ব্রেকফাস্টে যেগুলো খেলে ডায়েটের প্রয়োজন হয় না

অফিসে চাকরি হোক বা ঘরবাড়ী দেখভালের কাজ, সবগুলো কাজই জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণও। তাই দিনের শুরু থেকেই শরীর ও মন দুই-ই তরতাজা রাখলে তবেই কিন্তু সারা দিনের কাজের শক্তি জুটবে। শরীরচর্চা, ডায়েট মেনে খাওয়াদাওয়া এগুলো নিত্যদিনের অভ্যাসের অংশ করে তুললেও অনেক সময়ই কাজের চাপে রুটিন এলোমেলা হয়ে যায়।

পুষ্টিবিদদরা কিন্তু বলছেন এই এলোমেলো হওয়ার ক্ষতি রুখতে নজর দিতে হবে দিনের প্রথম খাবার তথা ব্রেকফাস্টের দিকে। ভারতের এক পুষ্টিবিদের মতে, ‘শরীরটা গাড়ির মতো। বের হওয়ার সময় তেল ভরে নিলে যেমন সারা রাস্তা নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করা যায়, তেমনই দিনের শুরুর খাওয়াটাই হতে হবে জবরদস্ত ও ভারী। তার পরের সব খাওয়ার পরিমাণই আগেরটার তুলনায় কমবে। দু’-তিন ঘণ্টা অন্তর খাওয়ার চেষ্টা করুন।’ তবে এই সকালে খাওয়ার প্রশ্নেই প্রধান ভুলগুলো করে থাকি আমরা। হয়, সময়ে খাই না নয়তো ভুল খাবার খেয়ে ফেলি। অনেকে আবার ব্রেকফাস্ট খাই-ই না।

এই সব ভুল অভ্যাসই শরীরে ক্ষতি করে, মেদ বাড়ায়। সারা রাত খালি পেটে থাকার পর সকালেও শরীরকে খাবার থেকে বঞ্চিত করলে মেদ বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরচর্চা বাকি সারা দিন ডায়েটেও সেই ক্ষতি ঢাকে না। তাই সকাল ডাইনিং টেবিল সাজানোর আগে জেনে নিন, প্রতি দিনের প্যাকেটজাত খাবার, পাউরুটি, লুচি-পরোটা বা সালামি-সসেজ সিরিয়ালে ভরসা না করে কী কী খাবারে আস্থা রাখাটা জরুরি। পুষ্টিগুণ সঠিক পরিমাণে পেতে যেগুলো খাবার আপনাকে সাহায্য করবে:

লেবু-পানি: চা নয়, দিন শুরু করুন ঈষদুষ্ণ পানিতে লেবু মিশিয়ে সেই জল খেয়ে। গরম পানির সঙ্গে লেবু খেলে অ্যাসিড তো হয়ই না উল্টো শরীরের বাড়তি টক্সিন বার করে শরীরকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। সকালে নানা রকম ওষুধ খাওয়ার কারণে এই জল খেতে না পারলে দিনের যে কোনও সময় খালি পেটে খেতেই পারেন। তিন-চার বার পর্যন্ত খাওয়া যায় এই জল।

গ্রিন টি: মেটাবলিজম বাড়িয়ে নিন সকালের দিকেই। কফি নয়, আস্থা রাখতে শুরু করুন গ্রিন টি-তে। সঙ্গে বিস্কুট বাদ দিন। দু’-এক মুঠো মুড়িও চলতে পারে। তবে বিস্কুটে ময়দা ও অ্যারারুট থাকে। তাই চায়ের সঙ্গে নিয়ম করে বিস্কুট খাওয়া বাদ দিন।

ভেজ বা চিকেন সালাড: দিন শুরু করুন শাক-সবজি ও প্রোটিন দিয়ে। চিকেন কিমা সেদ্ধ করে শশা-টমাটো-গাজর-লেটুস-কাজুবাদাম, পিঁয়াজের সঙ্গে দিন। অল্প বিটনুন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন উপর থেকে। ভাল হয় দই মাখিয়ে খেলেও। তবে চিজ, মেয়োনিজ একেবারেই নয়। অনেকে এমন সালাডে সেদ্ধ ডিমও কুচিয়ে দেন। সেটিও পেট ভরা ও পুষ্টি দুইয়ের জন্যই ভাল।

