মেহেরপুরে ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ খুন

মেহেরপুর জেলায় গত ২ সপ্তার ব্যবধানে ৪ জনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গাংনী উপজেলায় তিনটি ও মেহেরপুর সদরে একটি। পরকিয়া ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এইসব হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৯ মে মেহেরপুর সরদ উপজেলার পুরাতন দরবেশপুর গ্রামের শাহাজাহান এর ছেলে সুজন হত্যার ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ ছিল চাচাতো ভাবি শিরিনা খাতুনের সাথে অবৈধ সম্পর্কের কারনে খুন হয় সুজন। এ ঘটনায় ভাবি শিরিনা ও সুজনের বউ কাকলিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কাকলিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শিরিনা খাতুন রয়েছে জেল হাজতে ।

গত ১৬ মে গাংনী উপজেলার কাজিপুরে লিচু বাগান দখল করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের ২জনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মৃতরা হলেন ইসমত কবির ডাবলু ও অপর পক্ষের সানারুল। এঘটনায় নিহত ইসমত কবির ডাবলুর মা ইসলামা খাতুন বাদি হয়ে গাংনী থানায় ১০ জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। অপরদিকে নিহত সানারুলের স্ত্রী রশিদা বেগম বাদি হয়ে ২ জনকে আসামী করে একই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এ খুনের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।

গত ২৮ মে গাংনীর বামুন্দির একটি বাসা থেকে সুন্দরী নামের এক পরিছন্নকর্মির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সাথে একই বাড়ি থেকে সুন্দরীর স্বামী রুস্তম আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পার হলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। নিহত সুন্দীরর মামা বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানান ওসি ওবাইদুর রহমান।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে সেটা মূলত সামাজিক অস্থিরতার কারনে। পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রন্ত বিষয়ের জের ধরেই এই খুনগুলো হয়েছে। গাংনীর বামুন্দিতে যে লাশ উদ্ধার হয়েছে সেটি বাদে অন্য খুনের রহস্য সবারই জানা আছে। এজন্য আসামীরা আত্মগোপন করে আছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বামুন্দি খুনের রহস্য উদঘাটন ও অন্য খুনের সাথে জড়িত আসামীদের দ্রæত আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মেপ্র/এমএফআর




পুতুল বিয়ে – চাঁদনী

পুতুল সোনা, পুতুল সোনা
রাগ করনা।
কাল তোমার বিয়ে দেব,
বউ সাজ না।

শাড়ি দেব, গয়না দেব
দেব হাতের চুড়ি।
সুন্দর একটা বর দেব
যাবে শশুড় বাড়ি।




মেহেরপুরের আশরাফপুরে অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার

মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের মানুসিক ভারসাম্যহীন এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরের দিকে আশরাফপুর কারখানা পাড়ার বুরহান উদ্দিনের বাড়ির পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়না তদন্ত করার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আশরাফপুর স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরাতুল ইসলাম ভোলা জানান, গত কয়েকদিন ধরে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মহিলা আমাদের গ্রামে ঘোরঘুরি করছিল। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে মানুসিক ভারসাম্যহীন। শনিবার সকালে বুরহান উদ্দিন এর বাড়ির নিচ তলায় তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিই।
মেহেরপুর সদর থানায় এসআই আহসান হাবিব জানান, মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে অজ্ঞাত এক মহিলার লাশ পড়ে আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সেখানে যায়। পরে স্বাথ্যবিধি মেনে লাশটি উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু মৃত মহিলার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি তাই ময়না তদন্ত শেষে আশরাফপুর গ্রামেই তাকে দাফন করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বলা হয়েছে।
মেপ্র/এমএফআর




মেহেরপুরে পৃথক অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

মেহেরপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে হেরোইন ও ফেন্সিডিল সহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

শুক্রবার বিকালে এস আই মোহাম্মদ মেজবাউর রহমান এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেহেরপুর শহরের কোটপাড়া থেকে অপূ সাহা (২৪) ও শাহীন নামের ২ মাদক ব্যবসায়ীকে ২০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়। আটক অপূ সাহা শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার মৃত অশোক সাহার ছেলে ও শাহীন একই পাড়ার বাবর আলীর ছেলে।

