‘মসজিদের নগরীকে ক্যাসিনোর শহর বানানো হয়েছে’

মসজিদের শহর ঢাকাকে এখন ক্যাসিনোর শহরে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, মিথ্যা উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারনা করা হয়েছে। আজকে ঢাকা শহরকে জুয়াড়িদের শহরে পরিণত করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই মানবন্ধনের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মঈন খান বলেছেন, ক্ষমতার দম্ভ দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না। অতীতে পাকিস্তানিরাও পারেনি। আপনারাও করতে পারবেন না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি। যিনি সুদীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের লড়াই করছেন। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। কারণ তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেন। এ জন্যই তাকে কারাবন্দী করা হয়েছে। সরকার হয়তো ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে নির্বাচন, প্রশাসন, ও অর্থনীতি সবকিছু দখল করে রেখেছে। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভ দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না। পাকিস্তানিরাও পারেনি। এই সরকারও পারবে না।

আবদুল মঈন খান বলেন, বেগম জিয়াকে চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। সেজন্য চিকিতসকেরা আজকে মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। দেশনেত্রীর জামিন না দেয়ার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।
দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। আসুন আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশনেত্রীর মুক্ত করি।

মানবন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগের দুই কান নষ্ট। কথা বললে তারা শোনে না। তারা কয়লা ময়লা, পাথর ব্যাংক বীমা সবই খায়। কিছু ভালো কাজের জন্য আমরা তাদের প্রশংসা করি। কিন্তু যখন দেখি তাদের সামনে দিয়ে চোর ডাকাত ছিনতাইকারী চলে যায় তখন ব্যাথা পাই। তাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশের অনিয়ম দূর বা বন্ধ করা যাবে না।

বিএনপির আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজানো রায় দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে অবৈধ সরকার। আজকে দেশের ষোলো কোটি মানুষ তার মুক্তি চায়। কারণ বেগম জিয়া ছাড়া দেশের মানুষ অনিরাপদ। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর দেশের গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধকেও কারাগারে নেয়া হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। নির্বাচনের নামে মধ্যরাতের সার্কাস করা হচ্ছে। অবিলম্বে দেশনেত্রীর মুক্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশকে ডাম্পিং ল্যান্ড বানানো হয়েছে। আবারো আসামের নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে।

দেশের সর্বত্র লুটপাট চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে পুরোনো ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ছাত্র রাজনীতিকে কলংকিত করেছেন ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা চাঁদাবাজি করেছে।

রাজধানী এখন ক্যাসিনোর শহর মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা জানতাম মসজিদের শহর ঢাকা। অথচ এখন তা অবৈধ সরকারের ডিজিটাল উন্নয়নের খপ্পরে পরে ক্যাসিনোর শহরে পরিণত হয়েছে। আরো রহস্য উদঘাটন হচ্ছে। ক্যাসিনোর টাকা শুধু যুবলীগের নেতারা পান না। এই টাকা আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের বাসায় যায়। তাদেরকেও খুঁজে বের করতে হবে। বাকি যত ক্যাসিনো আছে সে সব চিরতরে বন্ধ করুন। না হলে জনগণ বুঝবেন এ সব লোক দেখানো এবং তারা নিজেই সে সব বন্ধ করবে।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবদুস সালামের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. শাকিল, সহসভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম সিরাজ, দফতর সম্পাদক ফখরুজ্জামান ফখরুল, মাসুদ রানা, রংপুর বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মারুফ হাসান, শহিদুল ইসলাম, ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. বদর উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. একেএম ফরিদ উদ্দিন, ডা. মেহেদী হাসান প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিনিধি




‘ভৌতিক’ কোনো বিলে স্বাক্ষর করা যাবে না

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ঠিকাদারী কাজের গুণগত মান বুঝে নিয়ে তারপরই সব বিল পরিশোধ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি হাসপাতালের পরিচালক, অধ্যক্ষ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের সাথে দেশের স্বাস্থ্যসেবার দৃশ্যমান অগ্রগতির পর্যালোচনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন ঠিকাদারীর কাজ না করেই তার বিল করে টাকা তুলে নেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি হাসপাতাল সহ স্বাস্থ্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ঠিকাদারী কাজের গুণগত মান বুঝে নিয়ে তারপরই ঠিকাদারদের সব বিল পরিশোধ করতে হবে। অযৌক্তিক বা ভৌতিক কোনো বিলে কোনোভাবেই স্বাক্ষর করা যাবে না।

দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে থাকার জন্য আলাদা ভাবে উন্নত সুযোগ সুবিধা সংবলিত ডরমেটরি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন, শেখ হাসিনা বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি




অনিয়ম দেখলেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে দুর্নীতি বা অনাচার দেখছেন সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন। সে কারণে ছোট খাটো দুর্নীতি হলেও সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো জায়গায় কমিশন খাওয়ার আলোচনা হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এবং কে কোন দলের লোক সেটা দেখা হচ্ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত দুটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব বিবৃতি দিয়েছেন যে তাদের ‘যুবদলের কয়েক জন নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে’। শুধু যুবদল নয় যুবলীগের নেতাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সুতরাং যেখানে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ছিলেন। তিনি নিজেও কালো টাকা সাদা করেছেন। তার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানও কালো টাকা সাদা করেছেন। হাওয়া ভবন নির্মাণ করে যেকোনো ধরনের কাজে ১০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য করেছেন বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর আগে অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান রচিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনী’ এবং নুর উন নাহার মেরি রচিত ‘আমার চেতনায় বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের এই মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে অমর প্রকাশনী।

সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোরশেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় রাখেন মাই টিভির সিনিয়র সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের অরুণ সরকার রানা, ঢাকা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি অভি চৌধুরী প্রমুখ।

মেপ্র/ নিজস্ব প্রতিনিধি




আইফায় সেরা রণবীর ও আলিয়া

২০ বছরে পা রাখলো ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অর্থাৎ আইফা অ্যাওয়ার্ড। সেই ২০০০ সালে শুরু হয়েছিল এর পথচলা। সেই সফর এবার ২০ বছরে পদার্পণ করলো।

প্রত্যেকবারের মতো এবারেও আইফা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসেছিল চাঁদের হাট। পুরস্কৃত করা হয়েছে সেরাদের। এরমধ্যে সেরা ছবির পুরস্কার পায় মেঘনা গুলজারের স্পাই ড্রামা ‘রাজি’। ‘অন্ধাধুন’ ছবির জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেন শ্রীরাম রাঘবন। ‘পদ্মাবত’-এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান রণবীর সিং। আর ‘রাজি’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন আলিয়া ভাট। বিগত ২০ বছরের প্রেক্ষিতে সেরা ছবির বিশেষ সম্মান দেওয়া হয় ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবিকে। নিয়মিত বিভাগ ছাড়াও এবার ২০ বছর উপলক্ষে বিশেষ কয়েকটি পুরস্কার ঘোষণা করা হয় আইফার মঞ্চে।

এদিকে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরি (পদ্মাবত), পার্শ্ব অভিনেতা ভিকি কৌশল (সঞ্জু), নবাগত অভিনেতা ঈশান খট্টর (ধড়ক), নবাগতা অভিনেত্রী সারা আলি খান (কেদারনাথ), সংগীত পরিচালক আমাল মালিক (সোনু কে টিটু কি সুইটি), গীতিকার অমিতাভ ভট্টাচার্য (ধড়ক), নারী শিল্পী হর্ষদীপ কৌর এবং বিভা সরফ (রাজি ছবির ‘দিলবারো’ গানের জন্য), পুরুষ শিল্পী অরিজিৎ সিং (রাজি ছবির ‘অ্যায় ওয়াতন’ গানের জন্য) পুরস্কার পেয়েছেন।

বিনোদন ডেস্ক




হঠাৎ ঢাকায় এলেন শ্রাবন্তী

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। দুই বাংলাতেই রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। ছবিও করছেন এখন এপার-ওপার মিলিয়ে। সর্বশেষ তাকে বাংলাদেশের ‘যদি একদিন’ সিনেমায় দেখা গেছে।

মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ছবিতে তিনি তাহসানের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন বাংলাদেশের ‘বিক্ষোভ’ ছবিতে। শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত এ সিনেমার শুটিং করতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই বাংলাদেশে এসেছেন এ নায়িকা। রাত সাড়ে ৯টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে কলকাতা থেকে রওনা দেন শ্রাবন্তী।