ডিম সেদ্ধ: পোচ, অমলেট নয়, তেল এড়াতে সকালের খাবারে রাখুন সেদ্ধ ডিম। কুসুম-সহ খেলেও কোনও ক্ষতি নেই। আধুনিক গবেষণা কোলেস্টেরলের সঙ্গে ডিমের কুসুমের শত্রুতা শিকার করে না।

রুটি: খুব আধুনিক খাবার পছন্দ না হলে আস্থা রাখতেই পারেন বাঙালি খাবার রুটিতে। রুটি-সবজি যেমন উপকারী, তেমনি রুটির মধ্যে ছানা মাখিয়ে খেতে পারেন, চলতে পারে রুটি, ডালও।

ওটস: দই বা দুধের সঙ্গে ওটস খেতে পারেন সকালের খাবারে। পেট যেমন ভরা থাকবে, তেমনই শরীর পাবে তার প্রয়োজনীয় ফাইবার।

ফল: খাবারে এগুলোরই সঙ্গে রাখুন একটা বা দুটো ফল। প্যাকেটবন্দি ফলের রস নয় বরং ফলের রস খেতে ইচ্ছে করলে বাড়িতেই রস করে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিন। তবে ফল চিবিয়ে খাওয়াতেই উপকার বেশি।

প্রতিদিন ডেস্ক




ভালো সাংবাদিকের বন্ধু থাকে না : গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, শেখ হাসিনার যুগে সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। সাংবাদিকরা এ সময়েই ভালো আছেন। তবে ভালো সাংবাদিকের বন্ধু থাকে না।

বৃহস্পতিবারর বেলা ১১টায় পিরোজপুরের নাজিরপুরে সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, একটি মিথ্যা সংবাদ একজন মানুষের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই একটি সংবাদ পরিবেশনের আগে এর সঙ্গে জড়িতকে ভালো করে যাচাই-বাছাই করে নেয়া উচিত। স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মফস্বলের সাংবাদিকতা অনেক কঠিন। আপনারা এ কঠিন কাজে জড়িত। সাংবাদিকতা মানুষের ভুলকে শুধরে আলোর পথ দেখায়। আমি স্থানীয় (পিরোজপুর-১) এমপি হিসাবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, আমার চলার পথে কোনো ভুল বা দুর্নীতি থাকলে তাও প্রকাশ করবেন। আর তা করলে আমি ওই সাংবাদিককে অভিনন্দিত করব।

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্মেলন কক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মো. আজাদ, পিআইবি পরিচালনা বোর্ড ও যুগান্তরের বিশেষ সংবাদদাতা শেখ মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

ওই প্রশিক্ষণে জেলার নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠী উপজেলার ৩৬ জন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
পরে মন্ত্রী পিরোজপুরে সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আরও একটি প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ওই প্রশিক্ষণে জেলার ৪০ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক




যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেয়ায় জাতিসংঘে যেতে পারছেন না রুহানি!

আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকতে পারেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তার প্রতিনিধি দল। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসা ইস্যু করেনি বলে এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা ছিল রুহানি ও তার প্রতিনিধিদের। কিন্তু তা আর হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি ভিসা ইস্যু না করা হয়, তবে এ সফর সম্ভবত বাতিল করা হবে। প্রতিনিধি দলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মোহাম্মদ জাভেদ জারিফও রয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে গত ৩১ জুলাই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। শু

ক্রবার সকালেই নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা ছিল ইরানি এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। ভিসা ইস্যু না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। কিন্তু ইরানিদের ভিসা অস্বীকার করা উচিত বলে তিনি আভাস দিয়েছেন। সৌদি সফরে থাকা মাইক পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিসা গ্রহণ কিংবা বাতিলের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করবো না। যদি আপনি একটি বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তাহলে এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

পম্পেওর এই মন্তব্য সত্ত্বেও জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিশ্বসংস্থাটির হস্তক্ষেপে ইরানি প্রতিনিধি দলকে ভিসা দেয়া হবে। দুই চিরশত্রুর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইউরেপীয় চেষ্টার অংশ হিসেবে রুহানির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের যে আয়োজন ফ্রান্স করবে বলে শোনা যাচ্ছে, ইরানি প্রতিনিধি দলকে ভিসা না দিলে তা ভেস্তে যাবে।

