মহাজনপুরে বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঙ্গে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই স্লোগানে মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার মহাজনপুর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, জেলা শ্রমীকদলের সভাপতি আহসান হাবীব সোনাসহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।




কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি আফজাল হোসেন মেহেরপুর থেকে গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মো. আফজাল হোসেনকে মেহেরপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার ভোরে মেহেরপুর শহরের তাহের ক্লিনিকপাড়ার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ইবনে মামুনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেইসঙ্গে আশ্রয়দাতা ইবনে মামুনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে মেহেরপুর সদর থানায় নিয়েছে পুলিশ। মেহেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ইবনে মামুনের ভাইয়েরা জুতার ব্যবসা করেন।

সাবেক এমপি আফজাল হোসেনের মালিকানাধীন ‘আফজাল সুজ’ কম্পানির সঙ্গে ইবনে মামুনের ভাইদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সে সূত্রেই এমপি আফজাল হোসেন ওই নেতার বাসায় আশ্রিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবেক এই এমপির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, মেহেরপুর তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরের দিকে জেলার মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল তার।

এ জন্য সীমান্তের একটি চক্রের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকায় চুক্তিও করেছিলেন বলে অসমর্থিত সূত্রগুলো জানায়।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন সাবেক এমপি মো. আফজাল হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি টিম মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। বিকাল নাগাদ পুলিশের টিম মেহেরপুর পৌঁছালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

তবে মেহেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) রিক্যুইজিশনের (অধিযাচন) ভিত্তিতে সোমবার কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সাবেক এমপি মো. আফজাল হোসেনকে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন জানান, বাজিতপুর থানায় সাবেক এমপি মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ কমপক্ষে সাতটি মামলা রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই ৪ আগস্টের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা হয়।




আইনজীবী পরিবর্তন করায় নথি থেকে জমির দলিল গায়েব !

২৩ বছর আগে একটি দেওয়ানী মামলা করে এখন বিপাকে পড়েছেন মুজিবনগরের ভুক্তভোগী ভূমি মালিক ইন্নাল শেখ। দীর্ঘ দিন আদালতের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে তৃতীয় দফার একতরফা শুনানী ও রায়ের দিন জানতে পারলেন প্রাক্তন উকিলের মহুরির দ্বারা জমির দলিল গায়েব হয়েছে।

মামলার বাদীর সাথে কথা বলে ও নথি ঘেঁটে দেখা যায়, দীর্ঘ ২৩ বছর আগে ২০০২ সালের ৩১ মার্চ তারিখে মেহেরপুরের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিবাদী মোঃ মিন্টু জোয়ারদারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলাটি দায়ের করেন ইন্নাল শেখ। মামলা নম্বর ৯৩/০২। সমন জারি ও জবাব দাখিলে বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতিতে বছরের পর বছর চলে যায়। দীর্ঘদিন মামলা চলাকালীন সময়ে আদালতে বিবাদীপক্ষের অনুপস্থিতির কারণে আদালত ইন্নাল শেখের অনুকূলে একতরফা রায় দেন। এরপর আবার বিবাদী পক্ষ যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করে। এরপর আবারো যথারীতি অনুপস্থিত থাকলে আপিলেও একতরফা রায় পান ইন্নাল শেখ। এরপর আবারও বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে একটি মিস কেস করেন করেন মোঃ মিন্টু জোয়ারদার। এরপর থেকে আদালতে যথারীতি অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন।

দেওয়ানী মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়াতে বাদীপক্ষ পরিবর্তন করেন আইনজীবী। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে জেলা আইনজীবী সমিতির এনওসি’র মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আইনজীবী পরিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপরেই বাধে বিপত্তি। আদালতে পুনরায় মামলাটির একতরফা শুনানির সময় দেখা যায় মামলার মূল নথিতে জমির দলিলটি নেই। অথচ ইতিপূর্বে দু দুইবার সেই দলিলের সূত্র ধরেই আদালত ইন্নাল শেখের পক্ষে এক তরফা রায় দিয়েছিলেন।