জানা যায়, আজ গাজীপুরে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। চলতি মাসের শুরুর দিকে ছবিটির শুটিং শুরু হয় কলকাতায়। ছবিটি পরিচালনা করছেন শামীম আহমেদ রনি। ছবিটিতে শ্রাবন্তী ছাড়াও আরও অভিনয় করছেন শান্ত খান, বলিউডের রাহুল দেব প্রমুখ। এতে একটি আইটেম গানে পারফর্ম করবেন সানি লিওন।
বিনোদন ডেস্ক




শ্রদ্ধায় সালমান শাহকে স্মরণ করলেন শাকিব খান

ঢাকাই সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহ। তার আজ ৪৮তম জন্মদিন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিজ্ঞাপন, নাটকের পর সিনেমায় নাম লেখান ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করেছেন ২৭টি চলচ্চিত্রে। সেই নায়কের স্মরণে ঢুলি কমিউনিকেশনস আয়োজন করেছে চলচ্চিত্র উৎসব। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা হলে দেখানো হবে সালমান অভিনীত ছয়টি সিনেমা। এই উৎসবের উদ্বোধন হয়ে গেল বৃহস্পতিবার সকালে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সালমানের জন্মদিনের কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। উদ্বোধন শেষে নিজের বক্তব্যে তিনি সালমানকে নিয়ে তার কৈশোরকালের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

শাকিব বলেন, ‘আজ সালমান শাহ নেই আমাদের মাঝে। কিন্তু তিনি এমন একজন মহান শিল্পী যার মৃত্যুর এত বছর পরও কোটি কোটি মানুষের মনে বাস করছেন। মানুষ তাকে এখনো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। তার জন্মদিনে তার মৃত্যুদিনে তার সব স্পেশাল দিনগুলোতে সবাই তাকে বিশেষভাকে স্মরণ করছে। সেলিব্রেট করছে। আমি নিজে ছোটবেলা থেকেই সালমান শাহ’র ভক্ত। সবার মতো আমিও হলে গিয়ে তার সিনেমা দেখেছি। মনে পড়ে হলে গিয়ে আমার প্রথম সিনেমা দেখা স্কুলে পড়ার সময়। সেটা ছিলো সালমান শাহের সিনেমা। আমার ভীষণ পছন্দের নায়ক ছিলেন তিনি। আজ তার জন্মদিনের কেক কাটতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যপার। খুব আনন্দ হতো আজ যদি সালমান ভাই আমার পাশে থাকতেন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সালমান ভক্তরা শাকিব খানের কাছে এফডিসিতে প্রিয় নায়কের নামে কিছু একটা হোক এমন দাবি তুলেন। জবাবে শাকিব বলেন, ‘এটা আরও আগেই হওয়া উচিত ছিলো। দুই একদিনের মধ্যেই আমি এফডিসিতে শুটিং করবো। তখন এফডিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে দাবি করবো যেন সালমান শাহের নামে কিছু করা হয়। তার নামে রাস্তা বা একটা সিনেমা হলের নামকরণ হওয়া উচিত।’ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান শাকিব খান। প্রশংসা করেন উৎসব নিবেদন করা টিএম ফিল্মসের। এই উৎসবের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিপু বড়ুয়া। তার সঙ্গে স্মরণিকা সম্পাদক রুদ্র মাহফুজ, সমন্বয়ক মাহমুদ মানজুর ও সম্পাদকীয় সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাজমুল আলম রানা।

উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফালগুনী হামিদ। আরও বক্তব্য রাখেন চিত্রনায়িকা বুবলী, গানবাংলা টিভি ও টিএম ফিল্মসের চেয়ারম্যান এবং সৌন্দর্যবিদ ফারজানা মুন্নী, নির্মাতা সোহানুর রহমান, ছটকু আহমেদ প্রমুখ। ২০ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার থেকে দৈনিক তিনটি করে শো চালানো হবে বলে জানিয়েছেন হল মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। উৎসবে দেখানো হবে কেয়ামত থেকে কেয়ামত, তোমাকে চাই, মায়ের অধিকার, চাওয়া থেকে পাওয়া, স্বপ্নের পৃথিবী, অন্তরে অন্তরে ও সত্যের মৃত্যু নেই ছবিগুলো।

বিনোদন ডেস্ক




মালিকের ঝড়ে উড়ে গেলেন গেইল-রাসেলরা

চলতি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগটা (সিপিএল) একদমই ভালো যাচ্ছে না জ্যামাইকা তালাওয়াসের। দলের দুই সেরা তারকা ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেল সে অর্থে জ্বলে উঠতে না পারায় একের পর এক ম্যাচ হারতে হচ্ছে দলটিকে।