অপরদিকে একইদিনে এস আই অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গাংনী থানার করমদি এলাকা থেকে আট বোতল ফেনসিডিলসহ আরিফুল ইসলাম নামের আরও এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটক আরিফুল ইসলাম করমদি বাজারপাড়ার মৃত আলতাফ হোসেন এর ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ওসি জুলফিকার জানান, শুক্রবার মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় ও গাংনী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
মেপ্র/এমএফআর




মেহেরপুরে নতুন করে ৪ জন করোনায় আক্রান্ত

মেহেরপুরে গাংনীতে নতুন করে ৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দীন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩জন পুরুষ ও ১জন নারী রয়েছে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম জানান,সাহারবাটি গ্রামের রিয়াজুদ্দীন (৬৫),একই গ্রামের কাবিরুল ইসলাম (২৪),গোপালনগরের আশিক এলাহি (৩৬) ও হিজলবাড়িয়া গ্রামের বানুয়ারা খাতুন (৩৮) করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সহ তাদের বাড়ির পার্শবর্তী ১০ টি লকডাউন করা হবে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যাক্তিদের তাদের নিজ বাড়ি থেকেই চিকিৎসাধীন থাকবেন।

সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দীন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ১৯ জনের নমুনা কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয় সেখান থেকে করোনায় পজেটিভ বলে নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য : মেহেরপুর জেলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫জন সুস্থ্য ও ১জন মৃত্যু বরণ করেছেন।

মেপ্র/এমএফআর




দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৫২৩ জনের শনাক্ত আরও ২৩ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৫২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু
আরও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।




হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন আজ

আজ প্রখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর জন্মদিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার নারিন্দায় তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র- তিন মাধ্যমেই ছিল তার সমান পদচারণা। তিন দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্র।

জন্ম ঢাকায় হলেও শৈশব-কৈশোরে স্থায়ীভাবে তার থাকা হয়নি ঢাকায়। বাবার চাকরির সুবাদে ঘুরতে হয়েছে মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুরসহ আরও অনেক জেলায়।

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন স্কুলে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেন ১৯৭০ সালে। এরপর একই বছর স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর অর্থনীতি নিয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্স সম্পন্ন করেন। এরপর পেশা হিসেবে বেছে নেন অভিনয়। যদিও ছাত্রজীবন থেকেই মঞ্চ নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৬৪ সালে কিশোরগঞ্জে মহল্লার একটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়ের যাত্রা শুরু হুমায়ুন ফরিদীর। স্কুল জীবনে থাকতেই নির্দেশনার খাতায় নাম লেখান। সে নাটকের নাম ছিল ‘ভূত’। এরপর ঢাকার মঞ্চে ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ নাটকগুলোতে তার অভিনয় কেবল প্রসংসিতই হয়নি, হুমায়ুন ফরিদীকে করে তুলেছে অনন্য।

টিভি নাটকে হুমায়ুন ফরিদী প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। এরপর ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’, ‘তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘ভবের হাট’ এসব নাটকের তার অভিনয় তাকে শুধু পরিচিতই করেনি, করে তুলেছে তুমুল জনপ্রিয়।

টিভি কিংবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর সঙ্গেই ছিল এ অভিনেতার সর্বাধিক সংখ্যক কাজ। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গেও অনেক নাটকে কাজ করেছেন হুমায়ুন ফরিদী। বিশেষ করে হুমায়ুন আহমেদের ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিক নাটকে হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত চরিত্র ‘কানকাটা রমজান’ এখনও দর্শকমনে দাগ কেটে আছে।

প্রখ্যাত এ অভিনেতার সঙ্গে বেশ ভালো বন্ধুত্ব ছিল আফজাল হোসেনের। মূলত বন্ধু আফজাল হোসেনের সাহস ও উৎসাহে টিভি নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন হুমায়ুন ফরিদী।

এ প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ফরীদি নেই এ কথা ভাবতেই কেমন যেন লাগে! একটা শূন্যতা অনুভূত হয়। আমরা একসঙ্গে কত সময় কাটিয়েছি! কত স্মৃতি আমাদের! কত সুখের স্মৃতি, কত আনন্দের স্মৃতি। সত্যি আমি ফরীদিকে ভীষণ মিস করি।’