মামলার বাদি ইন্নাল শেখ বলেন, ‘আমার বৈধ সম্পত্তি নিয়ে বিবাদী পক্ষ আমাকে বিগত ২৩ বছর যাবৎ আদালতের বারান্দায় রেখেছে। অথচ বিবাদী পক্ষ কখনো আদালত না এসে আদালত অবমাননা করে চলেছে। আমার মামলার প্রাক্তন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বারের মুহুরী নুরুলের সাথে বিবাদী পক্ষের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। মুহুরির সাথে আত্মীয়তা ও বিবাদীর পয়সায় মামলার কাগজ পত্র হারানোর মত ঘটনা ঘটছে। কারণ এনওসির মাধ্যমে আইনজীবী পরিবর্তন করার পরেও ২২ মার্চ থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ও তার মুহুরী বারবার আমার মোবাইলে কল দিয়ে একতরফা সাক্ষী ও রায় হবে জানিয়ে টাকা সহ যোগাযোগ করতে বলে।’

আইনজীবী পরিবর্তনের পরেও প্রাক্তন আইনজীবী ও তার মুহুরীর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে। ঘটনা শুনে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বলেন,’এই মুহূর্তে আমি জরুরী কাজে ঢাকাতে আছি। মেহেরপুরে ফেরার পর বিষয়টি আমি দেখব।

আর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রাজ্জাক টোটন বলেন, ‘ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইন্নাল শেখের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা মামলার নথি সমূহ তুলে বেশ কয়েকজন অ্যাডভোকেটকে দেখায়। এটা জানার জন্য, আমাদের মামলার গ্রাউন্ড কি। যেহেতু দীর্ঘদিন যাবত আমার বাবা মামলা পরিচালনা করে আসছেন। তাই সেটা জানার পর ২৩ সালের ৩০ মে আদালতের যেই দিন ছিল, ওদিন নুরুল মুহুরীর কাছে নথি (জমির মূল দলিলপত্র) দিয়েছি কোর্টে জমা করার জন্য। কোর্টের নিচ তলায় উনি বললেন, আমার হাতে দাও আমি জমা করে দিবো। এর কয়েক মাস পরে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, নথি জমা দিয়েছি। আদৌতে তিনি সেই নথি জমা দেননি। আজকে যখন জানতে পারলাম যে নথি কোর্টে জমা হয়নি। তখন বার বার নুরুল মুহুরীকে কল দিলে তিনি অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ‘

মুজাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা বাদি পক্ষ মনে করছি, অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বারের কাছ থেকে মামলা সরিয়ে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার কাছে আইনগতভাবে হস্তান্তর করায় তিনি মুহুরীকে নিয়ে বাদী পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে আমাদের মামলার নথি সমূহ গায়েব করেছেন। আমরা কোর্ট ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করবো বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের ন্যায় বিচার পেতে সহায়তা প্রদান করার জন্য।’

এ বিষয়ে মুঠোফোন নুরুল মুহুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বলেন ‘আজ সকালে আমি আদালতের মূল নথিতে দলিলটি জমা করেছি।’ মুহুরীর এই কথোপকথনের অডিও কালবেলার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

পরবর্তীতে আদালত জমির দলিল মামলার নথিতে না পেয়ে পরবর্তী তারিখে জমির দলিল দাখিল করার নির্দেশ দিলে, আবারো যোগাযোগ করা হয় মুহুরীর সাথে। এ সময় তিনি কোন কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তিনি অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, ভূমি বা জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মানুষকে বিচিত্র ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেকে বলেন, দেওয়ানি মামলার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। প্রযুক্তির যুগেও সমন জারি ও জবাব দাখিলে বছরের পর বছর চলে যায়। একপক্ষের গরহাজিরায় মামলা একতরফা নিষ্পত্তি হয়। অন্যপক্ষ এসে আবার মামলা পুনরুজ্জীবিত করে। আপিল শুনানি ও শেষ হওয়ার পরও একই অবস্থা হয়। ফৌজদারি বিচারে কত দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র, বিচার করতে হবে সেটি বলা আছে। কিন্তু দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই।