বৃহস্পতিবার সকালে ষষ্ঠ ম্যাচে পঞ্চম হারের মুখোমুখি হয়েছে গেইল-রাসেলদের জ্যামাইকা। তাদের ৮১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। ম্যাচে গেইল পারেননি কিছুই করতে। ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। তবে তাদের ছাড়িয়ে গেছেন শোয়েব মালিক। ম্যাচে আগে ব্যাট করে গেইল-রাসেলদের জ্যামাইকার বিরুদ্ধে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় গায়ানা। জবাবে রাসেলের ১৯ বলে ৪০ রানের ইনিংসের পরেও মাত্র ১৭.৩ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয়েছে জ্যামাইকা। গায়ানার বড় সংগ্রহ দাঁড় করানোর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন শোয়েব মালিকই। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেটে এসে তিনি অপরাজিত ছিলেন শেষপর্যন্ত। এর মধ্যে ৩৭ বল খেলে ৬ চার ও ৩ ছক্কার মারে ৬৭ রানের এক ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া ব্র্যান্ডন কিং ৩৭ বলে ৫৯ এবং শিমরন হেটমায়ার করেন ২৫ বলে ৪৪ রান। প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েই মূলত ম্যাচ অর্ধেক নিজেদের পকেটে নিয়ে নেয় গায়ানা।

তবু প্রতিপক্ষ শিবিরে গেইল-রাসেলদের মতো ব্যাটসম্যান থাকায় সংশয় ছিলো খানিক। সেটি প্রায় শেষ করে দেন ইমরান তাহির। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৭ রান করা গেইলকে ফেরান তাহির। এরপর চ্যাডউইক ওয়ালটনের উইকেটও নেন তাহির। পরে গ্লেন ফিলিপস ৩২ বলে ৪০ রান করে আশা জাগিয়েছিলেন ভালো কিছুর। কিন্তু রাসেলব্যতীত আর কেউই পারেননি বড় কিছু করতে। দলের আশা বাঁচিয়ে মাত্র ১৯ বল খেলে ৪০ রান করেন রাসেল। তাকে ফিরিয়ে গায়ানার জয় নিশ্চিত করে ফেলেন ওডিয়ান স্মিথ। শেষপর্যন্ত ১৫ বল বাকি থাকতেই ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায় জ্যামাইকা। ছয় দলের টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ছয় ম্যাচ শেষে জ্যামাইকার জয় মাত্র ১ ম্যাচে, অবস্থান টেবিলের সবার নিচে। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচের সবকয়টিতে জিতে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে গায়ানা।
স্পোর্টস ডেস্ক




পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেই শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর নিয়ে নানা নাটকীয়তার অবশেষে অবসান হতে চলেছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বলেই জানালো।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ আশ্বাস পাওয়ার পরই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড সফরের ব্যাপারে তাদের শেষ সিদ্ধান্তের কথা আজ জানিয়ে দিলো। মূলতঃ পাকিস্তান তাদের দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যাক্তি, তথা প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্টকে যে নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে, একই মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের জন্য করা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।

এরপরই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি মোহন ডি সিলভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কায় নিয়োজিত দেশটির হাই কমিশনার আমাদের সরকারকে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তাদের দেশের সরকার প্রধানের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়, আমাদের ক্রিকেট দলের জন্যও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হবে। সে সঙ্গে তিনি অনুরোধ করেন, আমদের ক্রিকেট দলে তাদের দেশে প্রেরণ করার জন্য। এরপরই আমরা সেই সফরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এই সিরিজ নিয়ে শুরু থেকেই ছিল চরম অনিশ্চয়তা। প্রথমে শ্রীলঙ্কার সিনিয়র ১০ ক্রিকেটার পাকিস্তান যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। যার ফলে লাহিরু থিরিমানে এবং দাসুন সানাকাকে অধিনায়ক করে শ্রীলঙ্কা দল ঘোষণা করে। এরই মধ্যে হঠাৎ খবর আসে, পাকিস্তানে লঙ্কান ক্রিকেটারদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার নতুন খবর। যে কারণে শ্রীলঙ্কা সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দেয়, তারা আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। এরপরই পাকিস্তানে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করবে তারা। তবে পাকিস্তান নিশ্চয়তা দেয়, তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে। অবশেষে আজ লঙ্কান বোর্ডের ঘোষণায় সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেলো।
স্পোর্টস ডেস্ক