প্রতিদিন মনিটর




আফগানিস্তানে ভুল হামলায় প্রাণ গেল ৩০ কৃষকের

আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর ভুল হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ৩০ জন কৃষকের। মার্কিন নিরাপত্তাবাহিনীর সহায়তায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে ভুল টার্গেটে একটি কৃষি খামারে আঘাত হানে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী।

এতে ৩০ কৃষক নিহত ও আরো ৪০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া জাবুল প্রদেশে জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানের পৃথক একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় আরো ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে একদিনে দেশটিতে পৃথক দুই হামলায় প্রাণ গেল ৫০ জনের।

দেশটির সরকারি তিন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নানগারহার প্রদেশের খোগিয়ানি চেলার ওয়াজির ট্যাঙ্গির একটি কৃষি খামার ভুল টার্গেট হয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) গোপন আস্তানায় হামলা চালাতে গিয়ে ভুলেই কৃষিক্ষেত্রে হামলা হয়। এতে হতাহত হয়েছেন ৭০ জন।

নানগারহার প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সোহরাব কাদেরি বলেন, একটি পাইন বাদাম ক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় ৩০ কৃষকের প্রাণহানি ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করলেও হামলায় হতাহতের তথ্য জানাতে অস্বীকার করেছে।

প্রাদেশিক কর্মকর্তা আয়াতুল্লাহ খোগিয়ানি বলেন, এ ঘটনায় সরকার তদন্ত শুরু করেছে। পাইন বাদাম ক্ষেত্র থেকে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই হামলার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিদিন মনিটর




ওরা তৈরি করলো রোবট ‘মিয়া-১’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর পর এবার কুমিল্লার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রোবট তৈরি করেছে। তারা হচ্ছে কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আশরাফুর রহমান মিনহাজ এবং তৃতীয় বর্ষের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাহমুদা আফরিন। টিম লিডার ছিলেন আশরাফুর রহমান মিনহাজ। তাদের মেন্টর ছিলেন ওই বিভাগের প্রভাষক মাসুম বকাউল। এটি বাংলাদেশের প্রথম ওপেনসোর্স হিউম্যানয়েড রোবট বলে দাবি করেন তারা। রোবটটির নাম দেয়া হয়েছে মিয়া-১।

মিনহাজ ও আফরিনের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে এই নাম দেয়া হয়। মাত্র ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে রোবটটি তৈরি করে করে তারা। রোবটটি তৈরিতে সময় লেগেছে আড়াই মাস। সেটাকে পরিচালনার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করে কমান্ড দিতে হয় না। রোবটটি ব্যবহারকারীর কথা শুনতে পারে এবং প্রতিউত্তর করতে পারে। কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদুয়ার বাজারের ক্যাম্পাসে রোবটটি উন্মুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। সভাপতিত্ব করেন ভিসি ড. তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টর অধিনায়ক কর্নেল সালাউদ্দিন মুরাদ,নারী নেত্রী দিলনাশি মোহসেন ও রোকেয়ো বেগম শেফালী প্রমুখ।

টিম লিডার মিনহাজ বলেন, রোবটের বুকে ৭ ইঞ্চি টাচ্ স্ক্রিন এলসিডি মনিটর রয়েছে, যার মাধ্যমে একজন ইউজার সহজে রোবটটিকে কমান্ড করে তার কাছ থেকে তথ্য জেনে নিতে পারবে। রোবট মিয়া-১ মুখে কথা বলার পাশাপাশি তার এলসিডিতে সংশ্লিষ্ট ছবিও প্রদর্শন করবে। রোবটটির চোখে অত্যাধুনিক ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এটি দেখতে পারবে। এটি টিচিং এবং রিসিপশনের কাজ করতে পারবে। ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মাসুম বকাউলের অনুপ্রেরণায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. তোফায়েল আহমেদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় তারা রোবটটি বানাতে পেরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে বসেই তারা রোবট মিয়া-১ তৈরি করেছে। মিনহাজ আরো বলেন, আমরা রোবট মিয়া-১ কে ওপেন সোর্স করে দিয়েছে। অর্থাৎ রোবটটির প্রোগ্রাম, ডিজাইন, পার্টস লিস্ট ওয়েব সাইটে দেয়া আছে। আমরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে আছি। কারণ সবাই নিজেরর আবিষ্কারকে লুকিয়ে রাখি। কিন্তু আমরা ওপেন করে দিয়েছি।