এছাড়াও এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে নামজারি করা, উত্তরাধিকার সম্পত্তির নামজারিতে জটিলতা, বেঁধে দেওয়া সময়ে নামজারি সম্পন্ন না হওয়া, ভূমি জরিপের ক্ষেত্রে নানারকম নয়-ছয় করা ইত্যাদি সাধারণ ঘটনা। ভূমি অফিসের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালের যোগসাজশে নানা দুর্নীতি, ঘুষ ও আর্থিক কেলেঙ্কারি তো আছেই। সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভূমির মালিকানা অর্জনের চেয়ে ভূমিরক্ষা করাটাই যেন কঠিন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ১৫ লাখ, হাইকোর্টে ৮৯ হাজার এবং আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন ছিলো।




মেহেরপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া 

পবিত্র রমজান উপলক্ষে মেহেরপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় মেহেরপুর সরকারী কলেজ প্রাঙ্গনে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
কলেজ শিক্ষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি এস এম রফিকুল আলম বকুলের সভাপতিত্বে এসময় বসুন্ধরা শুভ সংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের মেহেরপুর প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, উপদেষ্টা সাবেক শিক্ষক নুরুল আহমেদ, বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ সংগঠক মো. নাফিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. অনিক হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসিম হাসান, কর্মপরিকল্পনা সম্পাদক মোছা. খাদিজা বেগম, অর্থ সম্পাদক মাসুম সুলতানা রানি, নারী ও শিশু সম্পাদক তামান্না তানভির, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মোছা. সামসুন্নাহার, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক আলকামা সিদ্দিকী তারিফ, স্বাস্থ্য ও মানব সম্পদ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের পূর্বে ফিলিস্তিনের জনগণসহ সমস্ত মুসলিম উম্মাহ, দেশবাসী ও বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া ও শান্তি কামনা করা হয় ।



বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফেরা হলো না প্রবাস ফেরৎ যুবকের

বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত আলগামনের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সাগর মিয়া (২৪) নামের এক সৌদি প্রবাস ফেরত এক যুবক হয়েছেন।

আজ শনিবার দিবাগত রাত ৮ টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী-কাথুলি সড়কের চৌগাছা এতিম খানার সামনে এই সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাগর মিয়া গাংনী উপজেলার (কুঠি) ভাটপাড়া গ্রামের তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত সাগর মিয়া গাংনী বাজার থেকে মোটরসাইকেল যোগে ভাটপাড়াতে ফিরছিলেন। চৌগাছা এতিমখানার অদুরে নাবিল ফার্নিচারের কাছে একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আলগামনের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে সাগর মিয়া রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে মারাত্বক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাগর মিয়া বিয়ে করার উদ্যেশ্যে গত ৪ দিন আগে ২ মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। ঈদের পরের দিন গাংনী উপজেলার রাজনগর গ্রামে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আজ বিকালে তিনি গাংনী বাজারে নিজের বিয়ের কিছু বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।




মেহেরপুরের আমদহে বিএনপির সম্মেলন ও ইফতার

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার  সন্ধ্যার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা আমদহ ইউনিয়নের বিএনপি’র প্রাইমারি স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে সম্মেলন ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আলমগীর খান সাতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বক্তব্যে বলেন , তারেক রহমান যে কমিটি দিয়েছে,যারা এই কমিটির সাথে নেই তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের শত্রু। গত ২৫ তারিখে যারা সম্মেলনে উপস্থিত হয়নি এবং গাড়ি বন্ধ করেছে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের শত্রু। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে,ঐক্যবদ্ধ থাকতে হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু একটি মহল এই কমিটি গঠনে বাধা প্রদান করছে।আমরা চাই তাদের সুমতি হক,তারা আমাদের সাথে আসুক, জাতীয়তাবাদীর আদর্শে যে দল সেই দলের নেতৃত্বে আসুক, তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আসুক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহবায়ক ফয়েজ মোহাম্মদ, জেলা বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান, এ কে এম খাইরুল বাশার মীর ফারুক ওমর ফারুক লিটন, রোমানা আহম্মেদ,

