তেরাইল-জোড়পুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জাবলুন্নবী ও জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত সুলতানার পুত্র। সে লাইসিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।

এর আগে গত বছর বায়ূ বিদ্যুতের (উইন্ডমিল) মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ যন্ত্র উদ্ভাবনের মাধ্যমে হৈচৈ ফেলে দিয়ে জেলা ও বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করেছিল।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর উদ্যোগে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০২০ অনুষ্ঠিত হবে। গত রবিবর (১২ জানুয়ারী) মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ‘খ’ গ্রুপে অংশ নেয় নোমান। প্রতিযোগিতায় তার তৈরী হেলপার রোবট প্রদর্শন করে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী নোমান তার রোবটের কার্যকারিতা দেখিয়ে বিচারকদের আকৃষ্ট করে।

সহজলভ্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে হেলপার রোবট তৈরী করেছে নোমান। এর মধ্যে রয়েছে তার খেলনার জন্য কেনা ভাঙ্গাচোরা গাড়ীর অংশ বিশেষ। সম্পূর্ণ রিমোট দিয়ে পরিচালিত এই হেলপার রোবট হাসপাতালের রোগী সেবা ছাড়াও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে পারবে বলে জানায় ক্ষুদে বিজ্ঞানী নোমান।

এর আগে রোবট প্রদর্শন করে গাংনী উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এর ধারাবাহিকতায় জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়ে এখন বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী নোমান। আবিষ্কারের নেশার পাশাপাশি লেখাপাড়াতেও ভালো করছে সে। ২০১৯ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় নোমান।

এ প্রসঙ্গে নোমানের গর্বিত পিতা জাবলুন্নবী বলেন, ছেলে সব সময় আবিষ্কার নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এটা এক প্রকার নেশায় পরিণত হয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তার এই কাজের আগ্রহ থাকায় আমরাও তাকে সহযোগিতা করছি।

বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে নোমানের এই প্রজেক্ট দেশের কাজে লাগবে এমন আশা নিয়ে সকলের কাছে ছেলের জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি।

মেপ্র/ইএম




ছাত্রলীগ নেতার বিনা বেতনের পাঠশালা

দুস্থ গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদেরকে বিনা পয়সায় কোচিং করিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখছেন গাংনী উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা ওয়াজ্জেল হোসেন।

গত ৫ বছর যাবৎ তিনি নিজ উদ্যোগে চালিয়ে আসছেন বিনা বেতনের পাঠশালা। তার পাঠশালায় লেখাপড়া করে উপকৃত হচ্ছে এলাকার শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া শতশত শিক্ষার্থী। এলাকার পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে এবং স্থানীয়দের দুঃখ দুর্দশায় পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও নিজেকে মানব সেবায় নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

ওয়াজ্জেল হোসেন গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নুর ইসলামের ছেলে ও ধান খোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০১৩ সালের কথা। বিদ্যালয়ে কোচিং না করায় একের পর এক পরীক্ষায় ফেল করছিল কসবা গ্রামের এক দিনমজুর এর ছেলে ইসরাফিল হোসেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে না পেরে লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছিল ওই শিক্ষার্থী।

বিষয়টি জানার পর তার পাশে এসে দাঁড়ায় ছাত্রলীগ নেতা ওয়াজ্জেল হোসেন। সকাল বিকাল কোচিং করিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করায় শিক্ষার্থীকে। পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করায় শিক্ষক শিক্ষার্থী দুজনের মধ্যেই প্রানের সঞ্চার লাভ করে।

শুরু হয় নব উদ্যোমে বিনা পারিশ্রমিকে কোচিং করানোর বিষয়টি। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হয় বিনা বেতনের পাঠশালা নামরে কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম। সকাল-বিকাল কোচিং করিয়ে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থীকে মেধা তালিকায় নিয়ে আসে ওয়াজ্জেল হোসেন।

খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের কৃতত্ব দেখে মুগ্ধ হয় এলাকার মানুষ। ওয়াজ্জেলের বিনা বেতনের কোচিং এর কারনে এলাকার অসহায় দুস্থ্য পরিবারের ছেলে মেয়েরা তার কাছে পড়তে আসে। তার মানবিকতা ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য হযরত আলী একটি ঘর প্রদান করেন। সে ঘরে বসেই ওয়াজ্জেল এখন মাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কোচিং করিয়ে থাকেন।

যে শিক্ষার্থীকে নিয়ে ওয়াজ্জেল বিনা বেতনের কোচিং শুরু করেন সেই ইসরাফিল এখন ৯ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। ইসরাফিল জানায়, ওয়াজ্জেল তার পাশে না দাঁড়ালে তার লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যেতো। সে এখন লেখাপড়ায় ভাল করছে।

তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী সুরাইয়া জানায়, তার বাবা ও মা দুজনেই শারিরীক প্রতিবন্ধী। তার লেখা পড়ার খরচ যোগানো সম্ভব না হওয়ায় সুরাইয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন ওয়াজ্জেল হোসেন।

কসবা গ্রামের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী ছাদিয়া জানায়, পিতা মাতার অভাবের সংসারে প্রাইভেট পড়ানোর খরচ যোগাতে না পারায় লেখা পড়ায় পিছিয়ে পড়ছিলাম। ওয়াজ্জেল ভাইয়ের কাছে বিনা বেতনে পড়ে আমি এবছর অনুষ্ঠিত পরিক্ষায় ভাল ফলাফল করেছি। তবে তার এ মানবিকতা দেখে সরকারি সহযোগীতা থাকলে বড় পরিসরে লেখা পড়ার কার্যক্রম চালাতে পারবে।

Meerpur

৯ম শ্রেণীর আর এক ছাত্রী মারিয়া জানায়, বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে শুধু মাত্র পাশ করা যায়, কিন্তু ভাল ফলাফল করা যায়না। তার দিন মজুর পিতার কাছে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বল্লে পিতা অপারগতা জানায়। আমার প্রতিবেশী এক বান্ধবির কাছে আমার হতাশার বিষয়টি জানালে সে আমাকে ওয়াজ্জেল হোসেন ভাইয়ের কাছে নিয়ে আসে এবং সেখানেই শুরু করি বিনা বেতনে কোচিং।

শুধু মারিয়া নয় প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে লেখা পড়া করছে। প্রতিদিন সকালে ওয়াজ্জেল হোসেনের বাড়ির উঠানে বসে কোচিং-কাচাদের পাঠশালা। সেখানে প্রাথমিক পড়ুয়া প্রায় অর্ধশতাধিক ছেলে মেয়ে পড়া লেখা করে।

আরো পড়ুন্: বামন্দীতে পল্লী বিদ্যুৎ এর এজিএম কে প্রাণ নাশের হুমকিতে লিটন মেম্বরের নামে মামলা

দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ওয়াজ্জেল তার অবৈতনিক পাঠশালা পরিচালনা করে আসছেন। ছোট বেলা থেকেই ওয়াজ্জেলের স্বপ্ন ছিলো সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে নিয়ে কিছু করার। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ওয়াজ্জেল হোসেন বিনা বেতনে এলাকার গরিব দিনমজুরের ছেলে মেয়ে ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পেরে খুব সাচ্ছন্দ বোধ করেন।

ওয়াজ্জেল হোসেন নিজেও একজন ছাত্র। সে বি.এ বি.এস.এস ক্লাশে লেখা পড়া করছেন। নিজের লেখা পড়ার পাশাপাশি অন্যকে শিক্ষিত করতে শ্রম দিয়ে যাচ্চেন। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার অসহায় গরিব মানুষকে অর্থিক সহায়তা ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করছেন। স্থানীয় মানুষের কিছু হলেই ওয়াজ্জেল হোসেন ছুটে যান তাদের পাশে।

Meherpur

স্থানীয় উপকার ভোগীরা জানান, দিন দিন ওয়াজ্জেলের কাছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে পাঠদানের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জায়গা ও চেয়ার-টেবিল। এসবের ব্যাবস্থা করতে পারলে শতশত শিক্ষার্থী উপকৃত হবে।

আরো পড়ুন্: সাড়ে ৩ বছরের শিশু রাজাকারের তালিকায়!

ওয়াজ্জেল হোসেন জানান, অর্থের অভাবে যেন একটি শিক্ষার্থী লেখা পড়ায় পিছিয়ে না থাকে এ জন্য তার এ বিনা বেতনের পাঠশালা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন আমি দেখিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গরিব অসহায় ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে এগিয়ে নিতে প্রাণপন চেষ্টা করছে। ভালকাজ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মুখ উজ্জল করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন করতে চাই। তাই মনে হয়েছে এলাকার মানুষকে শিক্ষিত করতে পারলেই এলাকার উন্নয়ন হবে। যে সব শিক্ষার্থী আামার কাছ থেকে সুবিধা নিচ্চে তারাও একদিন বড় হয়ে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান বলেন, ওয়াজ্জেল হোসেন তার বাড়িতে বিনা বেতনের যে পাঠশালা চালাচ্ছেন তাতে অনেক মানুষ উপকৃত হচ্ছে। সে যাতে বড় পরিসরে কিছু করতে পারে সে ব্যাপারে তাকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে। তিনি আরো বলেন শুধু ওয়াজ্জেল হোসেন নয় ভাল কাজ করার জন্য সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা উচিৎ।

মেপ্র/ইএম




মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়েছে নারী ও যুবকরাও (২য় পর্ব)

মেহেরপুরে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে নারীসহ যুবকরা। মাদক সেবনসহ ব্যবসায়ী হিসেবেও শোনা যাচ্ছে এদের নাম। অব্যাহত অভিযান, আটক, জেল, জরিমানা কোন কিছুতেই যেন কমছেনা মাদকের বেপরোয়তা।

গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ভারত, মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান বন্ধে সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে। কেন বেগ পেতে হচ্ছে, তাহলে কি মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সুধিজনের মধ্যে।

পুলিশের দাবি মেহেরপুরে মাদক এখন নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কিছু। গতকাল রবিবার সকালেও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বালিয়াঘাট থেকে হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ও সেন্টার পাড়ার রুহুল আমিনের ছেলে মিন্টু মিয়া নামের দুইজনকে ৪২৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করেছে গাংনী পুলিশ এবং বিকালে সদর উপজেলার বুড়িপোতা থেকে বাজিতপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ কুশলি বেগম নামের এক মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে।

মাদকের সাথে জড়িতরা প্রায় আটক হচ্ছে, জেল খাটছেন আবার জামিনে মুক্তু হয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন।

গত ৬ জানুয়ারী মেহেরপুর প্রতিদিন প্রত্রিকায় “মাদকের অভয়ারণ্য তেঁতুলবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত” শিরোনামে ১ম পর্ব প্রকাশিত হয়। যেখানে ১৯ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ হয়।

২য় পর্বের অনুসন্ধানিতেও উঠে এসেছে আরও ১০ জনের নাম। এর মধ্যে আছে বেশির ভাগ নারী ও যুবকের নাম। এদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ এই যুবকদের কারণে। জীবনের মূল্যবান সময়টা কারো না কারো প্ররোচনায় অথবা অধিক ইনকামের আশায় তারা মাদকে জড়িয়ে পড়ছেন।

গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের ইউনুস মোল্লার ছেলে সুজন। এর বিরুদ্ধে মাদকসহ ৪টি মামলা রয়েছে। ধরণ পাল্টিয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। করমদী গ্রামের আমির কসাই এর ছেলে সাহারুল। এর বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা আছে। ২০১৮ ও ১৯ সালে সে মাদক চোরা চালানের সময় ধরা খায়। এ নিয়ে সে জেলও খাটে। তারপরও সে মাদক ব্যবসা ছাড়তে পারিনি।

করমদী গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দস এর ছেলে মাগরিব। এর নামে মাদক সহ ৮টি মামলা আছে। বর্তমানে তিনি মাদক মামলায় ২ বছরের সাজা পেয়ে জেল খাটছেন। করমদি গ্রামের শরিফুল ও সপ্না। এরা দুইজন স্বামী-স্ত্রী। শরিফুল পুলিশের ভয়ে সৌদি প্রবাসী হলেও। সপ্না এলাকায় থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। করমদি গ্রামের শওকত আলীর ছেলে আরিফুল হক। ২০০৮ সালে আরিফুলের নামে একটি মাদক মামলা হয়।

মোহাম্মদপুর গ্রামের শহিদুল এর ছেলে মুক্তাদির আহমেদ কাজল। ২০১৫ সালে তার নামে একটি মাদক মামলা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন কায়দায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সহড়াতলা গ্রামের মজিদ এর ছেলে ফিরোজ। বিশেষ ক্ষমতা আইন মামলার আসামী। ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।

তেঁতুলবাড়িয়ার কামদেবপুর গ্রামের সুলতান মাহমুদ এর ছেলে গোলাম রব্বানী। ২০০৫ সালে একটি এবং ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে আরো একটি মাদকের মামলা হয়।

এছাড়াও ১ম পর্বে প্রকাশিত মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় সহড়াতলার মনিরুল ফকির এর স্ত্রী রাহিমা। এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। তার নিয়ন্ত্রনে আছে বেশ কয়েকজন ছোটখাট ব্যবসায়ী।

মাদকের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, গাংনীর মাদক ব্যবসা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। চলমান অভিযানে মাদক এখন দুষ্প্রাপ্য। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে আমরা বেশ কয়েকটা সফল অভিডান পরিচালনা করেছি। একটা সময় ছিল যখন গাংনী থেকে নামি দামি বাইকে চড়ে সীমান্তু এলাকায় গিয়ে মাদক সেবন করতো এলাকার তরুণ জেনারেশন। কিন্তু এ দৃশ্য আর চোখে দেখা যায় না। আমরা আশা করছি অল্প দিনেই গাংনী কে মাদক মুক্ত উপজেলা ঘোষনা করা হবে।

মেহেরপুর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজালাল খান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বছরের শুরুতেই আমরা দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল দিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। (চলবে)

মেপ্র/ইএম