হেরেও আলোচনায় বাংলাদেশের লড়াকু ফুটবল

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে হার নিয়ে মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে অপেক্ষাকৃত শক্তিধর দলের বিপক্ষে এদিন হারলেও নজর কেড়েছে বাংলাদেশের লড়াকু ফুটবল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বুধবার ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারের কাছে ২-০ গোলে হার দেখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দোহায় এদিন দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। বয়সভিত্তিক ফুটবলে গোলরক্ষক মেহেদী হাসানের বীরত্বের কাহিনী নতুন নয়।

গত বছর মেহেদীর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেবার সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনি শট ঠেকিয়েছিল দুটি। আর ফাইনালে বদলি নেমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ঠেকান তিনটি শট। বুধবার মোটামুটি গোটা ম্যাচেই ভালো খেলেছে বাংলাদেশ, অসাধারণ খেলেছেন মেহেদী। সুযোগও এসেছিল পরিষ্কার। কিন্তু খেলোয়াড়রা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারায় পয়েন্টবঞ্চিত থাকে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে নিজেদের মাঠে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে উতরে যায় কাতার। প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতা শেষে ৫৮তম মিনিটে অপ্রত্যাশিত এক গোল খেয়ে মনোবল ভেঙে যায় কিশোরদের। কাতারের স্ট্রাইকার রশিদ আবদুল আজিজের দুর্বল এক শট সামনে থাকা ডিফেন্ডাররা আটকে দেবেন, এমনটা ভেবে মেহেদী আর নিজের জায়গা থেকে নড়েননি। আর ডিফেন্ডাররাও হয়তো মনে করেছিলেন মেহেদী আটকে দেবে শটটা! আর এই ভুল বোঝাবুঝির ফায়দা নেন আবদুল আজিজ। এক গোলে এগিয়ে যায় কাতার। শেষদিকে অতি আক্রমণাত্মক বাংলাদেশকে প্রতি আক্রমণের খেলায় হারিয়ে দিয়ে ৮৯তম মিনিটে কাতারের দ্বিতীয় গোল করেন আল দোসারি।

ম্যাচে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জনি শিকদার, মইনুল ইসলাম, কাজিরুল ইসলামরা। কিন্তু লাভ হয়নি। একের পর এক মিসের খেসারত দেন শেষ পর্যন্ত। এএফসি বাছাইয়ে গ্রুপ ‘এফ’ এর অন্য ম্যাচে জয় পেয়েছে ইয়েমেন। ভুটানকে উড়িয়ে দিয়েছে তারা ১০-১ ব্যবধানে। ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দুরন্ত ফর্মে থাকা ইয়েমেন। গ্রুপের রানার্স আপ হতে পারলেও ২০২০ সালে বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসির বয়সভিত্তিক শীর্ষ পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের।
স্পোর্টস ডেস্ক




ফাইনাল ঘিরে মাহমুদুল্লাহর ভাবনা

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে তাদের চ্যাম্পিয়ন হতে টপকাতে হবে আফগানিস্তানের কঠিন বাধা। সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতলেও আফগানদের বিপক্ষে প্রথম সাক্ষাতে হার দেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তারাও ফাইনাল নিশ্চিত করেছে টাইগারদের আগেই। সিরিজের শেষ ম্যাচে কাল ফের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। আর শিরোপার লড়াইয়ের আগে রশিদ খানের দলের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ফাইনালের মহড়াই বলা যেতে পারে। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও মনে করেন চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন।

শেষ ম্যাচে দলকে জয় এনে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বুধবার তার ৪১ বলে করা ৬২ রানের ইনিংসে ভর করেই জিম্বাবুয়েকে ১৭৫ রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয় টাইগাররা। লড়াকু পুঁজি পেয়ে বোলাররাও প্রতিপক্ষকে দারুণভাবে চেপে ধরে দলের জয় নিশ্চিত করে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই আফগানদের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছেন না মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ভালো করছিলাম না। তাই সবার ভেতরেই ওই স্পৃহা ছিল। সবাই কথা বলেছিল এ নিয়ে। এখন আমাদের লক্ষ্য, আফগানিস্তানের সঙ্গে যেন একই (জিম্বাবুয়ে ম্যাচ) কিংবা আরও ভালো পারফরম্যান্স করে জিততে পারি। এবং ফাইনালের জন্য যেন তৈরি হতে পারি।’