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাঁকা বিল্লাহ জেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম,মোশিউল আলম দ্বীপু, ইলিয়াস হোসেন, সৌরভ, আবুল হাসেম, ইসমাইল শাহ, মিজানুর রহমান, সব বিএনপি নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন

সম্মেলন ও ইফতার দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রিপন।

আমদহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সম্মেলনে নতুন কমিটির সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক টোকন আলীকে নির্বাচিত করা হয়।




মেহেরপুর সদর ও পৌর বিএনপির মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরে সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে মেহেরপুর কাথুলী সড়কের খান কমিউনিটি সেন্টারে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়

জেলা বিএনপির আহবায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মতবিনিময় সভায় সঞ্চালনায় করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

উপস্থিত ছিলেন জেলা যুগ্ম আহবায়ক ফয়েজ মোহাম্মদ, মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি সদস্য আলমগীর খান সাতু, খায়রুল বাশার, হাফিজুর রহমান হাফি, রোমানা আহাম্মেদ, ওমর ফারুক লিটন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেনন,জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমুল হোসেন মিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে  জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজমিন নাহার রিনা জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আনিসুল হক লাভলু, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাঁকা বিল্লাহ, , জেলা যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা,জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ছাবিহা সুলতানা,জেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম,জেলা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম মনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক ফিরোজুর রহমান ফিরোজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ইলিয়াস হোসেন,বিএনপি নেতা মোশিউল আলম দ্বীপু,আব্দুল লতিফ, লিটন মাস্টারসহ বিএনপির নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।




দেবাশীষ বাগচির মামলায় মৃদুলের ১ বছর জেল, ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুর অর্থঋণ আদালতে দেবাশীষ বাগচির দায়ের করা মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই সরফরাজ হোসেন মৃদুলের ১ বছর জেল, ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রবিবার মেহেরপুরে যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক এইচ এম কবির হোসেন এ আদেশ দেন। সরফরাজ হোসেন মৃদুল মেহেরপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক। বাদী দেবাশীষ বাগচি মৃদুলের ব্যবসায়ী সহযোগী ছিলেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাদীকে এবং ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে এ মামলায় তিনি যে কয়দিন হাজত খেটেছেন সে কয়দিন সাজার এক বছর থেকে কর্তন হবে।

আদেশ ঘোষণার সময় সরফরাজ হোসেন মৃদুলে মেহেরপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদেশ ঘোষনার পর পুনরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলায় বাদি পক্ষে খ ম হারুন ইমতিয়াজ বিন জুয়েল এবং আসামি পক্ষে খন্দকার আব্দুল মতিন আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৩ সালে সরফরাজ হোসেন মৃদুলের ব্যবসায়ীক পার্টনার দেবাশীষ বাগচি আদালতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের একটি মামলা করেন। যার মামলা নম্বর-৯০৭/২৩ (মেহেরপুর)।