টিভি নাটকে হুমায়ুন ফরিদীর কাজ করার পেছনে আরও একজন মানুষের উৎসাহ ছিল। তিনি অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ। হুমায়ুন ফরিদীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখতে দেখতে অনেক বছর হয়ে গেল ফরীদি নেই। আমরা একসঙ্গে বছরের পর বছর কাজ করেছি। থিয়েটার ছিল আমাদের ধ্যান-জ্ঞান। ঢাকা থিয়েটারের হয়ে আমরা দীর্ঘ একটা সময় কাটিয়েছি। আসলে ফরীদি ছিল একজন জাত শিল্পী। জাত শিল্পী কমই আছে আমাদের দেশে। জন্মদিনে তাকে আরও বেশি মিস করছি।’

চলচ্চিত্রেও হুমায়ুন ফরিদী ছিলেন বেশ জনপ্রিয়। তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ দিয়েই এ মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু। শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’ দিয়ে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে তার সাফল্যগাঁথা শুরু।

এরপর ‘ভণ্ড’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের র্যোদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’সহ আরও অনেকগুলো ছবি হুমায়ুন ফরিদীকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। তার অভিনীত বেশিরভাগ চলচ্চিত্রই ছিল সুপারহিট।

বিশেষ করে খলচরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় এখনও দর্শকচোখে তৃপ্তি জুড়ায়। ‘মাতৃত্ব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৪ সালে সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান এ অভিনেতা। ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তি পাওয়া উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘এক জবানের জমিদার, হেরে গেলেন এবার’ ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র।

অভিনয় করলেও লেখালেখির প্রতি তেমন কোনো দুর্বলতা ছিল না হুমায়ুন ফরিদীর। নির্মাণের প্রতি আগ্রহ থাকলেও অভিনয় ব্যস্ততার কারণে সেখানেও খুব বেশি দেখা যায়নি তাকে। তবে কয়েকটি টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন এ অভিনেতা।

ব্যক্তিজীবনে বেশ সাদামাটা মানুষ ছিলেন হুমায়ুন ফরিদী। ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেই শুরু করেন সংসার জীবন। কিন্তু সেটার বিচ্ছেদ ঘটে। সে ঘরে দেবযানি নামে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

এরপর প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে ঘর বাঁধেন এ অভিনেতা। কিন্তু ২০০৮ সালে তাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে ২০১২ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একাই দিনযাপন করেছেন প্রখ্যাত এ অভিনেতা।

করোনায় যখন বিশ্ব আক্রান্ত তখনও বাংলাদেশে আলোচনায় হুমায়ুন ফরিদী। এ মহামারীতে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ‘অকশন ফর অ্যাকশন’ এর আয়োজনে নিলামে তোলা হয় তার ব্যবহৃত বস ব্র্যান্ডের একটি চশমা। ১ মে নিলামে তোলার পর চশমাটির বিক্রি হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ১২ টাকায়! সূত্র-যুগান্তর




১৫ জুন পর্যন্ত মানতে হবে যে ১৫ শর্ত

কোভিড-১৯ সংক্রমণের মাঝেই সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে আগামীকালই শেষ হচ্ছে ছুটি। ৩১ মে থেকে চালু হচ্ছে অফিস-আদালত। সীমিত পরিসরে গণপরিবহণও চলবে।

এই সময়ে জনসাধারণের চলাচল সীমিতসহ ১৫ শর্ত দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে যে ১৫ শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো নিম্নরুপ

১. ৩১ মে ২০২০ থেকে ১৫ জুন ২০২০ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ৫, ৬, ১২ ও ১৩ জুন ২০২০ সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২. নিষেধাজ্ঞাকালে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এ নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে চলাচলে নিষেধাজ্ঞাকালে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। তবে সর্বাবস্থায়ই বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. নিষেধাজ্ঞাকালীন জনসাধারণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
৪. হাটবাজার, দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো আবশ্যিকভাবে বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
৫. আইনশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যে নিয়োজিত সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন—ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