আমাদের দেখে যেন অন্যরা আরো ভালো কিছু করে। বাংলাদেশকে যেন এগিয়ে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে আমরা আরো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিয়া-২ রোবট তৈরি করবো। মিনহাজ কুমিল্লা নগরীর শাকতলার হেফজুর রহমানের ছেলে। তিনি এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করেছেন কুমিল্লা শিক্ষবোর্ড মডেল কলেজ থেকে। ছোট থেকেই তিনি প্রযুক্তি বিষয়ক কাজ করছেন। তার ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে রোবটের বিভিন্ন কার্যক্রম। রোবট নিয়ে তিনি আরো ভালো কিছু করতে চান। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন,শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে কুমিল্লাকে পথিকৃত বলা হয়। কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিতে ভূমিকা রেখে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নেবে বলে আমার বিশ্বাস। উল্লেখ্য-এর আগে চলতি বছর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যলয়ের তিন শিক্ষার্থী ৩৭হাজার টাকায় একটি রোবট তৈরি করেছিলো।
প্রতিদিন ডেস্ক




৯ দিন পার হলেও অধরা হত্যাকারীরা

মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর শোলমারী বিলে পাহারা দেওয়ার সময় রোকন বিশ্বাস (৩৮) ও হাসান বিশ্বাস (৪২) নামের দুই চাচাত ভাইকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

তবে পুলিশ কয়েকটি বিষয়কে মূল কারণ হিসেবে নিয়ে তদন্তে নেমেছে। পুলিশের দাবি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের ক্লু বের হবে এবং আসামিদের আটক করা সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোকন ও হাসানের এক আত্মিয় মেহেরপুর প্রতিদিনকে জানান, রোকন ও হাসানের কোন শত্রু গ্রামে নেই। তবে রোকন প্রভাবশালী ঘরের ছেলে। এলাকার যে কোন বিষয়ে সে সবার আগে সমাধান করার চেষ্টা করতো। এছাড়া অনুরাগ আদর্শ ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বিরোধও রোকনের জন্য কাল হতে পারে তিনি ধারণা করছেন। এ বিষয়ে পুলিশ ঠিকমত তদন্ত করলে আসলে রহস্য বের হয়ে আসবে। তবে হত্যাকান্ডের আট দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি আটক হয়নি এটাই কষ্টের।

এদিকে জোড়া খুনের ঘটনায় কোন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মেহেরপুর সদর থানার এসআই আহসান হাবিব জানান, বেশ কয়েকটি সূত্র ধরে তদন্তের কাজ চলছে। রোকন এবং হাসান দুজনই দির্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছেন যে বিলে সেই বিল লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ থাকতে পারে, এলাকায় অনুরাগ আদর্শ ক্লাব নামের একটি সংগঠনের সাথে বিরোধের কথাও শোনা যাচ্ছে এছাড়া রাজনৈতিক দ্বন্দও হত্যাকান্ডের কারণ হতে পারে।

তিনি আরো জানান, এমনকি নারী সংক্রান্ত কোন ঘটনার জেরেও এ হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সবগুলো বিষয়কেই সামনে নিয়ে আমরা তদন্তের কাজ করছি। আশা করছি খুব দ্রুত এ হত্যাকান্ডের আসল তথ্য বের হয়ে আসবে।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান মেহেরপুর প্রতিদিনকে জানান, নৃশংস এ হত্যাকান্ডের তথ্য বের করতে পুলিশ কাজ করছে। শত্রুতার চরম পর্যায়ে পৌছালেই কেবল এ ধরণের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে বিভিন্ন ভাবে এ হত্যাকান্ডের তদন্ত চালানো হচ্ছে। মাছের বিল, ক্লাবের বিরোধ, আত্মিয়দের সাথে বিরোধ ইত্যাদি বিষয়গুলো সামনে আসছে। তবে হত্যাকান্ডের সাথে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার কিছু লোকজনও জড়িত আছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, ইতিমধ্যে সন্দেহভাহ তিনজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কিছু পাওয়া না যাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের তথ্য বের হবে।