মামলার এজহারে বাদী অভিযোগ করেন, পারিবারিক সূত্রে বহু বছর যাবৎ ঠিকাদারি ব্যবসা করে আসছি। সে ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের সঙ্গে যৌথভাবে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করি। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রকৌশলী, এলজিইডিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টা নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করেছি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের প্রথম দিকে যৌথ ঠিকাদারি ব্যবসা পরিসমাপ্তি ঘটালে তার সঙ্গে আমার মূলধন ও লভ্যাংশসহ আনুমানিক দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি পাওনা হয়। প্রাপ্য টাকা না পেয়ে আমি, আমার ও তার পরিবারের লোকজনসহ জেলা যুবলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে অবহিত করি। এক সময় সবার হস্তক্ষেপে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আমার সঙ্গে হিসাব করতে রাজি হয়। আমি হিসাবে বসতে বললে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে একপর্যায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে তখন সে মৌখিকভাবে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মীমাংসা করে এবং আমাকে ২০২৩ সালের বছরের জুলাই মাসের ১৬ তারিখে ঢাকায় যেতে বলে। ঢাকার আদাবরে তার বাসার সামনে গেলে রিংরোড সাহাবুদ্দিন প্লাজার ওসিস কফিশপে বসে আমাকে ২৪ জুলাই তারিখ দিয়ে রূপালি ব্যাংক মেহেরপুর শাখার এক কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন বাদী।

আমি চেকে দেওয়া তারিখ অনুযায়ী ২৪ জুলাই টাকা উত্তোলনের জন্য অগ্রণী ব্যাংকে চেক জমা করি। এক সপ্তাহ পর ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার দেখিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করে। যেখানে লেখা আছে, গত ৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। ১ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ব্যাংক চেক ডিজাঅনার সার্টিফিকেট দেয়। আমি বিষয়টি আসামীকে জানালে সে আমাকে আজকাল করে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াতে থাকে। অতঃপর আমি বিজ্ঞ এ্যাডভোকেট সাহেবের মাধ্যমে গত ৩০ আগস্ট আসামী বরাবর এন আই এক্ট ১৮৮১ এর বিধান মতে ডাকযোগে নোটিশ প্রদান করিয়া চেকে উল্লেখিত এক কোটি আশি লক্ষ টাকা পরিশোধ করিয় চেকটি ফেরত অথবা বাতিল করার অনুরোধ করি।

চেক ডিজঅনারের মামলায় করায় মন্ত্রীর ক্ষমতায় মৃদুল উল্টো দেবাশীষ বাগচীর বিরুদ্ধে চেক চুরির মামলা করে। পরে ওই মামলায় পুলিশ চেক উদ্ধারের জন্য দেবাশীষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করে।

ওই ঘটনার পরে গতবছরের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় মেহেরপুরের সোডাপ মিলনায়তনে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের বিরুদ্ধে করা সংবাদ সম্মেলনে পাওনা টাকা ও ন্যায়বিচার না পেলে পরিবারসহ আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য দেবাশীষ কুমার বাগচি মনু।

এদিকে, মামলার আদেশ ঘোষণার পর দেবাশীষ বাগচি মানু তার ফেসবুকে ‘আমিই মানু’ লিখে হাসিমাখা ছবি পোস্ট করেন।




ক্যাসিনো সম্রাজ্ঞী সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর স্ত্রী মোনালিসা গ্রেফতার

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন পত্নি ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সৈয়দা মোনালিসাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রবিবার (১৬ ফেব্রæয়ারী) দিবাগত রাতে ঢাকার ইস্কাটন রোডের একটি বাড়ি থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।
একটি বিশ্বসস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে মেহেরপুর সদর থানার ওসি শেখ মেজবাহ উদ্দীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সৈয়দা মোনালিসার নামে মেহেরপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে।

প্রশাসনসহ এলাকার মানুষ এতোদিন জানতেন মন্ত্রী পতিœ সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম সরকার পতনের পরপরই কানাডাতে পালিয়ে গেছেন। কানাডাতে পালিয়ে যাওয়ার ভূঁয়া তথ্য মন্ত্রীরর পরিবার ও দোষররা সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছিল।
এদিকে সৈয়দা মোনালিসা ইসলামের গ্রেফতারের খবর মেহেরপুর জেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে ভাইরাল হওয়ায় অনেকস্থানে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন জনগণ।