৬. সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে।

৭. কৃষিপণ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

৮. চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীগণ এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবেন।
৯. ওষুধশিল্প, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক প্রণীত বিভিন্ন শিল্পকারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নিষেধাজ্ঞাকালীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স/ডিস্টেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে।
১১. ব্যাংকিং ব্যবস্থা পূর্ণভাবে চালু করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

১২. সব সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারীগণ কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারীকৃত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ব্যতীত সব সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আয়োজন করতে হবে।

১৩. উক্ত নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। উক্ত সময়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে;
১৪. বিমান কর্তৃপক্ষ নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচলের বিষয় বিবেচনা করবে।

১৫. এই নিষেধাজ্ঞাকালে সব ধরণের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। মসজিদ, মন্দির ও সব ধরণের প্রার্থনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।এর ১০ দিন পর প্রথম মৃত্যু হয় এই ভাইরাসে।বৃহস্পতিবার পর্যমন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫৫৯ জনের।আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৩৭১ জনে। সূত্র-যুগান্তর




ঝিনাইদহে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

ঝিনাইদহে সদর হাসপাতালে ভর্তির পরও চিকিৎসা অবহেলায় হারুন অর রশিদ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ওই বৃদ্ধর বাড়ি নাটোর জেলায় বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার মৃতদেহটি সদর হাসপাতাল মর্গ হাউজে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পেয়িং ওয়ার্ডে।

জানা গেছে, ১মাস রোজা করায় হারুন অর রশীদের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। এরপর ডাক্তার দেখানোর জন্য তিনি বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে যান। এসময় ডাক্তার আব্দুল্লাহ তাকে দেখে পেয়িং ওয়ার্ডের ৪নং বেডে ভর্তি করান। ওই সময় ডিউটিরত নাজিরা,তহুরা নামে দুইজন নার্স ও ওয়ার্ডবয় রোকন তার কাছে বেড ভাড়া বাবদ ২০০টাকা দাবী করে। টাকা দিতে না পারায় তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে পাশে ভর্তিরত রোগীর স্বজনরা জানান। দীর্ঘ ৫ঘন্টা চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রাত ১০টার দিকে সে মারা যায়।

তবে রোগীর কাছে ২০০টাকা দাবী করার বিষয়টি অস্বীকার করে নার্স নাজিরা ও তহুরা জানান,জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডবয় রোগীটি আমাদের কাছে বুঝে দেয়নি। সে কারনে তাকে আমরা চিকিৎসা দিতে পারেনি।

এব্যাপারে সদর হাসপাতালের তত্বধায়ক ডা: আয়ুব হোসেন জানান,আমার ডিউটি আড়াইটা পর্যন্ত একারনে বিষয়টি জানা নেই। তবে বিষয়টি জানলাম আমি খোজ নিয়ে দেখবো।

 




করোনায় মৃত্যুতেও চীনকে ছাড়িয়ে গেল ভারত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চীনের উহান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রণে কিন্তু সারা বিশ্বে লাগামছাড়া। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের পর এবার করোনায় মৃত্যুর দিক থেকে চীনকে পেছনে ফেলেছে ভারত। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যাও চীনের থেকে প্রায় দ্বিগুণ।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান বলছে, চীনে যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ১০৬ জন, সেখানে ভারতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ জন। আক্রান্ত হওয়ায় সংখ্যাটা দাঁড়াচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। পাশপাশি বৃহস্পতিবার রাতের তথ্য বলছে চীনের মৃত্যু সংখ্যাকেও পেছনে ফেলেছে ভারত। চীনে করোনার জেরে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছয়শ ৩৮ জন কিন্তু ভারতে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার সাতশ ১১ জনে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে শুরু হয়েছিল করোনার সংক্রমণ। এরপর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাস। সারা বিশ্বে ৫৯ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই রোগের কবলে পড়েছেন। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি। সারা বিশ্বজুড়ে করোনার ভয়াবহ প্রকোপে পড়লেও মারাত্মক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে ১৭ লক্ষেরও বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভারত ছাড়াও ব্রাজিল, রাশিয়া, ব্রিটেন, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স এবং জার্মানির অবস্থা করোনায় শোচনীয়। সূত্র-বাংলাদেশ প্রতিদিন