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত ১১ টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় রোকন ও হাসান তাদের ইজারা নেওয়া শোলমারী বিলে পাহারাদারদের খোঁজ খবর নিতে যায়। এসময় তারা বিলের অস্থায়ী পাহারা ঘরে বসে ছিলো। তখন ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের দুজনের উপর হামলা করে। এসময় তাদের হাত পা বেধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার পিছন দিকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন সংগ্রহ করে লাশ মযনাতদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠায়। ১৩ সেপ্টেম্বর রোকনের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদি হয়ে অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মেপ্র/ নিজস্ব প্রতিবেদক




মেহেরপুরে স্বামী ও ছেলের সন্ধানের দাবিতে এক গৃহবধুর সংবাদ সম্মেলন

মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়া থেকে সাদা পোশাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাকিম হোসেন ও আব্দুস সালাম নামের দুই পিতা পুত্রকে বাড়ি থেকে গভির রাতে তুলে নিয়েছে কে বা কারা।

তাদের সন্ধানের দাবিতে হাকিম হোসেনের স্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মেহেরপুর জেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা খাতুন লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৪ সেপ্টম্বর শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাদা পোশাক ধারী ১০/১৫ জন ব্যক্তি আমার স্বামী হাকিম হোসেন (৫০) ও একমাত্র ছেলে আব্দুস সালামকে অস্ত্রের মুখে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে আটক করে নিয়ে আসে। আমি এসময় তাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বলে, বলেন প্রয়োজন শেষে রেখে যাব, চিন্তার কোন কারণ নেই।

পরে নিল রঙের একটি গাড়িতে করে মেহেরপুরের দিকে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে নিয়ে আসার ৬দিন পার হলেও তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা।

এ ঘটনার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর সদর থানায় জিডি করতে গেলে ডিউটি অফিসার জিডি গ্রহণ না করে ওসি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে আজ ১৯ সেপ্টেম্বর পুনরায় জিডি করতে গেলে ডিউটি অফিসার একই কথা বলেন। পরে ওসি সাহেবের সাথে জিডির বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, আপনার জিডি আমাদের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব না, পারলে অন্য জায়গায় খোঁজ করেন। এর মধ্যে আমি ডিবি অফিস, র‌্যাব অফিস ও যৌথবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করলেও তারাও কোন সন্ধান দিতে পারেননি।

তিনি অসহায় কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী ও ছেলে যদি অপরাধি হয়। তাহলে তাদের শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেউ আটক করে বলুক। অন্তত জানতে পারবো তারা বেঁচে আছে। কিন্তু এভাবে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে কেন। কার কাছে আমার স্বামী ও ছেলের সন্ধান পাব। আমার পরিবারে তারা দুজন ছাড়া আর কোন পুরুষ সদস্য নাই। এক বছরের নাতি ছেলে সারাদিন আব্বু বলে কাদছে, আমি কোন জবাব দিতে পারছি না।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ওই গ্রামে রোকন ও হাসান নামের দুই চাচাত ভাইকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকার কয়েক জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পরে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

মেপ্র/ নিজস্ব প্রতিবেদক




শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেফতারের দাবীতে চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেফতারের দাবী তুলে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। মিছিল শেষে চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বরে দুদুর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে মিছিল চলাকালে শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এলাকায় দুদুর পৈত্রিক বাড়িতে হামলা চালায় একদল যুবক। ভাঙচুর করা হয় বাড়ির বেশ কিছু আসবাবপত্র। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রলীগের একটি অংশ শহরের কবরী রোডের আওয়ামীলীগ কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাইমেন হাসানা জোয়ার্দ্দার অনিক। মিছিটি শহরের শহীদ হাসান চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। মিছিলকারীরা সেখানে দুদুর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। একই সাথে দুদুকে চুয়াডাঙ্গায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এসময় বক্তারা বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

একই দাবীতে রাত ৯টার দিকে অপর একটি মিছিল শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ। দুটি মিছিল থেকেই শামসুজ্জামান দুদুর গ্রেফতার দাবী করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদুর ছোট ভাই জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা জানান, হামলার সময় বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে বেসরকারী টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের রাজকাহন টকশোতে অংশগ্রহণ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বঙ্গবন্ধুর মত পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেপ্র/ চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি




তালাক কী কেন ও কিভাবে – – -মুফতি মাহমুদ হাসান

শরিয়তের নির্দেশনা অমান্য করার কুফল:
এভাবেই ইসলামী শরিয়ত বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট রাখার অবকাশ দিয়েছে। কিন্তু মানুষ শরিয়তের এই সুন্দর পদ্ধতি উপেক্ষা করে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব শ্রেণির লোকদের মধ্যেই এ প্রবণতা দেখা যায় যে, তারা যখন রাগে ক্ষোভে লিখিত বা মৌখিকভাবে তালাক দেয় তখন একসঙ্গে তিন তালাকই দিয়ে থাকে। তিন তালাক দিলে ইদ্দত চলাকালেও স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না এবং ইদ্দতের পরেও নতুনভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকে না। একে অপরের জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যায়। এমতাবস্থায় অনুতপ্ত হওয়া এবং আপসের জন্য আগ্রহী হওয়া কোনো কাজে আসে না।

যারা তিন তালাক দেওয়ার পর শরিয়তের বিধান জানতে মুফতি সাহেবদের কাছে আসে, তাদের অনেককেই দেখা যায় অত্যন্ত অসহায়ত্বের সঙ্গে নিজের দুঃখের কথা বলে মুফতি সাহেবের মন গলাতে চেষ্টা করে। নিষ্পাপ সন্তানদের কথা বলে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে থাকেÍযেভাবেই হোক কোনো হিল্লা-বাহানা বের করে তার পরিবারটিকে যেন ধ্বংস থেকে বাঁচানো হয়। কিন্তু এসব আবদার-অনুরোধ বিফল। তার নিজ হাতেই সব সুযোগ বিনষ্ট হয়েছে। তালাক দেওয়ার শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ না করার কারণে স্ত্রী তার জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে গেছে। উপরন্তু শরিয়তের নিয়ম অমান্য করে মারাত্মক গুনাহ করা হয়েছে। আর অন্যায়ভাবে তালাক দেওয়ায় স্ত্রীর ওপর চরম জুলুমও করা হয়েছে, যা আরেকটি কবিরা গুনাহ। এখন আবার তাকে স্ত্রীরূপে ফিরে পাওয়ার যে সম্ভাবনাটি রয়েছে তা অত্যন্ত দূরবর্তী সম্ভাবনা।

প্রচলিত হিল্লা বিয়ে ইসলামে নিষিদ্ধ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তিন তালাকের পরই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নানা রকম হিল্লা-বাহানার আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। এটা যেমন অশালীন, তেমনি শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ ও লানতযোগ্য কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘(হিল্লা-বাহানার মাধ্যমে) অন্যজনের জন্য স্ত্রী হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয়েছে। উভয়ের ওপরই আল্লাহর লানত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২০৭৬)। যদিও এমতাবস্থায় ওই নারী অন্যত্র বিবাহ করে সেই স্বামীর সঙ্গে সহবাসের পর স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হলে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে। তবে এ পদ্ধতি গ্রহণ করা অত্যন্ত ঘৃণিত। উপরন্তু হিল্লা-বাহানা গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের দুশমনদের ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তারা হিল্লা বিয়ে নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকে। অথচ ইসলাম এ ধরনের হিল্লা বিয়ের অনুমতিই দেয় না।

ইসলামে নিষিদ্ধ একটি হীন কাজের দায় ইসলামের ওপর চাপিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে। আর এটি হয়েছে শুধু এসব নাদান মুসলমানের কারণে। ইসলামের বিধান হলোÍতিন তালাকের পর উভয়ে উভয়ের রাস্তা ধরবে। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে নেবে। তদ্রূপ স্ত্রীও ইদ্দত শেষে অন্যত্র বিয়ে করে তার সঙ্গেই ঘর-সংসার করবে। স্ত্রী প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার বা স্বামী তাকে ফিরিয়ে নিতে কোনো হিল্লা-বাহানা করা অবৈধ। হ্যাঁ, কোনো কারণে যদি দ্বিতীয় স্বামী কখনো তালাক দিয়ে দেয় বা মারা যায়, তখন ইদ্দত শেষে চাইলে সে আবার প্রথম স্বামীর কাছে যেতে পারবে। ইসলামের এই স্বচ্ছ বিধানের সঙ্গে প্রচলিত হিল্লা বিয়ের কী সম্পর্ক?

মেপ্র/ ধর্মকথা




পুলিশের তৎপরতায় পরিবারে ফিরলো সাইফুল

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের রনজিৎ আলী শেখ এর ছেলে সাইফুল ইসলাম(৩৩)। মুজিবনগর থানা পুলিশের তৎপরতায় সাইফুল ইসলামকে ফিরে পেল তার পরিবার।

গরীব পরিবােেরর কষ্ট ঘুচানোর জন্যে ২০১৭ সালে ঢাকার ইউনিক কোম্পানির মাধ্যেমে চুক্তি ভিত্তিক ২ বছরের ভিসা নিয়ে চাকরির জন্য ইরাকে যায় সাইফুল। সেখানে হানুয়া নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করে। যা বেতন পেত তাই দিয়ে বেশ চলতো তাদের। ভেবেছিলো তাদের দুঃখটা হয়তো বা এ বার মোচন করতে পারবে সাইফুল। কিন্তু এ আশা তার আর পূরন হলো না। কষ্ট কষ্টই থেকে গেলো। ২০১৯ সালের দিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হবার পর শুর হলো জিবন মরনের প্রশ্ন।

সাইফুল আরেকটি চাকরির জন্যে পরে গেলো ইরাকের কিছু অসাধু দালালের চক্ররে। উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হানুয়া কোম্পানি থেকে চলে আসতে বলে সাইফুলকে। দালাদের কথায় উন্নত চাকরির আশায় অবুঝের মত হানুয়া কোম্পানি থেকে চলে আসে সাইফুল। পরে সাইফুল দালালদের কাছে আসলে তারা সাইফুলকে ইরাকে তাদের গোপন স্থানে আটকে রাখে। শুরু হয় তার প্রতি চরম নির্যাতন। সাইফুলের মুক্তিপনের জন্যে তার বাবা মার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা পাঠানোর জন্য ফরিদপুর জেলার, নগরগান্দা উপজেলার চুকাইল গ্রামের আব্দুল্লা ব্যাপারি নামের এক বিকাশ এজেন্ট মালিকের কাছ থেকে ৫ টি বিকাশ নাম্বার সাইফুলের পরিবারের কাছে দিয়ে বিভিন্ন ধাপে টাকা পাঠাতে বলে। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তাদের কথা মত ৬৫ হাজার টাকা বিকাশ করে সাইফুলের পরিবার। কিন্তু এতেও তাদের দাবি পূরণ হয়নি। তাদের কাছে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে দালাল চক্রের সদস্যরা। পুরো টাকা না দিলে সাইফুলকে খুন করে ফেলবে।  পরে সাইফুলের পরিবার আর কোন পথ খুজে না পেয়ে চলে আসে মুজিবনগর থানায়।

মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাশেমের কাছে বিষয়টা খুলে বলেন। সাইফুলের পরিবারের এমন করুন কাহিনি শোনার পর মুজিবনগর থানায় একটি মামলা নিয়ে নেন। মামলা পর শুরু করে পুলিশের তৎপরতা।

দীর্ঘদিন ধরে তাদের অভিযান চালানোর পর বাহির করেন ৫টি বিকাশ মোবাইল নাম্বারের এজেন্ট মালিককে। জানতে পারেন এজেন্ট মালিক আসামির বাসা ফরিদপুর জেলায়। পরে পুলিশ চলে যায় সেখানে। জানতে পারেন আসল কাহিনি। খোজ চালানো শুরু করেন ইরাকে। দালাল চক্রের সদস্যেরা সকল ঘটনা জানতে পেরে তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যে সাইফুলকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে এ দিকে পুলিশ আসামি ফরিদপুর জেলার, নগরকান্দা উপজেলার চুকাইল গ্রামের আব্দুল ব্যাপারিকে গ্রেপ্তার করেন। এ দিকে সাইফুলকে উদ্ধার করে পুলিশী হেফাজতে নেয় ইরাকি পুলিশ। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ দিকে সাইফুল বাংলাদেশে পৌছালে গতকাল বুধবার সকালে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে মুজিবনগর থানা পুলিশ।

মুজিবনগর থানার ওসি আব্দুল হাশেম জানান, সাইফুলের বাবা-মায়ের কাছে থেকে ঘটনা জানার পর থেকে তৎপরতা চালিয়ে সাইফুল কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

মেপ্র/ মুজিবনগর প্রতিনিধি