খোদ আওয়ামীলীগের নেতা ও স্থানীয়রা জানান, ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসা মিলে মেহেরপুর জেলার মানুষকে শাসন ও শোষন করেছেন। মন্ত্রী যতটা না ক্ষমতাধর ছিলেন সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম ছিলেন তার চাইতে বেশি ক্ষমতাধর।

প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় অনলাইন জুয়াড়িরা জানিয়েছেন, মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুঁয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধপথে রাশিয়াতে গেছে। অনলাইন জুঁয়া নিয়ন্ত্রক ছিলেন সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম। জেলার কয়েক হাজার যুবক, তরুণ এই অনলাইন জুঁয়ায় আসক্ত। অনলাইন জুঁয়াড়িদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাপোর্ট দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকা। এনিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বারবার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অনলাইন জুঁয়াড়িদের দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও আইনী সুরক্ষা। সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম ছিলেন অনলাইন জুয়াড়িদের স¤্রাগী। আর এই কথা বলেছেন, সাবেক মন্ত্রীর ছোট ভাই বর্তমানে দুটি মামলায় গ্রেফতার জেলা যুবলীগের আহবায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুল। তিনি বলেছেন, মোনালিসা ইসলাম অনলাইন জুয়ার নিয়ন্ত্রক ছিলেন; ‘ক্যাসিনো সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে তিনি পরিচিত, মৃদুলের কথা এখন মানুষের মুখে মুখে।

জানা গেছে, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুল দুই হাজার কোটি টাকার মালিক; এর সবটাই দুর্নীতিপ্রসূত। কানাডাসহ দেশ-বিদেশে তার অঢেল সম্পদ।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। সরকারি ত্রাণের কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা এলাকায় থাকলেও মন্ত্রী ও তার ভাইবোন-স্বজন সবাই এখন পলাতক। অথচ ক্ষমতাকালে মন্ত্রী বাইরের ভালো লোক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ‘তার আমলে দল পরিবারতন্ত্রের রূপ নিয়েছিল। জেলা কমিটিতে তার স্ত্রী, ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজন মিলে ২৩ জন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মন্ত্রী পঞ্চপান্ডব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ায় দলে স্বস্তির হাওয়া বইছে, আজকে মন্ত্রী পতিœ গ্রেফতার মানুষের মাঝে ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর মাঝে নতুন সুখবর দিলো। তিনি তিনবার এমপি, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হয়ে প্রকৃত নেতাদের ছুড়ে ফেলেছিলেন। কর্মীরা মূল্যহীন হয়ে পড়েছিল। মূল্যবান হয়ে উঠেছিল প্রশাসন, পুলিশ ও হাইব্রিড কিছু তোষামোদকারী নেতা।’

জানা গেছে, দলকে হাতের মুঠোয় রেখে মন্ত্রী ফরহাদ মেহেরপুরসহ সারা দেশের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা ও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। পুলিশকে ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাসে ৪-৫ কোটি টাকা কামাতেন তার স্ত্রী মোনালিসা ইসলামের মাধ্যমে।
অনলাইন জুয়ার হোতাদের সঙ্গে মন্ত্রী ও সৈয়দা মোনালিসার সাথে অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ও অন্যান্য মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সারা দেশের শিক্ষা সেক্টরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রীর ছোট ভাই সরফরাজ হোসের মৃদুল; স্থানীয় সমাজসেবা, হাসপাতাল ও থানা নিয়ন্ত্রণ করতেন তার ভাগ্নে (মন্ত্রীর অর্থরক্ষক হিসেবে পরিচিত) আমিনুল ইসলাম খোকন; গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথসহ এলজিইডি নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রীর ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস; সমবায়, কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতেন তার বড় ভাই শহীদ সাদেক হোসেন বাবুল এবং সারা দেশে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ সাপ্লাইবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রী-পত্মীর পিএস জোহা। জনশ্রুতি আছে, এ নিয়ন্ত্রকদের হোতা ছিলেন মন্ত্রী ও তার স্ত্রী। এদের মাধ্যমেই অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে ওঠেন তিনি।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, তার স্বর্ণ আগে ছিল ২০ ভরি, সর্বশেষ হয়েছে ৪৫০ ভরি; আয় ও সম্পদ সর্বশেষ ২০০ গুণ বেড়েছে।