রিয়াদের ব্যাটে রানও দলের জন্য দারুণ স্বস্তির। কারণ দীর্ঘ দিন থেকেই তিনি বাজে সময় কাটাচ্ছিলেন ব্যাট হাতে। ইনজুরির কারণে বলও করতে পারছিলেন না এই অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপে বাজে সময় কাটিয়েছেন। এর পর শ্রীলঙ্কা সফরেও খুব খারাপ ছিল তার পাফরম্যান্স। গুঞ্জন শুরু হয়েছিল দল থেকে তার বাদ পড়ার। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে ২৪ ইনিংস পর ফিফটি হাঁকিয়ে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মূলত এই জয়ে বেড়েছে টাইগারদের আত্মবিশ্বাসও। এই নিয়ে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস তো অবশ্যই থাকবে। ফিল্ডিংয়ে নামার সময় সাকিবের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, সম্ভবত ১০-১৫ রান কম হয়েছে। তারপরও বোলাররা ভালো বোলিং করেছে তাই এ সংগ্রহই বড় মনে হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় পরের ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ওপরে আছে। তারা আছে ৭ নম্বরে আমরা সম্ভবত ১০ নম্বরে। তাই আমাদের অনেক ভালো খেলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা যেন আত্মবিশ্বাসটুকু নিয়ে যেতে পারি ফাইনালে।’

২০০৭-এ দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৭৯ ম্যাচ। ৫ থেকে ৭ নাম্বার পজিশনে দলের ব্যাটিংয়ের আস্থা তিনি। এক কথায় দলের ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব ছিল অনেকটাই তার কাঁধে। কিন্তু ১১ বছরের ক্যারিয়ারে এই ফরম্যাটে নিজেকে সেইভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে এখন পর্যন্ত ফিফটির সংখ্যা মাত্র ৪টি। ২৪.০৫ গড়ে করেছেন ১৩৭১ রান। তবে দলও যে টি-টোয়েন্টি খুব শক্ত অবস্থানে, তাও নয়। ক্রিকেটের এই ছোট সংস্করণে আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানেরও তিন ধাপ পরে সাত নম্বরে। যদিও ব্যাট হাতে দেশের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তারই। তার উপরে দ্বিতীয় স্থানে সাকিব আল হাসান ৭১ ম্যাচে করেছেন ১৪৯৭ রান। আর ৫৯ রান হলে তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন শীর্ষে থাকা তামিম ইকবালকে। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮০টি ম্যাচ খেলা মুশফিকুর রহীমের অবস্থান ১১৭৫ রান করে চতুর্থ স্থানে। শুধু তাই নয় দেশের হয়ে এই চারজনই কেবল ছুঁতে পেরেছেন হাজার রানের ল্যান্ডমার্ক। তাই তাদের ব্যর্থ বললেও ভুল হবে। কারণ তরুণ কেউ তাদের জায়গা নিতে পারেননি এখনো। এখানেই স্পষ্ট টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের দুর্বলতা।

মূলত ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, ওয়ার্নার, আফ্রিদির মত মারকুটে ব্যাটসম্যানই নেই বাংলাদেশে। যারা কিনা একাই ঝড় তুলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। তাই ম্যাচ জয়ের পরও ব্যাটিং নিয়ে আক্ষেপ ঝরে মাহমুদুল্লাহর কণ্ঠে। তবে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পথও বাতলে দিয়েছেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা পাওয়ার হিটিংয়ের চেয়ে স্কিল হিটিংয়ে অনেক বেশি পারদর্শী। যখন আমরা সেট থাকি, তখন আমরা আমাদের পাওয়ারটা কাজে লাগাতে পারি। তবে আমরা ক্রিস গেইল কিংবা আন্দ্রে রাসেল নই। আমাদের স্কিল হিটিংয়ের উপরই বেশি ফোকাস থাকে। আমি কয়েকটা ফুলটস বল মিস করেছি। একটাতে আউট হলাম, আরেকটা মিস করেছি। আরও ২-১ জন এমন মিস করেছে। আমার মনে হয় ফুলটস বল মুশফিকই সবচেয়ে বেশি ভালো খেলে। এই জিনিসগুলো হয়তোবা ওয়ার্কআউট করতে হবে, স্কিল হিটিংয়ের চেয়ে পাওয়ার হিটিং কীভাবে আরও বাড়ানো যায়। ব্যাটিং কোচের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলাটা ভালো।’

স্পোর্টস ডেস্ক