মন্ত্রীর দুর্নীতির কথা ফাঁস করেছেন তারই ছোট ভাই সরফরাজ হোসেন মৃদুল। তিনি এক অডিও সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভাইয়ের দুর্নীতির কারণেই আজ আমরা সবাই ঘরছাড়া, পালিয়ে বেড়াচ্ছি এবং মামলার আসামি হয়েছি। ফরহাদ হোসেন নিয়োগ, বদলিবাণিজ্য প্রভৃতি দুর্নীতির মাধ্যমে ন্যূনতম দুই হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কানাডার বেগমপাড়ায় তার বাড়ি আছে। ঢাকায় একাধিক বাড়ি আছে। সবকিছুর নিয়ন্ত্রক ছিলেন মন্ত্রী ও তার স্ত্রী। টাকা ছাড়া টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি কিছুই হতো না।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীর স্ত্রী মোনালিসা ক্যাসিনো সম্রাজ্ঞী হয়ে পুলিশের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন। ক্ষমতা হারানোর পর ৫০ কোটি টাকা দিয়েছেন মামলা থেকে রক্ষা পেতে। তাই তার নামে কোনো মামলা হয়নি। স্ত্রীর কারণেই আমার ভাই নষ্ট হয়েছে।’

জানা গেছে, মন্ত্রীর উপার্জনের বেশি অংশ পাচার হয়েছে কানাডায়। তার অবৈধ উপার্জনে কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি আছে। দুবাইয়ে শারজা স্টেডিয়ামের পাশে মন্ত্রী বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও বনানীতে তিনটি ফ্ল্যাট আছে। কিশোরগঞ্জ ও মেহেরপুরে আছে দুটি বাড়ি। আত্মীয়স্বজনদের নামে-বেনামে কয়েক শত বিঘা জমি ও ব্যাংকে জমা আছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ক্ষমতা হারানোর কিছুদিন আগে শহরে ১১ কোটি টাকা মূল্যে দেড় বিঘা বাড়ির জমি কিনেছেন তার স্ত্রীর পিএস জোহার নামে। মেহেরপুর শহরের দীঘিরপাড়ায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ৯ বিঘা জমি আছে। শহরের পিটিআইয়ের সামনে তার বাবার নামে সরকারি টেক্সটাইল কলেজ নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণকৃত এক বিঘা জমিটি তিনি ২০ লাখ টাকায় কিনে পরে সরকারের কাছে ৭ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। সদর উপজেলার বুড়িপোতা, হরিরামপুর, ইছাখালী, মদনা, আমঝুপি, শ্যামপুর ও মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর, মোনাখালী ও আনন্দবাস এলাকায় বাড়ি ও চাষাবাদের শতবিঘা জমি কিনেছেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।




মেহেরপুর জেলার জেলা ক্রীড়া সংস্কার এ্যাডহক কমিটি অনুমোদন

সাত সদস্য বিশিষ্ট মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারাঃ ২ (১৫)-এ উল্লিখিত স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট গঠনতন্ত্র মোতাবেক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপর অর্পিত ক্ষমতা অনুসরণে মেহেরপুর জেলার জেলা ক্রীড়া সংস্থার আজমক কমিটি অনুমোদন করে।

পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক সিফাত মেহেনাজকে আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আরিফ আহমেদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিতে সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আসাদুজ্জামান লিটন, খেলোয়াড় হিসেবে মো. সাঈদ হোসেন জিকো, ক্রীড়া অনুরাগী হিসেবে মো. আলামিন ইসলাম বকুল, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মো. তামিম ইসলাম এবং ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে মিজানুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে।